Home | উন্মুক্ত পাতা | বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানবিকতার চাষাবাদ করা জরুরী হয়ে পড়েছে

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানবিকতার চাষাবাদ করা জরুরী হয়ে পড়েছে

170

ওমর ফারুক : আমার ছোট ভাইয়ের বদভ্যাস হলো ফোন রিসিভ না করা, মোবাইল বন্ধ রাখা। কল দিছি একদিন আগে, পরের দিন কল ব্যাক দিয়ে বলবে, ভাই, আপনি আমাকে কল দিয়েছিলেন? হ্যাঁ সূচক উত্তর দিয়ে বলি, কল তো দিয়েছিলাম গতকাল। জবাবে সে বলবে, ভাই খেয়াল করি নাই।

তার কল ব্যাকের জন্য আমি একদিন পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে পারলেও আমার মা-বাবা পারেন না। বাবা-মাকে তার কল রিসিভ না করার কৈফিয়ত দিতে দিতে আমক কাহিল হয়ে পড়ি। সেসময় বাবা-মা আমাকে চুড়ান্ত রকম বিরক্ত করে ফেলে।

টেলিভিশনের স্ক্রলে ঢাকা শহরের কোন জায়গায় ককটেল ফুটছে দেখলেও বাবা-মা তাকে ফোন দিতে থাকে। যথারীতি সে ফোন রিসিভ করবে না কিংবা তার মোবাইল বন্ধ থাকবে। তারপর শুরু হয় আমাকে ফোন দেওয়া। মিটিং এ আছি, ট্রেনিং এ আছি বলেও নিস্তার পাই না। মা তো রাগে গজরাতে গজরাতে বলবে, আমার ছেলের চেয়েও তোর মিটিং বেশি হয়েছে? আমি কথা না বাড়িয়ে ফোন রেখে দেই। মা আবারও ফোন দিতে থাকে। মাকে বুঝাতে পারি না ওনার ফোন যেখানে রিসিভ করে না সেখানে আমারটা কিভাবে রিসিভ করবে? তারা হয়তো ভাবে আমার কাছে ছোট ভাইয়ের খোঁজ নেওয়ার মতো কোন জাদুর বাক্স আছে! মায়ের ছটফটানি আর বাবার অস্থিরতা দেখে বুঝতে পারি আমাদের প্রতি তাদের কি পরিমাণ দরদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমাদের হলে একবার বড় মারামারি হয়েছিল। আহতদের মধ্যে একজনের নাম ছিলো ফারুক, মামলার বাদীর নাম ছিলো ফারুক এবং যিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাঁর নামও ফারুক। সেসময় ছুটোছুটিতে মোবাইলও হারিয়ে যায়। পরে শুনেছিলাম মা-বাবা দুজনই নাকি নাওয়াখাওয়া ভুলে গেছিলেন সেদিন।

ঘাতকরা আবরারকে মারতে মারতে যখন রক্তাক্ত করে ফেলছিল, তেতলে দিচ্ছিলো আবরারের মা ও ফোন দিয়েছিল আবরারকে। হয়তো মায়ের মন বুঝতে পেরেছিল সন্তানের বিপদের কথা। তাইতো আবরারকে ফোনে না পেয়ে ছোট সন্তানকেও ফোন দিয়েছিল।

যেকোন বিষয়ে দু’চার লাইন লিখতে পারি। গতকাল সকালে আববারের মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে চেষ্টা করছি দুইটা লাইন লেখার জন্য কিন্তু কিছুতেই লেখা আসছিলো না। ফেসবুক জুড়ে আবরার। টেলিভিশনেও আবরার। ইউটিউবেও আবরার। রাতে ঘুমাতে গিয়েও বারবার মাথায় আসছিলো আবরার। কিন্তু আমার লেখা আসছিলো না কিছুতেই।

আবরার তো মরে গিয়ে বেঁচে গেছে। আমরাও যথা নিয়মে দু একদিন শোক করে ভুলে যাবো আবরারকে। কিন্তু তার ছোট ভাইটা, তার মা কিংবা বাবা কি কখনো ভুলতে পারবে আবরারকে। কখনোই পারবে না। যে হারায় সেই বুঝে হারানোর কি হাহাকার হতে পারে। বুকটা কি পরিমাণ খালি খালি লাগে?

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন জ্ঞানের কিংবা এমপিথ্রির চাষাবাদ না করে মানবিকতার চাষাবাদ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সন্তান জ্ঞানী কিংবা ইঞ্জিনিয়ার না হোক, কোন মায়ের বুক অন্তত খালি হবে না।

biman-ad

লেখক : সহকারী শিক্ষা অফিসার, লোহাগাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!