ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রাশেদের বিরুদ্ধে যে বক্তব্যের কারণে মামলা

রাশেদের বিরুদ্ধে যে বক্তব্যের কারণে মামলা

image-87102

নিউজ ডেক্স : কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের ফেসবুকে লাইভে এসে প্রায় সাড়ে ১৮ মিনিটের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর সেই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৭ জুন এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয় ফেসবুকে যেখানে তিনি বারবার ছাত্রদেরকে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে এসে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রবাসীদেরকে বলেছেন, তাদের পাঠানো রেমিটেন্স ভিন্নখাতে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণাকে তার নাম উল্লেখ না করেই একাধিকবার প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন রাশেদ। বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে এই দেশ তার বাপের দেশ।’

‘মনে হচ্ছে তার বাপের দেশ’

রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করা ছাত্রলীগ নেতা আল নাহিয়ান খান জয় দাবি করেছেন, এই ভিডিও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করা হয়েছে। তবে রাশেদ কারও নাম উল্লেখ করেননি।

কোটা আন্দোলনের নেতা বলেন, ‘আমরা তো কোনো রাজনৈতিক দল নই। আমাদের সাথে কিসের ষড়যন্ত্র, কিসের রাজনীতি। রাজনীতি করবেন আপনি যাদের সাথে করার, যাদের সাথে রাজনীতি করার ভালো তাদের সাথে করবেন। ছাত্র সমাজ তো রাজনীতি করতে আসেনি।’

‘মনে হচ্ছে তার বাপের দেশ। সে একাই দেশের মালিক। ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা বলবে, আর আমরা কোনো কথা বলতে পারব না।’

কোটা বাতিলের ঘোষণাকে প্রতারণা ভাবছেন রাশেদ

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে গত এপ্রিলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল কোটা থাকবে না বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর ২ মে এবং সব শেষ ২৭ জুন সংসদে একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। এতদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতিটি কীভাবে বাদ দেয়া যায়, সেটি নিয়ে কাজ চলছে। তারা প্রতিবেদন দিলেই সিদ্ধান্ত হবে।

কোটা বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান তার ভিডিওতে বলেন, ‘বাংলার ছাত্র সমাজ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, শুধুমাত্র সেই আন্দোলনকে দমন করার জন্য আমাদের সাথে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আর যে কারণেই দীর্ঘ আড়াই মাস শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আর আড়াই মাস পরে এসে এখন সচিবেরা সেই একই কথা বলছেন, আগে যে কথাগুলো বলেছিলেন।’

‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে আগামী দুই মাসেও কিছু না হতে পারে এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।’

‘এর অর্থ কী বুঝায়? এর অর্থ যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, যে গণ আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছিল, সে আন্দোলনকে শুধুমাত্র বন্ধ করার জন্য আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।’

‘বাংলার ছাত্র সমাজের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা বলে দিতে চাই, যদি আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয় যদি আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়, তাহলে তার পরিণাম কিন্তু ভালো হবে না। বাংলার ছাত্র সমাজ কঠোর হস্তে তা দমন করবে।’

রাশেদের রক্ত গরম হয়ে গেছে

রাশেদ তার ভিডিও বার্তাটি দিয়েছেন সংবাদ পড়ে। যেখানে বলা হয়, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপেনর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

খবরটি পড়ে রাশেদের রক্ত গরম হয়ে গিয়েছিল এবং তার ভিডিওতে বিভিন্ন কমেন্ট পড়ে তার মনে হয়েছে, বাংলার ছাত্র সমাজেরও রক্ত গরম হয়ে গেছে।

রাশেদ মনে করেন, এখনও যে ছাত্রদের রক্ত গরম হয়নি, তার রক্ত নেই। যারা আন্দোলনে নামবে না, তারা কাপুরুষ।

রাজপথে নামতে বরবার আহ্বান জানাতে থাকেন রাশেদ। বলেন, ‘আপনারা সবাই জেগে উঠুন, যারা এখনও ক্যাম্পাসে আসেননি, তারা অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে আসুন।’

‘অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরে আসুন। অনেক ছুটি কাটিয়েছেন, অনেক আনন্দ করেছেন, আর নয়। এবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসুন। … অতি দ্রুত রাজপথে নামতে হবে। আপনারা অতি দ্রুত ক্যাম্পাসমুখী হন, ক্যাম্পাসে ফিরে আসুন। আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা এই নির্লজ্জ সংবাদের জবাব দেব।’

