ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়ায় দিন-দুপুরে জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ

লোহাগাড়ায় দিন-দুপুরে জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ

এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের জায়গা জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বটতলী মোটর স্টেশনে লোহাগাড়া মেটারনিটি হাসপাতালের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

লোহাগাড়া বটতলী শহর উন্নয়ন কমিটির সদস্য সচিব বিএনপি নেতা ছরওয়ার আকতার ও শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫০ বছরের দখলীয় জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেয় বলে এক প্রেসবিফ্রিং এই অভিযোগ করেছেন প্রয়াত চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যরা।

জানা যায়, দেশীয় অস্ত্রধারী ৫০-৬০ জনের একটি দল ৫০ বছরের দখলীয় জমির দোকানগৃহ ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। জোর করে জায়গায় টিনের ঘেরাও দেয়। খবর পেয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের স্ত্রী নূর আয়েশা চৌধুরী ও তার বড় ভাই প্রয়াত হাজী শামসুল হক চৌধুরীর স্ত্রী নিলুফা ইয়াছমিন ঘটনাস্থলে গেলে তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

প্রয়াত চেয়ারম্যানের স্ত্রী নূর আয়েশা চৌধুরী বলেন, বটতলী স্টেশনে আমার স্বামী মরহুম জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল ও বড় ভাই মরহুম শামসুল হকের নামীয় খতিয়ানভূক্ত জায়গা দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। উক্ত জায়গায় একটি ফুলের দোকান ও একটি কলার আড়ৎ ছিল। ২০০০ সাল থেকে তাদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছি। তখন থেকে কেউ কখনো কোন অভিযোগ কিংবা দাবী করেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে শামসুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ভাড়াটিয়াদের নানাভাবে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। হুমকী দিচ্ছে। কিন্ত কাগজপত্র নিয়ে বসে না। আমরাই প্রথম খরিদা মালিক, শুনলাম দাগ জামিন দিয়ে জায়গা দখল করার চেষ্টা করছে। গত শুক্রবার ভোরে ওপেন দখল করার ঘোষণা দেয় সামশুল ইসলাম। আমাদের ভাড়াটিয়া ফুলের দোকানদারকে রাতের মধ্যে তার দোকান গুড়িয়ে নিতে হুমকি দিয়েছে। আমি থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করি।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে এলে গতকাল বিকেলে সামশুল ইসলাম ও আমাদেরকে ক্যাম্পে ডেকে পাঠায় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার শাহাব উদ্দিন সামশুল ইসলামকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন আমাদের নামজরী খতিয়ান আদালত কর্তৃক বাতিল করতে পারলেই জমিতে আসতে পারবেন। অন্যথায় জোর করা যাবে না। আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে সামশুল ইসলাম জায়গা দখল করে নেয়। আমি ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ আসে। কিন্তু পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্য জনক। লোহাগাড়া থানা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কায়দায় সামশুল ইসলাম ও ছরওয়ার আকতার নেক্কারজনক ঘটনা ঘটালো। দেশে আইনের শাসন আর রইল কোথায়?

চেয়ারম্যানের ভাবি নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, দখলদাররা আমাদের গায়ে হাত তুলে। টানাহেঁচড়া করে। পুলিশের সামন্যেই আমাদের জায়গা দখল করা হলো। আমাদের নাজেহাল করা হলো।

লোহাগাড়া বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বিএনপি নেতা ছরওয়ার আকতারকে ফোন করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে হাজী সাহেবের (সামশুল ইসলাম) সাথে কথা বলতে বলেন।

শামসুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নিজের জায়গা কাজ করেছি। অন্য কারো জায়গা তিনি দখল করি নাই।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এই ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!