Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চকরিয়ায় ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত সংরক্ষিত বনাঞ্চল

চকরিয়ায় ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত সংরক্ষিত বনাঞ্চল

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নিউজ ডেক্স : কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চারটি রেঞ্চের অধীন চকরিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মুল্যবান বৃক্ষরাজি অলিখিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত উজাড় হচ্ছে। বেহাত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বনভুমি। অব্যাহত দখল ও বৃক্ষরাজি উজাড়ের কারণে বর্তমানে দুইটি বনবিভাগের সিংগভাগ বনভূমি ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। যেদিকে চোখ যায় দেখা যাবে শুধুই ন্যাড়া পাহাড়। সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখলে নিয়ে তৈরি হচ্ছে অবৈধ বসতি। এতে পরিবেশের ওপর যেমন মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, তেমনিভাবে চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণিগুলো। চকরিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এমন বাস্তবতা তুলে ধরে গত ৩০ মার্চ ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের এক অনুষ্ঠানে বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরীর কাছে অভিযোগ করেন চকরিয়া উপজেলা থেকে নির্বাচিত কঙবাজার জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের বন এবং পরিবেশ সম্পাদক লায়ন কমরউদ্দিন আহমদ। তিনি অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর কাছে আহবান জানিয়ে বলেন, আগামীদিনের সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজনে বনাঞ্চল ও জীববচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। সেইজন এখনই দরকার চকরিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তার আবেদনের পরও মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের জবাব দেয়নি। স’ানীয় পরিবেশ সচেতনমহল অভিযোগ তুলেছেন, সরকারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল দেখভাল এবং বনভূমি রক্ষার জন্য বনবিভাগ থাকলেও তাদের কার্যক্রম একেবারে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। ক্ষেত্র-বিশেষে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে এখানকার বনাঞ্চল দিন দিন বৃক্ষশূন্য হওয়ার পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ বসতি গড়ে উঠার পেছনে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের আচরণ রহস্যজনক বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবেশ সচেতন মহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বিশালায়তনের বনভূমি বলতে গেলে কার্যত অরক্ষিত হয়ে রয়েছে।

সবুজের সমারোহের পরিবর্তে এখন কোথাও কোথাও আছে শুধু ন্যাড়া পাহাড়। আবার কোন কোন স’ানে বনদস্যু ও ভূমিদস্যুদের করাল গ্রাস থেকে ন্যাড়া পাহাড়ও রক্ষা করা যাচ্ছে না। সেখানে শত শত অবৈধ বসতি স’াপনের পাশাপাশি পাহাড় কেটে সাবাড় করে বিক্রি করা হচ্ছে মাটি। বনবিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের দুটি, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ৫টি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জের ৩টি, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের ১টিসহ মোট ১১টি বনবিটের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার একর বনভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ও সৃজিত বৃক্ষে পরিপূর্ণ ছিল এক সময়। এসব নান্দনিক বনরাজিতে পরিপূর্ণ চকরিয়া ছিল যেন সৌন্দর্য্যের অপূর্ব লীলাভূমি। বনাঞ্চলের গর্জন, চাপালিস, তেলসুর, চাম্পাফুল, জাম, গামারি, বৈলামসহ সৃজিত সেগুন প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া হরেক প্রজাতির বাঁশ, বেতসহ লতাপাতার সমারোহ।

বর্তমানে বৃক্ষশূন্য পাহাড়গুলো কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও বেশিরভাগ বনভূমি উজাড় হয়ে গেছে। বনদস্যু ও ভূমিদস্যুরা বিনাবাধায় বিক্রি করছে ন্যাড়া হয়ে পড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ জায়গা। বনবিভাগ এক সময় বন রক্ষায় সচেষ্ট থাকলেও বর্তমানে সেই তৎপরতা বনকর্মীদের নেই। তবে মাঝেমধ্যে পাহাড়ে থাকা গাছগুলো প্রভাবশালী বনদস্যুরা লুট করে নিয়ে গেলেও বনকর্মীরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে কৌশলে আদালতে মামলা দায়ের করা হয় চুনোপুটিদের বিরুদ্ধে। কঙবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ফাঁসিয়াখালী বিটের অধীনে রয়েছে বন্যহাতির অভয়াশ্রম।

কিন’ এখন সেখানে দেখা মেলবে ন্যাড়া পাহাড় আর পাহাড়। ফাঁসিয়াখালী বিটের অধীন উচিতার বিল মৌজার কয়েকশত হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ন্যাড়া পাহাড়ে কয়েকবছর আগে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়নের অধীনে বাগান সৃজনের উদ্যোগ নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপকারভোগী নির্বাচন করে প্লট আকারে বরাদ্দ দিয়ে সামাজিক বনায়নের অধীনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে সামাজিক বনায়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে রোপন করা হয় লাখ লাখ চারা। কিন’ স’ানীয় প্রভাবশালী চক্রের অপতৎপরতার মুখে বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেই সামাজিক বনায়ন। পাশাপাশি আলোচিত উচিতার বিল মৌজার অন্তত অর্ধ শতাধিক পাহাড় কেটে সাবাড় করে সেই মাটি বিভিন্ন পরিবহনে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রির উদ্দেশ্যে।চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এম আর মাহমুদ বলেন, ‘বনবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাপটের কারণে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

আবার সব কর্মকর্তা যে একেবারে সাধু তাও বলা দুষ্কর। এতে একদিকে প্রভাবশালী মহলের দাপটের পাশাপাশি বন কর্মকর্তাদের নিরব দর্শকের ভূমিকার কারণে চকরিয়া উপজেলার বনাঞ্চলের সবুজের সমারোহ একেবারে লোপ পাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে ডুলাহাজারা বনবিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ইটভাটা ও তামাক চুল্লিতে ব্যবহারের কারণে দিন দিন পাহাড়ি সমতল ভূমিতে এবং ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হচ্ছে। -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*