ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে ১৪, বান্দরবানে ৬, চন্দনাইশে ৪ জন নিহত

পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে ১৪, বান্দরবানে ৬, চন্দনাইশে ৪ জন নিহত

150725142116_bd_landslide_hills_bandarban_640x360_focusbangla_nocredit

নিউজ ডেক্স : বান্দরবান ও রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

টানা বর্ষণে সোমবার (১২ জুন) দিবাগত রাত থেকে বিভিন্ন সময় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রাঙামাটিতে ১৪ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং চট্টগ্রামে ৪ জন রয়েছেন।

রাঙামাটি:
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে কমপক্ষের ১৪ জন প্রাণহানি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি শহর এবং আশেপাশের এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন, রুমা আক্তার, নুরি আক্তার, জোহরা বেগম, সোনালি চাকমা, অমিত চাকমা, আয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক, চুমকি দাস। বাকিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

বান্দরবান :
বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫ জন। সোমবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে জেলা শহরের বালাঘাটা, লেমুঝিড়ি পাড়া ও আগা পাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘট।

নিহতরা হলেন- রেবা ত্রিপুরা (২৪), লতা বড়ুয়া (৭), মিতু বড়ুয়া (৫), শুভ বড়ুয়া (৪), কামরুন নাহার (৪০) ও সুপ্রিয়া বেগম (৮)। রেবা ত্রিপুরা বান্দরবান সরকারি কলেজের এবং কামরুন নাহার ছাড়া অন্যরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন- পসান ত্রিপুরা (২২), বীর বাহাদুর ত্রিপুরা (১৬) ও দুজাকিন ত্রিপুরাসহ (২৬) আরো দুজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে বালাঘাটা পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় হতাহতরা ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। টানা বর্ষণের কারণে হঠাৎ পাহাড় ধসে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় রেবা ত্রিপুরা মারা যান। অন্যদিকে রাতে শহরের লেমুঝিড়ি পাড়া ও আগা পাড়ায় অনুরূপভাবে পাহাড় ধসে আরো ৫ জন নিহত ও ৪ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পাহাড় ধসে শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ জন। সোমবার (১২ জুন) রাতে উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী আসগর আলীর কাঁচা ঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আজগর আলীর শিশুকন্যা মাহিয়া মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। এ ছাড়া ছনবুনিয়া উপজাতিপাড়ায় একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে একই পরিবারের দুই শিশু কেউচা কেয়াং (১০), মেমাউ কেয়াং (১৩) এবং গৃহবধূ মোকাইং কেয়াং (৫০) নিহত হন। এ ঘটনায় ওই পরিবারের সানুউ কেয়াং (২১) ও বেলাউ কেয়াং (২৮) নামের আরো ২ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার থেকে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে টানা বর্ষণ শুরু হয়। এতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টি কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। -সিটিজি টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*