ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | খোলা স্থানে চিকিৎসা বর্জ্য ‘বিষফোঁড়া’

খোলা স্থানে চিকিৎসা বর্জ্য ‘বিষফোঁড়া’

cmch-dust-management-proje

নিউজ ডেক্স : খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য। এতে হাসপাতালের রোগী ও দর্শনার্থীরা স্বাস’্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে ময়লা-দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বাগানবাড়ি এলাকায় চলাচল রাস্তার পাশেই ফেলা হচ্ছে বর্জ্যগুলো। যার পাশ ঘেঁষে রয়েছে হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড। এছাড়াও অন্যপাশে পরমাণু শক্তি কমিশনের অফিস, হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স’াপনাও রয়েছে। যার ফলে বিপাকে পড়ছেন রোগী-দর্শনার্থীসহ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা।

এছাড়াও কিছু লোককে দেখা গেছে ময়লার ভাগাড় থেকে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের সুঁই, ব্যান্ডেজ, গ্লাভস, পলিপ্যাকগুলো কুড়িয়ে নিতে। যেগুলো অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে নার্সিংহোম, হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে বলে আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেয়ে আফরিনকে নিয়ে সোমবার হাসপাতালে এসেছেন পাহাড়তলী বাসিন্দা সুখী আকতার। আফরিন ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনদিন। সুখী আকতার বলেন, ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে হয়ে রাস্তায় গেলেই দুর্গন্ধের জন্য দাঁড়ানো যায় না। তাই যতদিন হাসপাতালে ছিলাম। সেদিকে যায়নি।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে বর্জ্যগুলো ওয়ার্ড থেকে ময়লার ভাগাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ কাজের জন্য আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কিছু কর্মী নিয়োগ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিন বছর ধরে বর্জ্যের কাজ করা আমির হোসেন নামের এক কর্মী বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সিরিঞ্জ, স্যালাইনের সুঁই, ব্যান্ডেজসহ সবধরণের বর্জ্য ভাগাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’ অথচ পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস’াপনা আইনে সিরিঞ্জ, সুঁই, ব্যান্ডেজসহ ইনফেকশাস বর্জ্যগুলো খোলা স’ানে ফেলা নিষিদ্ধ।

স্বাস’্যমন্ত্রণালয়ের হিসাবানুযায়ী, চট্টগ্রামে বৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। এর বাইরেও রয়েছে অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হিসাবমতে, প্রতিদিন ২০-৩০ টন চিকিৎসাবর্জ্য তৈরি হয় এইসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে। কিন’ চট্টগ্রামে এখনো তৈরি হয়নি কোনো আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে বর্জ্য বিনষ্ট ও শোধন করার জন্য ইনসিনাইরেটর (চিকিৎসাবর্জ্য বিনষ্ট করার চুল্লি) তৈরির উদ্যোগে নেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন’ স্বাস’্য মন্ত্রণালয় থেকে সেটির জন্য বাজেট দেয়া হয়নি। এরপর নতুনভাবে ওয়েস্ট ডিস্পোজাল সিস্টেম নামের নতুন আরেকটি প্রকল্পের চাহিদা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠান কর্তৃপক্ষ। সেটিও দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন পড়ে আছে।

খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার নিয়ম নেই উল্লেখ করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, আমরা ইচ্ছা করে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলছি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেকবার চেয়েছে আধুনিক বর্জ্য শোধণাগার তৈরি করতে। কিন’ মন্ত্রণালয় বাজেট না দিলে, কিভাবে আমরা সেটি তৈরি করবো।’

এছাড়াও পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, এখন আমরা চেষ্টা করি, কিভাবে বর্জ্যগুলো দ্রুত সরিয়ে নেয়া যায়। এ লক্ষে নিয়োগ করা হয়েছে আলাদা জনবল। প্রতিদিন সিটি করপোরেশন নির্দিষ্ট বর্জ্য তাদের গাড়িতে নিয়ে যায়। এছাড়াও বাকিগুলো বেসরকারি বর্জ্য শোধানাগার সংস’ার মাধ্যমে চালিয়ে নিচ্ছি আমরা ।

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, হাসপাতাল থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ ধরনের বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এদের মধ্যে ভয়ানক হচ্ছে সংক্রামক বর্জ্য। এগুলো হচ্ছে: রক্ত, পুঁজ, দেহরস দ্বারা সংক্রমিত গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, স্পঞ্জ, সোয়াব, মব, প্লাস্টার, ক্যাথিটার, ড্রেনেজ টিউব, রক্ত সঞ্চালনের ব্যাগ-টিউব, রক্ত দ্বারা সংক্রমিত স্যালাইন সেট, জমাট বাঁধা রক্ত বা দেহরস, ডায়রিয়া রোগীর সংক্রমিত কাপড়-চোপড়, সংক্রমিত সিরিঞ্জ, মানবদেহের কেটে ফেলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, টিস্যু, টিউমার, গর্ভফুল, অব্যবহৃত এক্সরে মেশিনের হেড, রেডি-অ্যাকটিভ আইসোটোপ ইত্যাদি। এসব বর্জ্য নিয়ম অনুযায়ী বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে ইনসিনাইরেটরে বিনষ্ট ও শোধন করতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস’াপনা আইনে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস’াপনা কী ধরনের হওয়া উচিত এবং তা মেনে চলার জন্য চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কারণ সেখানে ইনফেকশাস বর্জ্য রয়েছে। যেগুলো ধ্বংস করা না হলে রোগজীবাণু ছড়াবে।’
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অটোক্ল্যাভিংয়ের মাধ্যমে এইসব বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করা কথা। কালার কোড অনুযায়ী আলাদা আলাদা পাত্রে রাখার কথা পরিত্যক্ত বর্জ্যগুলো। কিন’ সেটি হচ্ছে না। বর্জ্য ধ্বংস করতে সেখানে কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না। তাই আমরা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে একটি প্রাইভেট সংস’াকে সে দায়িত্ব দিয়েছি। সংস’াটি ইনসিনেরেটর পদ্ধতিতে বর্জ্যগুলো ধ্বংস করে।’ -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*