ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | গৃহকর নিয়ে যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে সেসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : মেয়র

গৃহকর নিয়ে যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে সেসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : মেয়র

ajm-nasir

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একক উদ্যোগে নগর আওয়ামী লীগের সভা আহ্বান সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন নগর সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এছাড়া গৃহকর নিয়ে যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে সেসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর নিয়ে নগর সভাপতি আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একক উদ্যোগে সভা আহ্বান এবং সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকাল (২২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আমি মেয়র হলেও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির পরামর্শক্রমে সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান করেন কিন্তু বিগত ২০ অক্টোবর ও এর পূর্বে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতির বাসভবনে কয়েকটি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার সাথে কোন ধরনের আলাপ বা কথা বলা হয়নি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বলে আমি মনে করি। আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হলেও দলের সাধারণ সম্পাদক। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বাড়ানো ও জনমত সরকারের অনুকূলে রাখা আমার দায়িত্ব। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দলের সভাপতির সাথে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা ডাকা ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা আমার দায়িত্ব। দলীয় সভাপতির বাসভবনে সম্প্রতি কয়েকটি বৈঠক এবং বিগত ২০ অক্টোবরের সভার বিষয়ে আমি অবহিত নই। তবে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ঐ সভায় পৌরকর নিয়ে দল ও সরকারকে বিব্রত করা হচ্ছে মর্মে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তা কোন ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নহে। বরং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরী কমিটির অনেককে অবহিত না করে সভায় যেসব আলোচনা করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিমূলক ও সঠিক নয়। হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমি বিভিন্ন সংবাদ ও সভার মাধ্যমে মেয়র হিসাবে আমার অবস্থান তুলে ধরেছি। এ বিষয়ে সাবেক মেয়র নিশ্চয়ই অবহিত আছেন। সিটি কর্পোরেশন রাষ্ট্রের বিধিবদ্ধ আইন দ্বারা পরিচালিত এবং সরকার সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর হোল্ডিং ট্যাক্স পুন:মূল্যায়ন করার আইনি বিধানের আলোকে বর্তমানের হোল্ডিং ট্যাক্স পুন:মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

