Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

নিউজ ডেক্স : মালয়েশিয়া এই মুহূর্তে কর্মী সংকটে রয়েছে। তাই দ্রুত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার খুলতে আগ্রহী দেশটি। একই সঙ্গে গৃহকর্মী নেয়ারও আগ্রহ দেখায় মালয়েশিয়া।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগেরানের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মালয়েশিয়ার মন্ত্রী। -জাগো নিউজ

তিনি বলেন, আমার দেশের (মালয়েশিয়া) শ্রমবাজার ফের চালুর ব্যাপারে কিছু বিষয়ে এক মত হয়েছি। এর মধ্যে আছে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এটি অনুষ্ঠিত হবে। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আসবেন, মিটিংয়ে কয়েকটি বিষয় ফাইনালাইজড করতে। এরপর আমি পুরো বিষয়টি আমাদের মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করব।

তিনি বলেন, ‘জরুরি বিষয় হচ্ছে, আমরা (মালয়েশিয়া) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চাই। এজন্য আমি বাংলাদেশে এসেছি। এ মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় কয়েক লাখ বাংলাদেশি আছে। আমাদের অর্থনীতির আকার বাড়ছে এবং আমাদের আরও কর্মী দরকার।’

‘এর চেয়ে বড় বিষয়, আমরা শ্রমবাজারের পরিধি বৃদ্ধি করেছি। আমরা গৃহকর্মী নিতে আগ্রহী। আমরা আশা করি, দ্রুত আমরা সব নির্ধারণ করতে পারব।’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা এক জায়গায় এক মত হয়েছি যে, মার্কেট আমাদের দ্রুত খুলতে হবে। আমরা গৃহকর্মী পাঠাব মালয়েশিয়ায়।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক আলাপ হয়েছে, এগুলো আগামী বুধবার জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির সভায় চূড়ান্ত হবে। শিগগিরই আমরা যেকোনো একটা সিস্টেমে মালয়েশিয়ার বাজার খুলব।

কোন দিকে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এটা নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এটি। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় দেশটি। পরবর্তীতে নানা কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আবারও দেশটিতে কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনার দ্বার খোলে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় আসেন।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী নেয়ার আগ্রহ দেখালেও অপর প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে বাংলাদেশের তেমন কোনা সুখস্মৃতি নেই। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ধর্ষণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে একের পর এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দেশে ফিরে আসেন। পরে তারা তাদের ওপর পরিচালিত নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো একেবারেই বন্ধের দাবি তোলে বেশকিছু সংগঠন। তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

একপর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সৌদি আরবে গৃহকর্মী পাঠানো কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে।

এবার নতুন করে গৃহকর্মী নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অভিবাসী গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতপূর্বক তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখভালের জন্য দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আরও তৎপর হতে হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্য বলছে, গত জানুয়ারিতে তিন হাজার ৬৩৫ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৯৫৯ জন সৌদি আরব থেকে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০০ জন নারী। ২০১৯ সালে ফিরেছেন ২৫ হাজার ৭৮৯ জন।

২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রম রফতানি বন্ধ রয়েছে। এরপর বাজারটি উন্মুক্ত করতে কয়েক দফা বৈঠক ও চিঠি চালাচালির পরেও বাজারটি উন্মুক্ত হয়নি। গেল বছরের ৬ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় দু’দেশের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগেরান বলেন, বাংলাদেশ থেকে শূন্য ব্যয়ে কর্মী নিয়োগ করতে শিগগিরই চুক্তি হবে। নেপালের সঙ্গে যেভাবে চুক্তি হয়েছে ঠিক একইভাবে চুক্তি বাংলাদেশও চাচ্ছে।

biman-ad

তিনি বলেন, শূন্য ব্যয়ে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা বেশ অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। কর্মী নিয়োগের সার্ভিস চার্জ, যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুরক্ষা স্ক্রিনিং এবং শুল্ক চার্জগুলি দেবে নিয়োগকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!