Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানিবাহিত রোগের আশংকা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানিবাহিত রোগের আশংকা

image_printপ্রিন্ট করুন

K H Manik Pic Ukhiya 25-10-2017 (2)

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পানি প্রাপ্তির সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি এখনো। ফলে কলেরাসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে ক্যাম্প গুলোতে। অপরদিকে অসচেতন রোহিঙ্গাদের পানির গুনাগুণ বিচারের সময়ও নেই। তাছাড়া নিরাপদ পানি ছাড়াও চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত টয়লেট ব্যবস্থা। যা আছে তাতেও উপচে পড়া ভীড়। পরিষ্কার রাখার সেই জুঁ নেই। এদিকে ক্যাম্প গুলোতে স্থাপন করা নলকূপ গুলোর নূন্যতম ১শ ফুট গভীরতায় স্থাপনের কথা থাকলেও ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীরে স্থাপন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্থানীয় ঠিকাদার ও দলীয় সিন্ডিকেটের দাবী সচেতন মহলের। যার ফলে অধিকাংশ নলকূপ স্থাপনের পরদিন থেকে অকেঁজো হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও নিরাপদ পানি সংকটে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। কারণ টয়লেট ও নলকূপ ২০মিটার দূরত্বে স্থাপনের কথা থাকলেও মাত্র ২ ফুট দূরত্বে স্থাপন করা হয়। ফলে টয়লেটের ময়লা গুলো অনায়াসে মিশে যাচ্ছে অগভীর নলকূপের পানিতে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম প্রথম অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্থাপিত নলকূপ গুলোর গায়ে নিজেদের স্থাপিত বলে সীল দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে বলেও জানা গেছে সরেজমিনে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে নলকূপ ও টয়লেট স্থাপনের কাজটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। ক্যাম্প গুলোতে ৩ হাজার নলকূপ ও ৫ হাজার স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণ করা হবে। বুধবার তথ্যটি জানিয়েছেন কক্সবাজারের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: কামরুল হাসান। তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সুপেয় পানির উৎস স্থাপনে ২শ লোক প্রতিনিয়ত কাজ করছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ১৯০টি নলকূপ এবং ৪ হাজার ৭১৫টি পায়খানা নির্মাণের শেষ হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। স্থাপন করা অধিকাংশ নলকূপ অকেঁজো হয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পানীয় জলের চাহিদা পূরণে অগভীর নলকূপ করা হলেও বাকী গুলো গভীর নলকূপ করা হবে। তিনি বলেন, টেকনাফে নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে সেখানে। তিন হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৭টি ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ক্যারিয়ারের মাধ্যমে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানি বিতরণ ব্যবস্থা সুবিধাজনক করার লক্ষ্যে রাস্তার পাশে ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১১টি ওয়াটার রিজার্ভার স্থাপন করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে নারীদের জন্য ৪ ইউনিট বিশিষ্ট প্রতিটি কেন্দ্রে ১০টি করে ৪৪০ ইউনিট গোসলখানা নির্মাণ কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী। এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১০ হাজার টয়লেট বসিয়েছে বেসরকারী এনজিও সংস্থা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মিলে ১৫ হাজার টয়লেট সহ ২ হাজারের অধিক নলকূপ স্থাপন রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে দাবী সচেতন মহলের। এছাড়া পাহাড়ি জনপদে ক্যাম্পের আশেপাশে পানির উৎস কম থাকায় নিরাপদ পানির অভাব সহজে মিটছে না। সম্প্রতি ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে স্বাস্থ্য, পয়:নিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্যাম্প গুলোতে ৩৫ হাজার টয়লেট প্রয়োজন। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিছবাহ উদ্দিন, পরিস্থিতি আপাত নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটশন এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা না যায়, তাহলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!