Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | করোনায় বদলে যাচ্ছে পেশা, কেউ জড়াচ্ছে চুরি-ছিনতাইয়ে কেউ ইয়াবা কারবারে

করোনায় বদলে যাচ্ছে পেশা, কেউ জড়াচ্ছে চুরি-ছিনতাইয়ে কেউ ইয়াবা কারবারে

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : করোনাকালে পেশা বদলে অপরাধ জীবন বেছে নিচ্ছে অনেকেই। চা দোকানির সাথে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার জোট বেঁধে করছে চুরি, ছিনতাই। করতে গিয়ে খুন করতেও দ্বিধা করছে না কেউ, অনেকে আবার স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভের আশায় ইয়াবা ব্যবসায় ঝুঁকছে অথবা হয়ে উঠছে অপহরণকারী। সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব-পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর একের পর এক বেরিয়ে আসছে এমন ঘটনা।

গত ৪ সেপ্টেম্বর নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন আইয়ূব আলী নামে এক ব্যক্তি, যিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তাকে যারা খুন করেছে তারা পেশায় পরিবহন চালক। পাশাপাশি ছিনতাই করে পিকআপ নিয়ে।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহির হোসেন এ প্রসঙ্গে জানান, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে রাতে শহরের বিভিন্ন নির্জন সড়কে পথচারীদের ছুরি দেখিয়ে কিংবা ছুরিকাহত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতেও একইভাবে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে তারা রিকশাযোগে বারিক বিল্ডিংগামী আইয়ূব আলীর পথরোধ করে তাকে ছুরিকাহত করে ব্যাগ ছিনতাই করে। পরে আহত আইয়ূব আলীকে মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি তদন্ত আরো জানান, ছিনতাইকারীদের একজন চালক, দুজন সামনে বসা থাকে এবং তিনজন পিকআপের উপরে থাকে। সুযোগ পেলেই গাড়ি থেকে ছিনতাই করে। গত ২ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও এলাকায় চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে দুই চোর। তাদের একজন মো. আনিসুল ইসলাম সুমন (৩১) একটি বেসরকারি ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করেছে। নিউমার্কেটে আইটি পার্ক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত। করোনাকালে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে নেমে পড়ে চুরিতে। তার সাথে ধরা পড়া মো. ফারুক (৩৬) গ্রামে চায়ের দোকান করতো। করোনার কারণে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চুরি পেশায় জড়িয়ে পড়ে। গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে তারা দুজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে দুজনই চুরির বিষয়টি স্বীকার করে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় ১৩ নম্বর রোডে একটি বাসায় চুরি করার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয় দুই চোর। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। মো. বরকত আলম (৬০) ছিল রিকশাচালক। পরে চালিয়েছে লেগুনা। এর মধ্যে সে জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায়। এতে তার আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়। সাত মাস আগে বাসা বদল করে নতুন বাসা নিয়েছে নয়াবাজার মৌসুমী আবাসিক এলাকায়। সেখানে বসেই বিক্রি করতো ইয়াবা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি বরকতের।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাশকুর রহমান বলেন, নয়াবাজার মৌসুমী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবাসহ বরকত আলমকে আটক করা হয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর হটলাইন নম্বরে (৯৯৯) ফোন পেয়ে এক যুবককে জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তাকে আটকে রাখার অভিযোগে তিন দোকান কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম েফসবুকে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে ডেকে এনে রুবেল নামে ওই যুবককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। ওইদিন রাতে তামাকুমন্ডি লেইন থেকে ওই যুবককে উদ্ধারের পাশাপাশি তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা নগরীর তামাকুমন্ডি লেইন, জলসা মার্কেট ও রিয়াজউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!