ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি টেক্সি তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু

মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি টেক্সি তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু

Untitled-1-4

নিউজ ডেক্স : নগরীর রাস্তায় চলাচলরত পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি টেক্সি তুলে দিয়ে নতুন সিএনজি নামানোর প্রক্রিয়া আবারো শুরু করেছে বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ)। মামলা জটিলতা কাটানোর পর ইতিমধ্যে বিআরটিএ গতকাল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংস করার কার্যক্রম শুরু করেছে। দপ্তরটি এ পর্যন্ত ৪৫৯টি অটোরিকশা ধ্বংস করেছে। যেগুলোর বদলে নগরীর রাস্তায় নতুন অটোরিকশা নামছে। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে ২০০২ সালে নিবন্ধনকৃত মোট ২ হাজার ৮৭০টি অটোরিকশার ইকোনমিক লাইফ শেষ হয়। পরে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশার বিপরীতে রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন মডেলের সিএনজি অটোরিকশা রাস্তায় নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বিআরটিএ। চট্টগ্রামে নিবন্ধনকৃত অটোরিকশার সংখ্যা ১৩ হাজার। ২০১৯ সালে নগরীতে চলাচলরত সব অটোরিকশারই ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়ার কথা। সাধারণ গাড়ির ইকোনমিক লাইফ শেষের পর এসব গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। ২০১২ সালের পর থেকে নগরীতে সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধন দিচ্ছে না বিআরটিএ।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১২ এপ্রিল মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে অটোরিকশা ধ্বংস করার কার্যক্রম শুরু করে বিআরটিএ। উক্ত মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত মোট ৪১২টি সিএনজি অটোরিকশা বিআরটিএ কার্যালয়ে ধ্বংস করা হয়। পরে বিআরটিএ’র এ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কিছু মালিক আদালতে মামলা করেন। এতে অটোরিকশা প্রতিস্থাপন বন্ধ থাকে। বিআরটিএ কর্মকর্তা মেহেদী ইকবাল আজাদীকে বলেন, মালিকের রিট আবেদনের কারণে মাঝখানে এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এক পর্যায়ে আদালত তাদের রিট খারিজ করে দেন। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা স্ক্র্যাব কার্যক্রম শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ৪৭টি গাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়। সরেজমিন দেখা যায়– মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা ধ্বংসের জন্য মালিকরা তাদের গাড়ি নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে আসেন। দুপুরের পরও অনেক গাড়ি ধ্বংসের জন্য অপেক্ষায় ছিল। এব্যাপারে বিআরটিএ উপ পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আজাদীকে বলেন, প্রথম ধাপে যেসব অটোরিকশা স্ক্র্যাব করা হয়, দুয়েকটি বাদে ওইসব গাড়ির মালিকদের অনুকূলে নতুন অটোরিকশার নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা স্ক্র্যাবের পর নতুন সিএনজি’র নিবন্ধন পেতে সময় লাগে না। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে ১৫ বছর ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়া এসব অটোরিকশার মেয়াদ আরও বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছিলেন মালিকরা।

এসময় মালিকদের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে মেয়াদ বাড়ানো যায় কিনা তা জানতে বিআরটিএ গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে একটি চিঠি দেয়। বিআরটিএ এ পরীক্ষার জন্য চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তিন মাস সময় চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠির উত্তর দেয়। পরবর্তীতে গত ৩১ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানুযারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশাগুলোকে চলাচলের জন্য সুযোগ দেয়। এক পর্যায়ে বুয়েট গত ৬ মার্চ বিআরটিএকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, এসব অটোরিকশার মেয়াদ আর বাড়ানো যাবে না।

সেই থেকেই ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়া সিএনজি অটোরিকশা রাস্তা থেকে তুলে নতুন গাড়ি নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বিআরটিএ। এর আগে আরও তিন দফা পিছিয়ে ছিল নগরীতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অটোরিকশা তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*