ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সন্দ্বীপ থানায় যোগ দিয়েই বেপরোয়া ওসি শাহজাহান : ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা

সন্দ্বীপ থানায় যোগ দিয়েই বেপরোয়া ওসি শাহজাহান : ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা

155346oc_sahjahan

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খসরুর বাড়িতে তল্লাশির নামে হয়রানি এবং বাড়িঘর তছনছ করেছে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকালে থানার এসআই রুহুল আমিন, এসআই আকবর হোসেন, এসআই শাহাদাত হোসেন ও এসআই মুসলিম মিয়ার নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জনের বিশাল একটি পুলিশের দল নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়। আওয়ামীলীগ নেতা খসরুর বাড়িতে সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র আছে এমন অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আওয়ামী লীগের নেতার বাড়ির আলমারি খুলে তছনছ করেন এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে। ওই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী খসরু বাসায় উপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কোনো কিছু না পেয়েই চলে যান পুলিশের ওই দলটি। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানা থেকে বদলি হয়ে আসা সন্দ্বীপের নতুন অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান মিয়া থানায় যোগ দেয়ার এক দিন পরেই উপজেলার প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

জানা গেছে, ১৯৬৮ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে মোহাম্মদ আলী খসরুর রাজনীতি শুরু সেই। উপজেলায় ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। সেই তিনি সম্প্রতি বাইপাস সার্জারি করায় এখন অনেকটা অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এমন নেতার বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির নামে হয়রানির ঘটনায় ক্ষোভে ফুসে উঠছে সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষ। আজ সোমবার শুক্রবার সকাল থেকে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানান এবং উপজেলার হারানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। প্রতিবাদ সভায় সদ্য যোগদানকারী ওসি শাহজাহানসহ অভিযানে যাওয়ার পুলিশ সদস্যদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খসরু কালের কণ্ঠকে বলেন, ৫০ বছরের বেশি সময় নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। বিএনপি- জাতীয় পাটি অনেক সরকারই গেলো কোন সরকারের সময়ই পুলিশ সাহস পায়নি আমার বাড়িতে এভাবে অভিযান চালাতে কিংবা তল্লাশি চালাতে। কিন্তু আজ আমার দল ক্ষমতায়, যে বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ স্বাধীনের জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। সেই নেতার দল ক্ষমতায় আর আমার বাড়িতে অন্যায়ভাবে পুলিশ তল্লাশি চালায় বাসা তছনছ করে।

তিনি ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, আমাকে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। এলাকায় বিগত দিনে কোন ধরনের সন্ত্রাসী লালন পালন কিংবা অন্যায়ের রেকর্ড নেই। কিন্তু সেদিন পুলিশের অভিযান দেখে মনে হয়েছে আমি একজন ডাকাত কিংবা বড় ধরনের সন্ত্রাসী জঙ্গি নেতা। ৪ জন এসআইসহ ১৮ থেকে ২০ জনের দল নিয়ে পুলিশ অভিযানে আসে। কিন্তু ওসি শাহজাহান কার নির্দেশে আমার বাড়িতে এভাবে তল্লাশি চালিয়েছে সেটা জানা দরকার। নিশ্চয়ই উপরের কারো হাত না থাকলে পুলিশ এভাবে সাহস পায় না। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কারা ফায়দা লুটতে চায় সেটা জানা দরকার। আমি বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের জানিয়েছি, এলাকার মানুষ বিক্ষোভ করছে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

থানার ওসি শাহজাহান বলেন, একজন আওয়ামী লীগের নেতার বাড়িতে কি পুলিশ যেতে পারে না। পুলিশ এমনই তার বাড়িতে যায়, তাকে দেখতে যায়। কিন্তু চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৮ থেকে ২০ জনের টিম নিয়ে দেখতে গিয়ে কি বাড়ি তল্লাশি করে, ঘর তছনছ করে? জবাবে ওসি শাহজাহান বলেন, না মানে একজন আসামি আছে শুনেই পুলিশ গিয়েছিল, না পেয়ে চলে আসে। -কালের কণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*