
এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় ট্রমা সেন্টার সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ট্রমা সেন্টারের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এ ট্রমা সেন্টার সংস্কার কাজে অনিয়ম হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, ২০০৭ সালের জুন মাসে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে ট্রমা সেন্টারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গণপূর্ত অধিদপ্তর ২০০৯ সালে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে। ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট লোহাগাড়ার ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ২০ শয্যার বিশেষায়িত এই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধনের পর থেকেই চিকিৎসাসেবা শুন্য ছিল। গত জুলাই মাসে গণআন্দোলনের পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ট্রমা সেন্টারটি পুণসংস্কার পূর্বক চিকিৎসা উপযোগী করার জন্য সাড়ে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। উক্ত সংস্কার কাজ পান বাবর এসোসিয়েট নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার নি¤œমানের কাজ করে বিল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ বুঝে নেয়ার চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সংস্কার কাজে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল তার তুলনায় অর্ধেক কাজও করা হয়নি। যেসব কাজ হয়েছে তাও নি¤œমানের। এরমধ্যে মেঝেতে টাইলস বসানো, ছাদ, দরজা-জানালার সংস্কার, পানির ট্যাংক ৬টির স্থলে ২টি বসানো, ছাদের স্ট্রিপিং ও ঢালাই কাজ, ড্রপ ওয়ালের ফাটল মেরামত বেশ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে। কিছু জায়গায় নতুন করার পরিবর্তে পুরনো অংশে হালকা রং করে দায়সারা কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া টয়লেট সংস্কারে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এক কথায় দেওয়ালে রংয়ের প্রলেপ দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। এ কারণে মহাসড়কটিতে প্রচুর গাড়ি চলাচল করে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লোকজন যাতে সময়মতো চিকিৎসাসেবা পান, সে জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মাঝামাঝি স্থানে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে কেন্দ্রটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, দ্রুত নি¤œমানের কাজ করে বিল তুলতে গিয়ে পুরো প্রকল্পটি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। বরাদ্দের অর্ধেকও সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। দেওয়ালে রং দিয়ে গেছে বৃষ্টির পানি ছাদ থেকে নিচে পড়ে রং ওঠে যাচ্ছে। পুরো কাজ অনিয়মের মধ্যে শেষ করেছে।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি সাইড সুপারভাইজার মনছুর আহমদ জানান, আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলেছেন, আমরা সেভাবে কাজ করেছি। তবে সিডিউল অনুযাযী কাজ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কোনো সদোত্তর দেননি তিনি।
চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল হাসান জানান, লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছি। পুরনো ভবনে সংস্কার কাজ হচ্ছে। যেগুলো কাজ এখনো শেষ হয়নি সেগুলো পুণরায় করা হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসাইন জানান, ট্রমা সেন্টারটি চালু করার জন্য আমরা শুরু থেকেই নানা উদ্যোগ নিয়েছি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি চালু করা। কিন্তু সংস্কার কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে কাজ করছে। বরাদ্দের সিডিউলে যেসব কাজ করার কথা ছিল, সেগুলো অধিকাংশই করা হয়নি। যা করা হয়েছে তাও নি¤œমানের। ভবনের ভেতরে হেঁটে গেলেই চোখে পড়ে দেওয়ালের ফিনিশিং অসম্পূর্ণ, পানির লাইন ও বৈদ্যুতিক কাজ ঠিকমতো হয়নি। ঠিকাদারের প্রতিনিধি বার বার অফিসে এসে কাজ বুঝে নেয়ার জন্য বলছেন। অথচ অনিয়মের কথা বললে তারা এড়িয়ে যায়। এতে বুঝা যায়, প্রকল্পের টাকা উত্তোলনই তাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের আশংকা এভাবে কাজ চলতে থাকলে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও সেন্টারটি চালু করা সম্ভব হবে না।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner