
এলনিউজ২৪ডটকম : লোহাগাড়া উপজেলার সুখছড়ি কালি মন্দির প্রাঙ্গনে হিন্দুর বেশভূষা ও অলংকার পড়ে প্রতারণা করার অভিযোগে গত ৪ নভেম্বর ৯ মহিলাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। আটককৃতদের আজ ৫ নভেম্বর দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব আলমের নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমান হাজির করা হয়। অভিযুক্তরা ভ্রাম্যমান আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কয়েকজনকে ৩ মাস ও অন্যদেরকে ৪ মাস কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন ব্রাহ্মবাড়িয়া জেলার নাছিমনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের কালা মিয়ার স্ত্রী তানিয়া (২৫), মৃত আলী আহমদের স্ত্রী ললিতা (৪৫), মাজুন খানের কন্যা তাহমিনা (১৮), ফজলু মিয়ার স্ত্রী নূর নাহার (৪০), ছবুর মিয়ার কন্যা রুজিনা (১৮), সুবরাত মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (২৫), মইদুলের কন্যা রুনা (১৬), আবদুল হাইয়ের স্ত্রী জুলেখা (২৬) ও মৃত নুরুল ইসলামের কন্যা মর্জিনা (১৮) প্রমুখ। তাদের সাথে একটি শিশুও রয়েছে।

লোহাগাড়া থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর থেকে এ মন্দিরে ৪ দিন ব্যাপী রাস উৎসব চলছিল। সেখানে দেখের বিভিন্ন স্থান থেকে নামকীর্তন, সুধা, চিঞ্জনকারী সম্প্রদায় কীর্তন করে আসছিল। এ উপলক্ষে প্রচুর ভক্তানুরাগীর সমাগম হয়। আটককৃতরা এ সুযোগে কপালে সিধুর লাগিয়ে, হাতে সাখা পড়ে পুন্যার্থীদের মাঝে বসে যায়। সুযোগ বুঝে পুণ্যার্থীদের অলংকার ছিনতাই প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের তা নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি স্বীকার করেন।
খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানার এসআই প্রভাত কর্মকার একদল ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান। তিনি জানান, আটককৃতরা তার কাছে হিন্দুদের বিভিন্ন নামে পরিচয় দেয়। প্রভাত কর্মকার কৌশলে তাদের কাছ থেকে গীতার শ্লোক জানতে চান এবং নিশ্চিত হন তারা সনতান ধর্মাবলম্বী নন। মুসলিম। আটককৃতরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা লোহাগাড়া থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। জেলে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner