ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কৃষিজমিতে চলছে আবাসনের গাঁথুনি

কৃষিজমিতে চলছে আবাসনের গাঁথুনি

shomserpara-feild-helal-1

নিউজ ডেক্স : কৃষিজমিতে চলছে আবাসনের গাঁথুনি। নগরীর মোহাম্মদপুর, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, শহীদনগর ও পাঁচলাইশ ওয়াজেদিয়ার মধ্যবর্তী বিশাল এলাকার কৃষিজমি বর্ষাকালে জলাধার এবং অন্যান্য মৌসুমে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন’ কিছুদিনের মধ্যে হারিয়ে যাবে এসব কৃষিভূমি, সেখানে গড়ে উঠবে বহুতল ভবন। ইতিমধ্যে কয়েকটি স’ানে ভবন গড়ে উঠছে এবং বিস্তৃত এলাকায় আইলের (দুটি জমির সীমানার জন্য থাকা মাটির স্তূপ) পরিবর্তে সীমানা দেয়াল শুরু হয়ে গেছে।

সম্প্রতি আতুরার ডিপো এলাকা থেকে নাজিরহাটগামী রেললাইন ধরে চান্দগাঁও শমসেরপাড়া এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, রেললাইনের ধারে ও ভেতরের বেশিরভাগ জমিতে আর আইল নেই। মাটির সেই আইলের পরিবর্তে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট উঁচু সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সীমানা দেয়ালের মধ্যে কোথাও কচুর চাষ, কোথাও লালশাক কিংবা অন্যান্য সবজি চাষ করা হয়েছে।

একইভাবে নগরীর উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ কাট্টলী, হালিশহর ফইল্যাতলি বাজারের পশ্চিমে, হালিশহর আনন্দবাজার এলাকা, পতেঙ্গার মাইজপাড়া, মুসলিমাবাদ, ফুলছড়িপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমিও পর্যায়ক্রমে আবাসনের ভিটিতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এভাবে নগরীর কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়াকে অশনি শঙ্কেত জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন, ‘দেশের যেকোনো উন্নয়নে কিংবা কারো কোনো প্রয়োজনে সবার আগে বিনষ্ট হয় কৃষিজমি। এই কৃষিজমি ব্যবহারে কারো কাছ থেকে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। এভাবে কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়া দেশের খাদ্য উৎপাদনে ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমরা যে শিল্পায়নের কথা বলে কৃষিজমিগুলো গ্রাস করছি, কৃষি উৎপাদন কমে গেলে দ্বিগুণ দামে কৃষিজপণ্য আমদানি করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, কোন ভূমি কৃষির জন্য প্রয়োজন, কোন ভূমিতে কৃষিজ পণ্য উৎপাদিত হবে না সেটা কৃষি বিভাগ বলতে পারবে। তাই কোন ভূমি কৃষির জন্য বরাদ্দ থাকবে তা আগে থেকেই চিহ্নিত থাকবে এবং তা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। আর কৃষি ভূমিতে কেউ কিছু করতে হলে কৃষি বিভাগ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিধানও চালু করা প্রয়োজন।

কৃষি বিভাগের এই বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করে চট্টগ্রামের অন্যতম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল’র ব্যবস’াপনা পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘একটি শহরের জন্য অবশ্যই উন্মুক্ত স’ান, জলাধার, সবুজ জোনসহ প্রভৃতি জোন থাকা উচিত। নগরায়ণ করতে গিয়ে বেশিরভাগ কৃষিজমি দখল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ঢালাওভাবে কৃষিজমি দখল হয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কোন কাজে কত শতাংশ ভূমি ব্যবহার করা হবে এর জন্য একটি গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন। আমাদের একটি ড্যাপ (ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান) থাকলেও তা তেমন কাজে আসছে না। অপরিকল্পিতভাবে এগুচ্ছে আমাদের উন্নয়ন। এর নিরসন হওয়া দরকার।’

কৃষিজমি কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না জানিয়ে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানসমূহের সংগঠন রিহ্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিহ্যাব চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা আবাসনের উদ্যোগ নিতে বলেছেন। আর এক্ষেত্রে আবাসনে উপরের দিকে বহুতল ভবন নির্মাণ করার তাগিদ দিয়েছেন। আমরাও চাই কৃষিজমি রক্ষা হোক।’

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ইস্ট ডেল্টা হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস’াপনা পরিচালক এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী বলেন, কোন ভূমি কী কাজে ব্যবহার করা যাবে সেবিষয়ে সঠিক নির্দেশনার অভাবে যত্রতত্রভাবে মানুষ ভূমি ব্যবহার করছে। আমাদের আইন রয়েছে কিন’ তা সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না বলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে। পরিকল্পনা ও আইনের প্রয়োগের সদ্ধ্যবহার করা গেলে কৃষিভূমি তথা সব ধরনের ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী বলেন, ‘সিডিএ আওতাধীন এলাকার কোন ভূমি কী কাজে ব্যবহার করা হবে সেবিষয়ে একটি গাইডলাইন ড্যাপে রয়েছে। ড্যাপে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে নতুন করে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে। সেই মাস্টারপ্ল্যানে কোনটি কৃষিজমি হবে সনাক্ত করা হবে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে।’

উল্লেখ্য, দেশে দ্রুতহারে কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা নির্মাণের কারণে প্রতিদিনই কমছে ফসলি জমি। এই কমে যাওয়া খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০১০ এবং কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন ২০১০ অনুযায়ী কৃষিজমি কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কৃষিজমি ভরাট করে বাড়িঘর, শিল্পকারখানা ইটভাটা বা অন্য কোনো অকৃষি স’াপনা কোনোভাবেই নির্মাণ করা যাবে না মর্মে একটি নামমাত্র আইন থাকলেও এর শাস্তির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*