আ জ ম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, মেয়র সরকারের অংশ ও প্রতিষ্ঠান। যিনি মেয়র তাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে চলতে হয় এবং তার মধ্যেই উন্নয়ন ও জনসেবা পরিচালনা করতে হয়, কথাটা বার বার আমি বোঝাতে চেষ্টা করেছি। পৌরকর নিয়ে অনেক আলোচনা–সমালোচনা হচ্ছে অথচ আজ পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাইনি। তবুও সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও জনপথের উন্নয়ন, ময়লা–আবর্জনা অপসারণ, নালা ও খাল পরিচ্ছন্ন রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শকে স্বাগত জানাই। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মেয়রের দায়িত্ব পালনে মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তির উর্ধ্বে উঠে আমাকে সহযোগিতা করবেন এটা আমার প্রত্যাশা। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ, গ্যাস, চউক, ওয়াসা, বন্দর, পুলিশ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময়কে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে কার্যকরী কমিটির সভা করে এ সব কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে সংগঠন গতিশীল হতো, নেতৃত্বের ভাবমূর্তি বিকশিত হত বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পৌরকর বিষয়ে আইনি কাঠামো কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা কম। গৃহকর নির্ধারণে এসেসমেন্ট করা একটি আইনের বিধান। যা প্রতি পাঁচ বছর পর পর সু–নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনকে পালন করতে হয়। বিএনপি মনোনীত সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমের সময়ও এসেসমেন্ট হয়েছিল। আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে পৌরকর ও রেইট ধার্য করা হয়েছিল। আজ যারা গৃহকর নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছেন, সেদিন তারা রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ ছিলেন। এর কারণ আজো জনগণ জানতে পারেনি। যদি জনগণের প্রতি এতই দরদ থাকত তাহলে আজকের মতই সোচ্চার হতেন। কি কারণে সেইদিন তারা নিশ্চুপ ছিলেন? তা নগরবাসী জানতে চায়। পূর্বের মেয়রের আমলে এসেসমেন্টকালে কোন বাদ–প্রতিবাদ হয়নি, তাহলে এখন কেন ‘রিভিউ বোর্ডে’ আপত্তি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই এতো হৈ–চৈ? এ কারণেই কর্মসূচিগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আমি মনে করি।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনেও এসেসমেন্ট শুরু হয়েছে, একই আইনের ধারা প্রয়োগ করে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তো কোন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারা ঐ বিষয়ে কোন সভা–সমাবেশ বা কোন বিবৃতিও প্রদান করেন নি। ১০–২০ গুণ এমনকি ৫০ গুণ পর্যন্ত গৃহকর বাড়ানো হয়েছে এমন অভিযোগ মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন করা এসেসমেন্টে সর্বমোট ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৪৮টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে প্রস্তাবিত বার্ষিক কর ও রেইট ৮৫১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে নতুন ২৮ হাজার ৭০২টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে কর রেইট ৪৭ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা। ২০০৮–২০০৯ হতে ২০১১–২০১২ অর্থ বছর পর্যন্ত এবং সে সময় হতে ২০১৫–২০১৬ সাল পর্যন্ত কোয়াটারলি এসেসমেন্ট সহ পূর্বের এসেসমেন্ট অনুযায়ী ধার্যকৃত মোট দাবির পরিমাণ ছিল ২০০কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। বর্তমান এসেসমেন্ট হতে নতুন হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ধার্যকৃত কর ও রেইট বাদ দিলে মোট দাবির পরিমাণ ৮০৪ কোটি টাকা। সিটি কর্পোরেশন কর তফসিল ২০১৬ অনুযায়ী ইমারত ও জমির উপর কর ৭ শতাংশ, ময়লা নিস্কাশন রেইট ৭ শতাংশ, সড়ক–বাতি ৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য কর ৮ শতাংশ অর্থাৎ সর্বমোট ২৭ শতাংশ কর ও রেইট নেয়ার বিধান থাকলেও চসিক নগরবাসীর সুবিধার্থে পূর্বের ন্যায় ২৫টি ওয়ার্ডে ১৭ শতাংশ এবং ১৬টি ওয়ার্ডে ১৪ শতাংশ কর আদায় করার সিদ্ধান্ত অব্যাহত রেখেছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে ও আইনের আলোকে পূর্বতন ১তলা বাড়ি আজ বহুতলে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে আয়ের সাথে সংগতি রেখে নিয়মমাফিক সেক্ষেত্রে পৌরকর বৃদ্ধি পাবে– এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরো বলেন, এতদসত্ত্বেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রস্তাবিত গৃহকর (পৌরকর) নিয়ে করদাতাদের যে কোন ধরনের অভিযোগ আপত্তি ‘রিভিউ বোর্ডে’ নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রিভিউ বোর্ডে প্রস্তাবিত করকে সহনীয় পর্যায়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি মেয়র হিসাবে বলেছি রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্তে সকলেই খুশি হবেন। বিধি অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশেষ সুবিধা পাবেন এবং বোর্ডের মাধ্যমে আরো কিছু বাড়তি সুবিধা নাগরিকদের দিতে আমি আগ্রহী। যেমন দরিদ্র, অস্বচ্ছল ও শহরের আদি বাসীদের নূন্যতম কর ধার্য্য করা, ব্যাংক ঋণ থাকলে তা সমন্বয় করা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিশেষ ছাড় দেয়া যাবে। প্রয়োজনে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্য হতে ১/২ জন প্রতিনিধিও রিভিউ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের চিন্তা, চেতনা, ধ্যানধারণা ও মনমানসিকতার উন্নয়ন ও পরিবর্তন খুবই জরুরি। সিটি কর্পোরেশনকে কাঙ্খিত সেবা প্রদানে সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মানসে কর্পোরেশনের প্রাপ্য কর ও ফি পরিশোধ করার ইতিবাচক মনমানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা উন্নয়ন বান্ধব চিন্তা চেতনার দিকে অগ্রসরমান থাকা অবস্থায় আমাদের সকলকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সু–দীর্ঘ ১৭ বছর মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি একজন প্রবীণ নেতা; এক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে কোন পরামর্শ থাকলে, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে তা আমার সাথে আলোচনা করতেই পারেন। সেক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর মধ্যে অবশ্যই আমি পরিকল্পিত নগরায়নে ও জনস্বার্থে তাঁর পরামর্শকে প্রাধান্য দেবো। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র ছিলেন। আইনি কাঠামোর মধ্যে তিনি সহযোগিতা দেবেন, এ প্রত্যাশা আমার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগরের ৬টি আসনেই আমরা জয়লাভ করতে চাই, প্রতিটি আসনে দলের একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ফলে প্রার্থিতা নিয়ে কোনরূপ দলীয় কোন্দল কাম্য নয়। আমাদের সকলকে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার চেষ্টা করতে হবে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারণায় দলের সাধারণ নেতা, কর্মীবৃন্দ স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্তির বেড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছেন–যা কাম্য নয়। আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ, জাতি ও নগরবাসীর স্বার্থে, সরকারের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল রাখতে এবং সাধারণ নাগরিকদের মনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান। –আজাদী প্রতিবেদন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*