ব্রেকিং নিউজ
Home | শিক্ষাঙ্গন | উপাচার্যের বাসভবনে বিউটি পার্লার!

উপাচার্যের বাসভবনে বিউটি পার্লার!

university20170305205548

নিউজ ডেক্স : উপাচার্যের বাসভবনে বিউটি পার্লার বানানো হয়েছে। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাংলোয় স্কুল ও বিউটি পার্লার বানিয়ে বির্তকের মধ্যে পড়েছেন।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বেশ দাপটের সঙ্গে চলেন। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক প্যানেল সোনালী দলের সাবেক এ যুগ্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছে। ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ বাণিজ্য, ক্যাম্পাসে নিজের বাসভবনে বিউটি পার্লার দিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালানের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মো. মোদাচ্ছের খানের ছেলে শাওন খান এরইমধ্যে উপাচার্য নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছেন। সেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছেন। এর পাশাপাশি তিনি উপাচার্যের কবল থেকে পাবলিক এ বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষারও আহ্বান জানিয়েছেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপাচার্য বলেন, ‘আমার থেকে অনেক যোগ্য লোক থাকার পরও গোপালগঞ্জের ছেলে হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। কতিপয় বাইরের শিক্ষক আমার বিরোধিতা করে চলেছেন।

দুদকে অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওটার জবাব দেয়া লাগবে না। ওপর থেকে আমি এসব ম্যানেজ করে ফেলেছি।’ এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

অভিযোগ রয়েছে, তার আমলে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে এমএলএসএস পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা সমমানের পাসের কথা বলা হলেও অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থীদেরও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ বা ২ দশমিক ৫০ গ্রেডের প্রার্থীদেরও নিয়োগ প্রদান করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়োগবিধির পরিপন্থী। অথচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম যোগ্যতা লেখা ছিল দ্বিতীয় বিভাগ। উপাচার্যের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন প্রকল্পের (অব্যয়িত) প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নিয়ে আত্মসাৎ এবং প্রায় দুই কোটি টাকার অধিক মূল্যের বই ক্রয়ের অভিযোগ ছাড়াও দুই থেকে তিনগুণ অধিক মূল্যে কোটি টাকার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিষয়টিও রয়েছে।

ভর্তি বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ‘ভিসি কোটার নামে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে ফার্মেসি বিভাগ, আইন বিভাগ ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রমাণে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ফার্মেসি বিভাগে মেধাক্রম ২০৮৪ নিয়েও ভর্তি হয়েছেন মারিয়া খানম নামের এক শিক্ষার্থী। ১৩৩৩ মেধাক্রম নিয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ওবায়দুর রহমান নামে এক ছাত্র। অথচ এসব বিভাগে এক থেকে ১৫০ জন ছাত্রের বেশি ভর্তি হওয়ার কথা নয়। এর বাইরে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেও ভর্তি হয়েছেন মো. আকাশ নামে এক শিক্ষার্থী। ‘ভিসি কোটা’র নামে অনেক বিভাগে বিধিবহির্ভূতভাবে আরও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ রয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটা থাকলেও ভিসি কোটা বলতে কোনো কিছু নেই। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিজের বাংলোয় সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও একটি বিউটি পার্লার খুলে বসেছেন। উপাচার্য নিজে বিউটি পার্লার দেখভাল করেন। বিউটি পার্লারের সিরিয়ালও মেনটেন করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*