ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চকরিয়ায় ‘গুম’ মা-মেয়ে পতেঙ্গায় জীবিত উদ্ধার

চকরিয়ায় ‘গুম’ মা-মেয়ে পতেঙ্গায় জীবিত উদ্ধার

Coxs-Pic4-2-6-18-622x525

নিউজ ডেক্স : চকরিয়ায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ও ৬ বছরের মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার এক বছরের মাথায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজারের টিএসপি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর মা ও মেয়েকে শনিবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পিবিআই।

চকরিয়ার বড়ইতলী ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া গ্রামের নবী হোসেনের মেয়ে সেতারা বেগমকে ২০১১ সালের ২২ জুলাই বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পর থেকে সেতারা বেগমের ওপর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে নির্র্যাতন করে আসছিল। এ অভিযোগ এনে গত ১ এপ্রিল নবী হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারে একটি মামলা করেন।

এতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে নানাভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৫ মে ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে (নবী হোসেন) ১ লাখ টাকা এনে দিতে মেয়ে সেতারা বেগমকে চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এতে সেতারা বেগম অস্বীকৃতি জানালে স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে হত্যা করে লাশ গুম করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জেলাকে দায়িত্ব দেন।

পিবিআই কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দায়িত্ব প্রদানের পর পিবিআই মামলার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে বিবাদীদের মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার জন্য এ মামলা করেছে মর্মে পিবিআইয়ের কাছে প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিবিআই সেতারা বেগম ও তার মেয়ে নুসরাত জাহান মিতুকে উদ্ধারে অভিযানে নামে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় কক্সবাজারের পিবিআই সদস্যরা তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালান। অবশেষে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে আত্মগোপনে থাকা পতেঙ্গা থানাধীন স্টিল মিল বাজারের কাছে টিএসপি গেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সেতারা বেগম ও তার ৬ বছরের শিশু মেয়েকে।

সেতারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, স্বামী তাকে নির্যাতনের কারণে তিনি শিশু মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*