Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট : চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট : চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

satkania

নিউজ ডেক্স : সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ সয্যা থেকে ৫০ সয্যায় উর্ত্তণী করা হলেও বাড়েনি লোকবল। সেই ৩১ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল দিয়েই চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। এর মধ্যে আবার ডাক্তারসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ দীর্ঘ দিন থেকে শুন্য অবস্থায় রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। নষ্ট পড়ে আছে এক্স-রে মেশিন, ই.সি.জি ও জেনারেটর। এ নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা দেখা দিয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যলয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন পর আজ ২৩ আগষ্ট বুধবার বসছে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা। এতে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ দিন ৩১ সয্যা বিশিষ্ট থাকলেও ২০০৬ সালের শেষ সময়ে এটিকে ৫০ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উত্তীর্ণ করার ঘোষনা দেওয়া হয়। শুরু হয় ভবন নির্মানের কাজও। পরবর্তিতে ভবনের কাজ শেষ হওয়া সাপেক্ষ ৫০ বেড়ে উর্ত্তীণ হয় সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাবাসীর চিকিৎসালয়টি। ভবন নির্মান সাপেক্ষ ঘোষনা দিয়ে উক্ত হাসপাতালকে ৫০ বেড়ে উর্ত্তীণ করা হলেও আলাদা ভাবে কোন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে আগের ৩১ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে লোকবল দিয়েই চলছে ৫০ সয্যা বিশিষ্ট হাসপতালের চিকিৎসা সেবা।

জানা যায়, ৩১ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ১জন,জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া)১ জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ১ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ১জন, মেডিকেল অফিসার ২ জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ১ জন মিলিয়ে মোট ৮ জন ডাক্তার থাকার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া),জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ও মেডিকেল অফিসারের ২টি পদ মিলিয়ে ডাক্তারের ৫টি পদ খালি হয়ে আছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) না থাকার কারনে এলাকার গরীব শ্রেনীর মহিলাদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই ভাবে জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী না থাকার কারনে ছোট খাট সার্জারী চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে। এর বাইরে সিনিয়র স্টাফ নার্সের ২৩ টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৬টি। অপরেিদক ৩য় শ্রেনীর কর্মচারীর ৯৯ টি পদের মধ্যে প্রধান সহকারী ১ জন, পরিসংখ্যানবিদ ১জন,চিকিৎসা সহকারী ১ জন,ফার্মাসিষ্ট ২ জন, ল্যাব টেকনেশিয়ান ২ জন,রেডিওগ্রাফার ১ জন, অফিস সহকারী/কম্পিউটার অপারেটর ১ জন, ক্যাশিয়ার ১ জন,সহকারী নার্স ১জন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩ জন, স্বাস্থ্য সহকারী ১৫ জন ও যক্ষা/কুষ্ট নিয়ন্ত্রন সহকারী ১জন মিলিয়ে মোট ৩১ টি পদ শুন্য রয়েছে।

এছাড়াও হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন থাকলেও তা নষ্ট পড়ে আছে প্রায় অর্ধ যুগ ধরে। একই অবস্থা জেনারেটর ও ই.সি.জি মেশিনের। সরকারী এ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় সময় বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও মেরামতের কোন বরাদ্ধ না থাকায় দ্রুত মেরামত করা যায়না। ১টি আল্ট্রা মেশিন থাকলেও নেই কোন সনোলজিষ্ট। আর জ্বালানী বরাদ্ধ না থাকার ফলে জেনারেটরটি শুরু থেকেই পড়ে আছে অচলাবস্থায়। সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটির সভাপতি হচ্ছেন সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। হাসপাতালের বিরাজমান সমস্যা সমূহ নিয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজের সাথে। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালে থাকা একমাত্র মেডিকেল অফিসার কামরুল হোসাইনকে গত সপ্তাহে বান্দরবানের থানছিতে বদলি করাতে এখন সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন মেডিকেল অফিসার রইলনা। এহেন অবস্থায় বিশাল জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সত্যিই দূরহ ব্যাপার। এসব বিষয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্বাধিনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডাক্তার মিনহাজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন,সর্বশেষ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর মাননীয় সংসদ সদস্যসহ আমরা উদ্যেগ নিয়ে বেশ কিছু ডাক্তার সাতকানিয়ায় এনেছিলাম। পরবর্তিতে এসব ডাক্তারগন অন্যত্রে পোষ্টিং নিয়ে চলে যায়। আর বদলী ডাক্তার না আসার আগেই উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা বদলীকৃত ডাক্তারকে রিলিজ দিয়ে দেন ফলে এখন ডাক্তার শুন্যের কোটায়। তিনি জানান এক সময় ১শ/দেড়শ রোগী ভর্তি থাকত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডাক্তার সংকট, ঔষধ সংকট, অব্যবস্থাপনা, নিম্মমানের খাবার পরিবেশন মিলিয়ে এখন রোগীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। মাসে একবার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হওয়ার কথা থাকলেও সেটিই দীর্ঘ দিন হয়নি।

এ অবস্থায় বুধবার আমাদের কমিটির বৈঠক হবে। বৈঠকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব। এ বিষয়ে দৃষ্টি আর্কষন করা হলে সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার কম থাকার কথা আমি শনেছি। সার্বিক বিষয়ে বুধবার মিটিং করব। মিটিং করে বিরাজমান সমস্যা সমূহ সামাধানের কাজ শুরু করব।

-সিটিজিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*