ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীদের একমাত্র দু:খ এখন চাক্তাই খাল

খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীদের একমাত্র দু:খ এখন চাক্তাই খাল

pani-3

নিউজ ডেক্স : প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে ভাসছে চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারী বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। তার উপর বৃষ্টির হানা। এতেই ব্যবসা লাটে উঠছে ব্যবসায়ীদের। জলে ভিজে কোটি টাকা লোকসান দিয়ে কেউ কেউ সর্বশান্তও ইতোমধ্যে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের একমাত্র দু:খ এখন চাক্তাই খাল। যে খাল উপচে পানি উঠে; কিন্তু নামে না। তাদের মতে এই চাক্তাই খাল একসময় চট্টগ্রামের নৌ-বাণিজ্যের হৃদপিন্ড ছিল। আর এখন এই খাল ভরাট হয়ে ব্যবসায়ীদের বোবা কান্নায় পরিণত হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত ৪-৫ বছর ধরে শীতকাল ছাড়া বছরের ৮ মাস জোয়ারের পানিতে দেড় থেকে দুই ফুট উচ্চতায় ডুবে থাকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। শুরুর দিকে জলে ভিজে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দোকানের সামনে ৩-৪ ফুট উচু দেয়াল তুলে ক্ষতি থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্রমেই চাক্তাই খাল ভরাট ও দখলে পরিত্রাণ পায়নি ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, প্লাষ্টিক জাতীয় আবর্জনায় চাক্তাই খালের তলা প্রায় ৫-৬ ফুট ভরাট হয়ে গেছে। সেই সাথে ক্রমেই বেড়েছে বঙ্গোপসাগরে সাগরে জোয়ারের প্রবণতাও। জোয়ারের সময় পানি খাল উপচে প্রবেশ করার পর ৪-৫ ঘন্টা পানিতে ডুবে থাকতে হয়। জোয়ার কমলেও সে পানি আর নামে না।

চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারনে পানি জমার হার বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহের শেষের দিকে শুরু টানা বর্ষণে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রুপ নিয়েছে। এ বৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের কম করে হলেও সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার মালামাল ভিজে নষ্ট হয়েছে বলে জানান চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ী নেতা সিদ্দীকুর রহমান।

তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার হঠাৎ প্রবল জোয়ারে খাতুনগঞ্জের ৩ হাজার দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। এভাবে পানিতে ডুবে থাকলে এবং জোয়ার উঠা-নামা অব্যাহত থাকলে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ ছেড়ে ব্যবসায়ীদের পালাতে হবে।

আদা-রসুন ও পিঁয়াজের বড় আমদানিকরক মেসার্স ফরহাদ ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী নুর মোহাম্মদ এ প্রসঙ্গে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জে সর্বোচ্চ পরিমাণ জোয়ারের পানি ওঠেছে। ৪-৫ ঘন্টার জোয়ারের পানিতে কম-বেশি সব দোকানে পানি ঢুকেছে। তার মতে, ৯১ এর প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাসের পর এবার সবচেয়ে পানি হয়েছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভোগ্যপণ্যে জড়িত আমদানিকারক, আড়তদার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা। ভোগ্যপণ্যেও ক্ষয়ক্ষতির কারণে দাম বাড়বে, যা ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়বে।

চাক্তাইয়ের চাল ব্যবসায়ীর সভাপতি ওমর আজম বলেন, চাক্তাই খাতুনগঞ্জে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি দোকান আছে। ৯০ শতাংশ দোকানে পানি ঢুকে ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে। তবে আজ বুধবারের চেয়েও গতকালের ক্ষয়ক্ষতি ছিল বেশি। ক্ষয়ক্ষতি তিন শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রতি চালের গুদাম নীচতলায়, সবগুলো গুদামে পান প্রবেশ করেছে। এ ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে উঠবো বুঝতে পারছি না। মামুন নামে একটি চালের আড়তের কর্মচারীর মতে, অনেক ব্যবসায়ী সূর্য ওঠলে রৌদে শুকিয়ে অনেক পণ্য নতুনভাবে বস্তাবন্দি করে বাজারজাত করবে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক সৈয়দ সগীর আহমেদ বলেন, টানা চার দিনের বর্ষণ আর জোয়ারের পানির যন্ত্রণায় কাঁদছে ব্যবসায়ীরা। ভরাট হয়ে গেছে খাল-নদী। পলি জমে চাক্তাই খালের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে। ব্যবসায়ীদের পক্ষে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির জন্য দাবি জানিয়ে আসলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জোয়ারের পানির কারণে গত কয়েকদিনে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তিনশত কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের এ সমস্যাকে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে না দেখে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে নিয়ে সমাধানে এগিয়ে আসার দাবি জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।

তিনি বলেন, চাক্তাই খালের সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান করা না গেলে দেশের বৃহত্তম পাইকারী বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা লাটে ওঠবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের গুদামে পানি প্রবেশের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অজুহাতে দাম বাড়ার আশংকা করছেন অনেকে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, গতকাল জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮ ফুটের মতো ছিল। ফলে জোয়ারের পানি ঢুকে লোকালয়সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকায় এমন কোন নীচতলার দোকান, গুদাম কিংবা আড়ত ছিল না যেখানে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেনি।

২৬ জুলাই বুধবার বিকেলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, চাল, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আদা, নারকেল মসল্লা জাতীয় বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানের ভেতরে জোয়ারের পানিতে ভাসছে। ডাল, চিনি ও সাবান গলে পানিতে ভাসছে। শুঁটকিপট্টি, ডালপট্টি, তেলপট্টি গলিতেও অথৈ জল। অধিকাংশ দোকানের কর্মচারীরা পণ্য রক্ষায় কাজে ব্যস্ত। অন্যদিকে মালিকরা চৌকির ওপর বসে আছেন।

-সিটিজি টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*