Home | শিক্ষাঙ্গন | লোহাগাড়ার ওয়াসিফা বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম

লোহাগাড়ার ওয়াসিফা বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম

239

নিউজ ডেক্স : একটি পুরোনো মোটরসাইকেল। সেটে নিয়ে ছুটতেন মোহাম্মদ হোসাইন। পেছনের আসনে বসা মেয়ে ওয়াসিফা মাশিয়াত। কখনো কলেজের, কখনো স্যারের বাসায় কিংবা বন্ধুর বাসা থেকে নোট আনতে এর ফাঁকে সামলেছেন নিজের ব্যবসা। ঝক্কি কম ছিল না, মেয়ের জন্য কষ্ট করেছেন।

লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ রাজঘাটা এলাকার মোহাম্মদ হোসাইনের সেই কষ্ট বৃথা যায়নি। তাঁর বড় মেয়ে ওয়াসিফা মাশিয়াত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় সম্মিলিতভাবে ১৩তম হয়েছেন আর মেয়েদের মধ্যে প্রথম।

জানা যায়, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ওয়াসিফা। এসএসসিতে আবার চট্টগ্রাম বোর্ডের মধ্যে সেরা পাঁচজনের একজন ছিলেন তিনি। যার কল্যাণে ওই বছরের ১৪ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট সামার ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

১৮ অক্টোবর রাত ১০টায় বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এক বন্ধুর ফোন থেকেই প্রথমে এল সুখবরটা। ওয়াসিফা বলেন, ফলের খবর শুনেই খুশিতে কেঁদে ফেলি। কারণ, ভালো করব আশা ছিল, কিন্তু এতটা ভালো হবে ভাবিনি। এখন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হতে চাই।

মোহাম্মদ হোসাইনের আন্দরকিল্লায় ছাপাখানার ব্যবসা। তিনি বলেন, সব কষ্ট এখন চাপা পড়ে গেছে মেয়ের সাফল্যে।

অন্যদিকে মা নুসরাত জাহান জানান, মেয়েকে কখনো পড়তে বসতে বলতে হয়নি। সেই ছোটকাল থেকেই সে বইপোকা।

সফলতার কথা বলতে গিয়ে ওয়াসিফা বলেন, যখন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হই তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল বুয়েটে পড়ার। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠ্যবইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। মূলত এইচএসসি পরীক্ষার পরেই শুরু হয় মূল প্রস্তুতি।

গণিত মানেই অনেকের কাছে ভয় জাগানিয়া বিষয়। কিন্তু সেই গণিতই ওয়াসিফার প্রথম পছন্দ। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি আর বিশিষ্টজনের জীবনী তাঁর অবসনের সঙ্গী। তবে মাঝেমধ্যে উপন্যাসেরও ডুবে থাকেন।

বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করায় তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য । এরপর অবশ্যই দেশে ফিরব।

সূত্র : দৈনিক প্রথমআলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*