Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চকরিয়া পৌরশহরে ইমারত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

চকরিয়া পৌরশহরে ইমারত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

image_printপ্রিন্ট করুন

market-chakaria

নিউজ ডেক্স : চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক এলাকা চিরিঙ্গা-সোসাইটিসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বহুতল বাণিজ্যিক মার্কেট ও আবাসিক ভবন নির্মাণে চলছে ইমারত আইন লঙ্ঘনের মহোৎসব। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অবহেলা ও সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে বর্তমানে বেশিরভাগ ভবনই নির্মিত হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে। বিশেষ করে পৌরশহরে নির্মাণাধীন এবং নির্মিতব্য বেশিরভাগ মার্কেটের ক্ষেত্রে মালিকদের বিরুদ্ধে ইমারত আইন লঙ্ঘনের চরম অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষেত্র বিশেষে মার্কেট মালিকরা পৌরসভা থেকে ভবন নির্মাণে অনুমোদন নিলেও রেলিং ছাড়া নির্মিত ভবন থেকে পড়ে গিয়ে হরহামেশাই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ উঠেছে, চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক এলাকা চিরিঙ্গা সোসাইটিসহ পৌরসভার ভিআইপি এলাকাগুলোতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীদের পাশাপাশি কিছু ভাসমান প্রকৌশলীদের কাছ থেকে ম্যাপ নির্ণয় করে ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে মালিকপক্ষের লোকজন। নির্মাণকাজের এলাকায় অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকলেও তার দায়ভার নিচ্ছে না কেউ।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে চকরিয়া পৌরশহরের থানার রাস্তার অদূরে সোসাইটির নোভা এন্টারপ্রাইজের পাশে জয়নাল আবেদিনের নির্মিত মার্কেটের দ্বিতীয়তলা থেকে পড়ে গিয়ে জহির আহমদ সওদাগর নামের এক ব্যবসায়ী মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত পান। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, জয়নাল আবেদিন মার্কেটটি নির্মাণ করলেও দ্বিতীয়তলায় কোনো ধরনের রেলিং দেননি। ইমারত আইন লঙ্ঘন করে এ ধরনের নির্মাণকাজের ফলে জহির আহমদ নামের ওই ব্যবসায়ী পা পিছলে গ্রাউন্ড ফ্লোরে পড়ে যান।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া পৌরসভার ইমারত শাখার পরিদর্শক রাজীব চৌধুরী বলেন, ‘মার্কেট মালিক জয়নাল আবেদিন ভবনটি নির্মাণের আগে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন নিয়েছেন। কিন্তু নির্মিত মার্কেটের সামনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেলিং স্থাপন না করে ইমারত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। যদি রেলিং না থাকার কারণে ব্যবসায়ী জহির আহমদ পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্ত মার্কেট মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ইমারত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌরসভার বাণিজ্যিক শহরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে সাত থেকে আটশ বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানেও চলছে ভবন নির্র্মাণকাজ। ইমারত আইন প্রয়োগে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকার সুযোগে বাণিজ্যিক শহর ও আশপাশ এলাকার অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুতের পিলার লাগোয়া জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন মালিকপক্ষের লোকজন।
অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গোপনে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অলিখিতভাবে ভবন মালিকদেরকে নির্মাণকাজে সহযোগিতা করেছেন। এ সুযোগে চকরিয়া শহরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন।
জানা গেছে, আবাসিক মহিলা কলেজের বিপরীতে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সায়মা প্রপার্টিজ ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক পিলারের সীমা দখল করে ইতোমধ্যে নির্মাণ করেছে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন।
একই রকম আরেকটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা বটতল এলাকায়। উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী মুনকির আলম পাঁচতলা এ ভবনটি নির্মাণ করেছেন। গত বছরের ২৯ মে দুপুরে ভবনের নির্মাণ কাজ করার সময় ভবন লাগোয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের তারে জড়িয়ে রুবেল নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের শরীর ঝলসে যায়। পরে ওই শ্রমিককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে মারা যান তিনি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে ইতোমধ্যে চকরিয়া শহরে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। কয়েকদিন আগেও সোসাইটি এলাকার একটি মার্কেটের সামনে গ্রাউন্ড ফ্লোরে পড়ে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার পর ভবন মালিকরা কোনোমতেই পার পেতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!