Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাতকানিয়ায় সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞা হত্যার রহস্য উম্মোচন

সাতকানিয়ায় সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞা হত্যার রহস্য উম্মোচন

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : সাতকানিয়ায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞা হত্যার রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ। মূলত বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলার সময় গালি দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির কর্মচারী জমির উদ্দিন তাকে হত্যা করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর নিহতের বাড়ির কর্মচারী ও বাঁশখালী পৌরসভার জলদি খলিশ্বা পাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে জমির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামীর দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি ক্রোবার, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ১টি ছুরি, আসামীর ব্যবহৃত ২টি ও নিহত আবদুল হক মিঞার ১টি মোবাইল ফোন সেট সেচ দিয়ে পুকুরের পানি শুকিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৩ মার্চ) দুপুরে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানিয়েছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু।

এসময় সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন, ওসি (তদন্ত) সুজন কুমার দে, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আহসান হাবীব ও হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ মো. সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত আসামী ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়া চেয়ারম্যান পাড়ার উকিল বাড়ির মৃত এডভোকেট কাছিম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহত আবদুল হক মিঞার বড় ছেলে শিল্পপতি নিজাম উদ্দিন বাদি হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এএসপি জাকারিয়া রহমান জিকু জানান, গত রবিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে পরের দিন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে যেকোনো সময়ে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিন সকালে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত আবদুল হক মিঞার বাড়ির কর্মচারী জমির উদ্দিনকে পুলিশ নজরদারিতে আনে।পরে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ জমির উদ্দিনকে থানায় ডেকে নেয়। এরপর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জমির উদ্দিন নিজেকে বাঁচানোর জন্য একেক সময় একেক রকম তথ্য দেয়।

তার দেয়া তথ্যের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় কর্মচারী জমির উদ্দিন নিজে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞাকে হত্যা করার কথা পুলিশের নিকট স্বীকার করে।

আসামী জমির উদ্দিনের বরাত দিয়ে এএসপি জাকারিয়া রহমান জিকু আরো জানান, ঘটনার দিন রাতে কর্মচারী জমির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞাকে তার বেতন বৃদ্ধি করতে বলে। তখন আবদুল হক মিঞা তাকে গালি দিয়ে কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মচারী জমির তার কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে ভোর রাতে জমির উদ্দিনের ঘুম ভাঙলে আবদুল হক মিঞার দেয়া গালির কথা মনে পড়ে।

এরপর জমির চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞার শয়ন কক্ষে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় কোরাবারি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে আবদুল হকের ঘুম ভেঙে যায় এবং আঘাতের যন্ত্রণায় কাতরানোর আওয়াজ হয়। এসময় কাতরানোর আওয়াজ বাইরে না যাওয়ার জন্য মুখে বালিশ চাপা দেয় জমির। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্রোবার দিয়ে আঘাত করে। এতেই আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হকের মৃত্যু হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য জমির ছুরি দিয়ে নিজের পায়ে সামান্য করে কেটে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া রহমান আরো জানান, আবদুল হক মিঞার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘাতক জমির হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্রোবারটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেয় এবং তার ব্যবহৃত ২টি ও নিহত আবদুল হক মিঞার ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন সেট চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে থাকা পুকুরের পানিতে ছুঁড়ে মারে। জমিরের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়ার পর সেচ পাম্প দিয়ে বাড়ির পেছনে থাকা পুকুরের পানি শুকিয়ে ফেলা হয়।

পরে পুলিশ জমিরকে সাথে নিয়ে আবদুল হক মিঞার বাড়িতে গেলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম চৌধুরী, সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল বশিরুল ইসলাম ও এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্রোবারটি, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ১টি ছুরি, পুকুর থেকে আসামীর ব্যবহৃত ২টি ও নিহতের ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত জমির উদ্দিনসহ মোট ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জমির উদ্দিন ছাড়া অন্যান্যদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদেরকে আপাতত বাদির জিম্মায় দেয়ায় হয়েছে।

এদিকে, সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামী জমির উদ্দিনকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। এসময় জমির উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আজাদী অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!