ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | মনের ক্যানভাসে প্রাণের স্কুলের স্মৃতিকথা

মনের ক্যানভাসে প্রাণের স্কুলের স্মৃতিকথা

96

মোহাম্মদ তামজীদ হোসাইন : একটা সময় পার করে এসেছি। শৈশবকাল; যে সময়কে জীবনের স্বর্ণযুগ বললেই চলে। তখন ১২-১৭ বছর বয়স। দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম ষষ্ঠ শ্রেণিতে। হাইস্কুল লাইফ। দিনগুলো ছিল জীবনের সোনালী সময়। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় ২কিঃমিঃ হওয়াতে সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হতাম। সাধারণত বাড়ির কাছের বন্ধুদের সাথে স্কুলে যেতাম। স্কুলে গিয়ে সকালে প্রত্যহ সমাবেশ হতো। এসেম্বলিতে দুষ্টামি করা থেকে শুরু করে স্যারদের, বন্ধুদের নামে নানান মন্তব্য হতো! মাঝে মাঝে স্কুলে ক্লাস ফাকি দিয়ে স্কুল থেকে কয়েকজন একসাথে বের হয়ে কখনো গ্রামের সৌন্দর্য দেখতে নদীর তীরে চলে যেতাম। কখনো হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের মেজবান এমনকি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়েতে পর্যন্ত ঢুকে পড়তাম। স্কুলে শ্রদ্ধেয় একরামুল হক স্যারের সাথে কত দুষ্টামি করতাম। প্রবীণ এই স্যারকে হয়তো কখনো sorry বলতে পারিনি আমরা। টিফিন ব্রেক টাইমে ছেলেরা নামাজ না পড়ে পারতো না। ছেলেদের নামাজ পড়ানোর এই নৈতিক শিক্ষার দায়িত্ব নিতেন শ্রদ্ধেয় আইয়ুব স্যার এবং হাসান স্যার। ব্রেক টাইম শুরু হওয়ার সাথে সাথে স্কুলের গেটে এই দুই স্যার দাঁড়িয়ে থাকতেন। হাতে বেত রাখতেন। কোনো ছাত্র আগে টিফিন খেতে পারতো না। আগে নামাজ, তারপর নাস্তা। নামাজ পড়ছে কি পড়েনি এটা আবার শ্রেণিকক্ষে তদারকি করতেন। জানিনা এই নৈতিক শিক্ষার চর্চা এখন কতটুকু হয়। তবে এখন বুঝতে পারি সেই নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব কতটুকু। ব্রেক টাইমে ক্রিকেট খেলতাম, ফুটবল, হাডুডু খেলতাম, ভলিবল, সাত চার খেলা। সাত চার খেলাটা অসাধারণ ছিল। স্কুল থেকে পালালে মাঝে মাঝে টিফিন ব্রেক টাইমের পর আবার রোল কল করতেন। পালানোর লিস্টে যাঁদের নাম আসতো তারা ভয়ে পরের দিন স্কুলে আসতো না। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো। স্কুলের মাঠ ছিল সেটা একটু দূরে অবস্থিত। তেল্যা ফিল্ড নামে পরিচিত। যেখানে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা অবস্থান করতাম। আহা কতই না আনন্দময় ছিলো হাইস্কুল লাইফ। তখন লোহাগাড়া সদরে হাতেগুণা কয়েকটা হাই স্কুল ছিল। শ্রেষ্ঠ স্কুল ছিল আমাদের স্কুল। স্কুলের শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে যার সবচেয়ে অবদান আমি বলবো তিনি তৎকালিন মাননীয় প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় বাবু নারায়ন স্যারকে। স্কুল থেকে ফিরে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলতাম। বন্ধের দিন ক্রিকেট খেলা আর ঘুরাঘুরি। বন্ধুর তালিকায় খুব কম সংখ্যা ছিলো। যাঁদের সাথে তখন ভাল সম্পর্ক ছিলো এখনো সেই সম্পর্ক আছে। যখনি একটু সময় পায় তাদের সাথে ঘুরাঘুরি করি। এখন আমরা প্রায় সবাই শহরমূখী। কেউ জীবন জীবিকার তাগিদে কেউবা আবার পড়াশোনা করতে শহরে পাড়ি দিয়েছি। হয়তো সেখানে সহকর্মী, কলেজ, ইউনিভার্সিটি বন্ধুদের পেয়েছি। কিন্তু আমরা এখনো ভুলিনি পুরনো দিনগুলো। শৈশবের সেই প্রাণের টানে ঈদ কিংবা যেকোনো ছুটি পেলেই গ্রামে একত্রিত হই। ব্যস্ত সময়েও সময় বের করে আমরা মেতে উঠি গল্প, তর্ক, বিতর্কে, উল্লাসে। এখনো সেই প্রাণবন্ত আড্ডা জমে। মাঝে মাঝে মনে হয় যেন আবার শৈশবে ফিরে যায়। ফোন করে বন্ধুদের বলে দিই রাতে আমাদের বাড়িতে আড্ডা হবে। রাতে এদের সবাইকে আসতে বলি। রাতের আড্ডা বেশী জমে। আড্ডাবাজী করতে কারতে খাওয়ার কথাও ভুলে যায়। তারপর রাতের খাওয়া হয়। Dinner এর পর আরেক দফা আড্ডা! এই সোনালি দিনগুলোকে ফেলে আবার ফিরে যেতে হয় যার যার কর্মস্থলে। খুব মিস করি প্রাণের ক্যানভাসে মিশে থাকা সেই গোলামবারী স্কুলের সোনালী দিনগুলো। আমার মনে হয় না এই তারুণ্যের সোনালী দিনগুলো কখনো ভুলবো।

লেখক : এসএসসি-২০১১ ব্যাচ, দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারী উচ্চ বিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*