Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বিতর্ক মুছতে টেকনাফে নৌকার মাঝি বদির স্ত্রী !

বিতর্ক মুছতে টেকনাফে নৌকার মাঝি বদির স্ত্রী !

Coxs-Pic1-19-11-18-800x426

নিউজ ডেক্স : অবশেষে মাইনাসই হতে পারেন দেশজুড়ে নানা বিতর্ক নিয়ে আলোচনায় থাকা সাংসদ আবদুর রহমান বদি। এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের টিকেট পেতে পারেন বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী। যেকোনো সময় দল থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। এনিয়ে সাংসদ বদি মুখ না খুললেও ইতোমধ্যে তিনিও বিষয়টি জেনে গেছেন।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে ইয়াবা ইস্যুতে তুমুল বিতর্কে আছেন আবদুর রহমান বদি। এছাড়া সাংসদ থাকাকালে একবার কারাভোগ পর্যন্ত করতে হয়েছে বদিকে। বদির একের পর এক বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে দলকে প্রতিনিয়ত বিব্রত অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ বদিবিরোধী। তারা প্রতিনিয়ত বদির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিষোদাগার করেন। কিন্তু এসব ছাপিয়ে বদির জনপ্রিয়তাও কম নেই উখিয়া-টেকনাফে। সাধারণ মানুষ তাকে (বদি) সুখ-দুঃখের বন্ধু হিসেবে চেনেন। তাই দলের গুটিকয়েক নেতাকর্মী বিরোধিতা করলেও সাধারণ মানুষের দাবি ছিল বদিকে মনোনয়ন দেয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ আর সেই পথে হাঁটছে না। বিতর্ক এড়াতে বদির হাতে নৌকা দেওয়া হচ্ছে না এবার।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি হয়ে এ আসন থেকে ২০০৮ সালে ও ২০১৪ সালে পর পর দুইবার জাতীয় সংসদে যান আবদুর রহমান বদি। টানা ১০ বছর সাংসদ থাকার সুবাধে বিএনপির দুর্গে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন তিনি। কিন্তু ইয়াবা ও অন্যান্য ইস্যুতে তৈরি হওয়া বিতর্কগুলো শেষ পর্যন্ত তার (বদি) জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে নৌকার মনোনয়ন।

দলটির কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইছে তারা বিতর্কিত কোন সাংসদকে দল মনোনয়ন দেবে না। পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থীকে নৌকার মনোনয়ন দিয়ে অতীতের বিতর্কগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করবে।

এই আসন থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ জন প্রার্থী নৌকার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে অন্তত ৪/৫ জন প্রার্থী দলগতভাবে শক্তিশালী। কিন্তু দলীয় অবস্থান শক্ত হলেও জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে রয়েছেন তারা। কিন্তু সাংসদ বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী এক্ষেত্রে জনপ্রিয়তায় সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। এছাড়াও উখিয়ার সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে তিনি। এলাকায় তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান।

সবদিক বিবেচনা করে শাহীন চৌধুরীকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ তাকে মনোনয়ন দিলে একদিকে যেমন দল পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী পাবে, অন্যদিকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন নিয়েও বিতর্কে পড়তে হবে না। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, বদির ব্যক্তিগত বিশাল জনপ্রিয়তাও তার স্ত্রীর ঝুলিতে যোগ হবে। তাই তাকে মনোনয়ন দিলে নৌকার বিজয় শতভাগ নিশ্চিত।

তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় কোনো অবস্থার সৃষ্টি না হলে শাহীন আক্তারই হচ্ছেন উখিয়া-টেকনাফ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলে জানিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড সংক্রান্ত সূত্রটি।

কে এই শাহীনা আক্তার চৌধুরী : নৌকার মনোনয়ন পেতে যাওয়া শাহীন আক্তার চৌধুরী কি শুধুই সাংসদ বদির স্ত্রী ? না, তার আরও অনেক বড় পরিচয় আছে। শাহীনা চৌধুরী উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার বাবা নুরুল ইসলাম চৌধুরী ঠা-া মিয়া ছিলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তার বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতা। ছোটভাই জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজাপাালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার চাচা হামিদুল হক চৌধুরী উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ।

শাহীন আক্তার চৌধুরী ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

জানতে চাইলে শাহীন আক্তার চৌধুরী বলেন, ‘দল থেকে এখনো মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়নি। আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে নৌকার মনোনয়ন দেন, তাহলে নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য যা করার সব করবো।’

সূত্র : দৈনিক পূর্বকোণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*