ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ফ্লাইওভার : বাতাসেই হেলে পড়লো পিলারের রড!

ফ্লাইওভার : বাতাসেই হেলে পড়লো পিলারের রড!

akteruzzaman-chy-flyover-wo-432x510

নিউজ ডেক্স : নিম্নচাপের প্রভাবে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত বাতাসের ধাক্কায় হেলে পড়েছে ফ্লাইওভারের পিলারের সেন্টারিং। একটি পিলারের গাঁথুনি দেয়ার আগে রডগুলোকে বাঁধার পর রিং বেষ্টনি দিয়ে চারদিকে স্টিলের ফরমা দেয়ার অপেক্ষায় ছিল রডগুলো। কিন্তু স্টিলের ফরমা লাগানোর আগে রিং দিয়ে ঘেরাও থাকা রডগুলো গত বুধবার রাতে হেলে পড়ে। ষোলশহর দুই নম্বর গেইট মোড় এলাকায় সবদর আলীর বাড়ির সামনের একটি পিলারে এ ঘটনা ঘটে।

মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের লুপ তৈরি হচ্ছে ষোলশহর দুই নম্বর গেইট মোড়ে। প্রধান ফ্লাইওভারে যান চলাচল শুরু হলেও এখন চলছে বায়েজিদ বোস্তামি রোডের দিকে লুপ তৈরির কাজ। এ লক্ষ্যে প্রধান ফ্লাইওভারের পাশে লুপের জন্য পিলার স্থাপনের কাজ চলছে। অনেক পিলার জমানো হয়ে গেলেও গতকাল একটি পিলারের সেন্টারিং হেলে পড়ে। ফ্লাইওভারে কাজ করে এ ধরনের একজন শ্রমিক জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পিলারের সেন্টারিংয়ের প্রায় ৩০ ফুট উঁচু রডগুলো হেলে পড়ে। রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করলেও গভীর রাত হওয়ায় তেমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে হেলানো রডগুলো কেটে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহি প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘পিলার ঢালাইয়ের জন্য একটি রডের সাথে আরেকটি রড লাগিয়ে যুক্ত করা হয়। আর রডগুলো খাড়া থাকার জন্য চারপাশে রিং পরানো হয়ে থাকে। আর রিং পরানোর পর স্টিলের ফরমা দিয়ে বেষ্টনি দেয়া হয়। তারপর সেই বেষ্টনির মধ্যে ঢালাই দিয়ে পিলারটি জমানো হয়। গত বুধবার দিবাগত রাতে একটি পিলারে স্টিলের ফরমা দেয়ার আগে রিং পরানো খাঁড়া রডগুলো প্রবল বাতাসে হেলে যায়। এই হেলে পড়াকে অনেকে ভাবছে পিলার ভেঙ্গে গেছে। তিনি আরো বলেন, রডগুলো হেলে পড়ার পরই তা ঠিক করা হয়।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টয় ৫০ কিলোমিটার। সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় হঠাৎ করে বাতাসের বেগ বেড়ে গেছে। আরো কয়েকদিন এ ধরনের প্রবাহ থাকবে।

প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফ্লাইওভারের পিলারের নিচের অংশে প্রথমেই কয়েক ফিট উচ্চতার একটি গাঁথুনি করে নেয়ার দরকার ছিল। সেই গাঁথুনির ওপরেই সেন্টারিং করা হলে রডগুলো হেলে পড়তো না। এখন সম্পূর্ণ পিলারটি গাঁথুনিবিহীন হওয়ায় রডগুলো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এতেই হয়তো বাতাসের কারণে বা স্টিলের ফর্মার খুলে যাওয়ার কারণে পিলারের রডগুলো হেলে পড়তে পারে।

তবে অপর এক সূত্রে জানা যায়, পিলারের সেন্টারিংয়ের স্টিলের কাঠামোটি পিলার থেকে খুলে পড়ে গিয়েছিল। সে সময় রডগুলোও হেলে পড়েছিল। কিন্তু সেন্টারিংয়ের স্টিলের কাঠামোটি খুলে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি সিডিএ কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১১ জনের মৃত্যু ও অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়। -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*