ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে শিল্পের চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে হবে

উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে শিল্পের চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে হবে

sheikh_hasina2-md20161208192648

নিউজ ডেক্স : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দক্ষ শ্রমশক্তির পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপক ও পেশাজীবী তৈরির মাধ্যমে এক্ষেত্রে বিরাজমান পরনির্ভরশীলতা দূর করে জাতীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শিল্পের চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পের প্রয়োজনে দক্ষ ব্যবস্থাপক তৈরির লক্ষ্যে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানাচ্ছি।

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দক্ষতা, নিয়োগ যোগ্যতা এবং শোভন কাজ’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সীমিত সম্পদের অতি ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। একটা সময় ছিল যখন কৃষিই ছিল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শুধু কৃষিখাত এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা মেটানো পারছিলো না। তাই ধীরে হলেও আমাদের অর্থনীতি শিল্প এবং সেবাখাতের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজারে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর প্রবেশ করছেন, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং সেবাখাতের প্রসার। বর্তমানে আমাদের জিডিপির প্রায় ৫৪ শতাংশ আসে সেবাখাত থেকে, ৩০ শতাংশ শিল্পখাত এবং ১৬ শতাংশ কৃষিখাত থেকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন শ্রমঘন খাত। আবার পণ্য উৎপাদন এবং সেবার ব্যয় হ্রাস করে সেগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে প্রয়োজন জনশক্তির দক্ষতার উন্নয়ন। পাশাপাশি, অভিবাসন-প্রত্যাশীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের চাহিদা ও মজুরি উভয়ই বৃদ্ধি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম-আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা যে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাচ্ছি, তা বাস্তবায়নের জন্য সকলক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। বিগত কয়েক বছরে মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ জনশক্তির চাহিদারও পরিবর্তন হয়। আমরা  এই চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও পরিচালিত সকল ধরণের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ডকে সু-সমন্বিত করে শ্রম বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়ন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের সামনে এখন এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তির যোগান বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উপার্জন সক্ষমতা অর্জন ও আয়বৃদ্ধি দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক হবে। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সফল হবো।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, মূলধন ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সকল বিষয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে সকল স্তরে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিক-মালিক সৌহার্দ্যপূর্ণ শিল্প-সম্পর্ক স্থাপন, শ্রমিকদের আইনগত অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শ্রম কল্যাণের লক্ষ্যে বহুবিধ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য বীমা কর্মসূচি প্রবর্তন, কল-কারখানার কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পদির্শন অধিফতরকে শক্তিশালী করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণের পরিধি বৃদ্ধিসহ কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিস্তারে নতুন নতুন অবকাঠামো সৃষ্টি, বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ও নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অর্থের যোগান সহজ করার লক্ষ্যে সরকার জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ এবং শ্রমচাহিদার রূপান্তর জাতীয় অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।

তিনি বলেন, ‘শিল্পোদ্যোক্তাসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব ব্যতিত শুধু সরকারি উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কাঙ্খিত ফলাফল নিয়ে আসতে পারবে না। এজন্য আমি শিল্পপতিদের স্ব স্ব কারখানায় কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অধিক সংখ্যক নারী ও প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগসহ শ্রমিকদের জন্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের রফতানি আয় বৃদ্ধি পেলেও তা মূলত তৈরি পোশাক ও সীমিত সংখ্যক বৈদেশিক বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের পণ্যের বৈচিত্র এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আমাদের মূলধন ও প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলিকে উন্নততর উৎপাদনশীলতার উপর ভিত্তি করে পুন:বিন্যাস করতে হবে। একইসঙ্গে  শিখতে হবে কী করে বর্তমান পণ্যসামগ্রীতে মূল্য সংযোজন করা যায়। দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মবিশ্বে উদ্ভাবন শক্তি, সৃজনশীলতা এবং কাস্টমাইজড উৎপাদনের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের জন্য আমাদের প্রস্তত থাকতে হবে। তখনই কেবল বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবার সাপ্লাই চেইনে আমরা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*