ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রেল দুর্ঘটনা : ঝরছে প্রাণ, বড় ক্ষতি হচ্ছে রেলের

রেল দুর্ঘটনা : ঝরছে প্রাণ, বড় ক্ষতি হচ্ছে রেলের

17352101_853313231501573_1883318953229777127_n-777x437

নিউজ ডেক্স : গেটম্যান আর স্টেশন মাস্টারদের অবহেলার কারণেই বার বার ঘটছে ট্রেন দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ, বড় ক্ষতি হচ্ছে রেলের। তবুও দায়ীদের বিরুদ্ধে নেয়া যাচ্ছে না দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তির ব্যবস্থা। গত কয়েক বছরে বড় বড় দুর্ঘটনায় রেলের যত ক্ষতি হয়েছে–যত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তার সবগুলোই হয়েছে গেটম্যান ও স্টেশন মাস্টারের অবহেলায়। রেল যাত্রীদের পাশাপাশি রেলের কর্মকর্তাদেরও অভিযোগ–রেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারিদের অবহেলা আর যাত্রীদের অসচেতনতায় ট্রেন দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। দুর্ঘটনা ঘটলেই তদন্ত কমিটি হয়, দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্য গ্রহণ চলে–তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল হয়। দোষী রেলকর্মীদের হালকা শাস্তি প্রদানের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু। এ অভিযোগ স্বীকার করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন আজাদীকে বলেন– স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলার কারণে রেলের বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় বড় ক্ষতি হচ্ছে রেলের। দুর্ঘটনার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না কেন জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে–রেলের ক্ষতি হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর বারৈয়ারহাট রেল ক্রসিংয়ে বাসের সাথে বিজয় এক্সপ্রেসের যে দুর্ঘটনা ঘটেছে চিনকি আস্তানার স্টেশন মাস্টারের অবহেলার কারণে হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইতোপূর্বে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অসংখ্য দুর্ঘটনা তদন্তের ঘটনায় দেখা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনের দেওয়া সুপারিশের আলোকে কোনো কিছুই করা হয় না, সমাধান হয় না ত্রুটি–বিচ্যুতির। ফলে ট্রেন দুর্ঘটনা বেড়েই চলে জ্যামিতিক হারে। প্রতিটি রেল দুর্ঘটনার পর পরই তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো নজির নেই। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের সাময়িক বরখাস্ত কিংবা তিরস্কারের মধ্যেই শাস্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন রেল সংশ্লিদের অবহেলা বাড়তে থাকে,অন্যদিকে ঘটতে থাকে রেল দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি। অপরদিকে ট্রেন চালকসহ পরিবহন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্ঘটনা–পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তাদের প্রতিবেদনে শুধু ট্রেনচালক, স্টেশন মাস্টার ও পরিবহন কাজ–সংশ্লিষ্টদের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয়। লুপ, শাখা ও মেইন লাইনের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও দায় চাপানো হয় পরিবহন বিভাগের ওপর। লাইনের ত্রুটির জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দফতরের বিরুদ্ধে। এভাবেই পরিবহন ও প্রকৌশল বিভাগের একে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর প্রতিযোগিতায় আড়াল হয়ে পড়ে প্রকৃত ঘটনা। ফলে একই লাইনে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে তা এড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। পূর্বাঞ্চলে গত এক বছরে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার কোনটারই দৃষ্টান্ত মূলক শান্তি হয়নি প্রকৃত দোষীদের। এভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে রেলের যারা ইচ্ছেকৃতভাবে দায়িত্ব অবহেলার কারণে ক্ষতি করছে তারা। মূলত রাজনৈতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের প্রভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। সরেজমিন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ রেলক্রসিংয়ে দেখা গেছে রেললাইন ঘেঁষে বসছে কাঁচাবাজার। নগরীর দুই নম্বর গেইট, ষোলশহর, কৈবল্যধাম, কদমতলী, মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট এলাকায় কোয়ার্টার কিলোমিটার পর্যন্ত গড়ে উঠেছে এই কাঁচাবাজার। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মালামাল বিক্রি করা হয়ে থাকে। কেউ কেউ পণ্যের পসরা নিয়ে রেললাইনের ওপর যে যার মত বসে পড়ে মালামাল বিক্রি করে থাকে। মালামাল কিনতে আসা লোকজন কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকার কারণে ট্রেনের আগমন টের না পাওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে। এদিকে চট্টগ্রাম দোহাজারী রুটের বোয়ালখালী এলাকায় অনেক বাজার গড়ে উঠেছে রেল লাইনের ধারে। বাজারে প্রচুর লোকসমাগম ঘটে। ট্রেনের হুইসেল শুনে তাড়াহুড়া করে লাইনের ওপর থেকে বাজারের মালামাল সরিয়ে নেয়া হলেও ট্রেন চলে যাওয়ার পর আবারও বিক্রেতারা সেখানে বসে যায় পসরা নিয়ে।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*