‘যৌক্তিক আন্দোলনে’ যারা আসে না তাদের পড়ালেখারও দরকার নেই বলেও মনে করেন রাশেদ।

‘ছাত্ররা সব বানচাল করে দেবে’

কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে রাশেদ বলেন, ‘যদি কোনো প্রকার প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়, ছাত্র আন্দোলনকে বন্ধ করার জন্য কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে কেউ রক্ষা পাবে না, আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর হব।’

‘এতদিন শুধুমাত্র মিঠা মিঠা কথা বলেছি। আমার অধিকারকে খর্ব করে, আমার অধিকারকে নষ্ট করে কেবল মিঠা কথা বলতে রাজি নই।…আমাদেরকে এখন হার্ডলাইনে যেতে হবে।

এর আগে রাস্তায় নেমে কেবল রাজপথ বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে রাশেদ বলেন, ‘এবার কিন্তু নৌপথ বন্ধ হবে, আকাশপথ বন্ধ হবে। বাংলাদেশে কোনো মিল কারখানা চলবে না।’

‘যদি প্রজ্ঞাপন দেয়া না হয়. সব কিছু অচল করে দেয়া হবে।’

এই আন্দোলন ব্যর্থ করার ক্ষমতা কারও নেই উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, ‘যদি এই আন্দোলনকে কেউ বানচাল করতে চায়, বাংলার ছাত্র সমাজ তাকে বানচাল করে দেবে। যদি কেউ এই ছাত্র সমাজকে ঠকাতে চায়, বাংলার ছাত্র সমাজ তাকে ঠকিয়ে দেবে। ছাত্র আন্দোলন কখনও বৃথা যেতে পারে না, ছাত্র আন্দোলন কখনও বৃথা যায়নি।’

‘আবর্জনায় ভর্তি’ প্রশাসনের দরকার নেই

রাশেদের দাবি প্রশাসন আবর্জনা দিয়ে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। কারণ, সেখানে মেধাবীদেরকে সুযোগ দেয়া হয় না। আর বাংলাদেশের প্রশাসন সব থেকে নিকৃষ্ট, জঘন্য।

বাংলাদেশে এ রকম ‘নির্লজ্জ, বেহায়া, এই রকম অদক্ষ প্রশাসনের’ কোনো দরকার নাই বলেও মনে করেন রাশেদ।

প্রবাসীদের সহযোগিতাও কামনা

আনেদালনে প্রবাসীদেরও সহযোগিতাও চান রাশেদ। বিশ্বের যেসব বিশ্ববির‌্যালয়ে বাংলাদেশি ছাত্ররা পড়াশোনা করছেন, তাদেরকে যেন সেই সব দেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন করারও আহ্বান জানান রাশেদ খাঁন।

প্রবাসীদেরকে রাশেদ এমনও বলেন, তারা যে রেমিটেন্স পাঠান, তাকে ভিন্নখাতে ব্যবহার করা হয়।

‘আপনারা বিদেশে কষ্ট করেন, অথচ সেই কষ্টের কোনো মূল্য আমরা পাই না। এই কোটাধারীদের খাওয়ানো হয়। আমাদেরকে না খাইয়ে রাখা হয়। আমাদেরকে চাকরি দেয়া হয় না, বেকার রাখা হয়।’

গরিব, কৃষকের জন্য কোটার পক্ষে রাশেদ

এতদিন কোটা ব্যবস্থাকে বৈষম্য মনে করে আসলেও কৃষক আর গরিবের কোটার পক্ষেও বলেন রাশেদ। বলেন, ‘কৃষকের সন্তানকে চাকরি দেয়া হবে না, কৃষকের সন্তানকে কোটা দেয়া হবে না, কোটা দেয়া হবে সচিবের ছেলেকে ম্যাজিস্ট্রেট বানানোর জন্য।’

‘উকিলের ছেলেকে কীভাবে ব্যারিস্টার বানানো যায়, কীভাবে তাকে ফরেন ক্যাডার বানানো যায়, সে চিন্তা করে তাকে কোটা দেয়া হচ্ছে। অথচ দরিদ্র ঘরের একটি সন্তান, যার বাপ রিকশা চালায়, যার বাপ কৃষক, তাকে তো কোটা দেয়া উচিত।’

‘কোটা যাকে দেয়া উচিত, তাদেরকে কোটা না দেয় দেয়া হয় ওই সমন্ত ব্যক্তিদেরকে যারা ধনী। ওই সকল লোভী ব্যক্তিদেরকে, যাদের আসলে কোটার কোনো প্রয়োজন নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*