Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ঈদে সড়কে মৃত্যু ২৫৯ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ঈদে সড়কে মৃত্যু ২৫৯ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

image_printপ্রিন্ট করুন

road-acc-20180831123302

নিউজ ডেক্স : এবার কোরবানির ঈদের মওসুমে দেশের সড়ক–মহাসড়কে ২৩৭টি দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৯৬০ জন আহত হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদ যাত্রার শুরুর দিন ১৬ অগাস্ট থেকে ঈদের পর ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর বিডিনিউজের।

এই হিসাবে গত রোজার ঈদের চেয়ে কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা কমেছে। সেজন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে কৃতিত্ব দিচ্ছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। মোজাম্মেল বলেন, ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪.৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ২৩.৫৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২৪.১১ শতাংশ কমেছে। তবে গতবছরের ঈদুল আজহার তুলনায় নিহত ১৩.৫০ শতাংশ এবং আহত ১১.৬৭ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান খান ও আইনজীবী জোতির্ময় বড়ুয়াও উপস্থিত ছিলেন এ সংবাদ সম্মেলনে। ‘জবাবদিহিতার অভাবকে’ সড়কের মূল সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে যেগুলোর অর্ধেক চাইলে এড়ানো যেত। যেটা হওয়ার কথা ছিল না সেটা হচ্ছে বলেই আমরা কথা বলছি।

হেলপার বা চালকের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ এবং মালিকপক্ষের চাপের মুখে চালকরা ‘রেস করতে বাধ্য’ হওয়ায় বাংলাদেশে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সাধুবাদ পেতে পারে। তবে জবাবদিহিতা তৈরির পথে অন্তরায় আছে বলে আমি মনে করি। সরকারের দুজন মন্ত্রীর পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির শীর্ষ পদে থাকার বিষয়ে ইংগিত করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, যিনি নীতিনির্ধারণ করছেন তিনি বা তারা একাধারে মালিক এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বও করছেন। মন্ত্রিপরিষদেই মালিকপক্ষের প্রতিনিধি, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি। সুতরাং জবাবদিহিতার জোরালো দাবি যখন আসবে, তখন অবধারিতভাবে তারা তাদের বিষয়টা তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। কিন্তু নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা তৈরির যে জায়গা, সে জায়গাটা দুর্বল করে ফেলছে এই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।

বাংলাদেশে দুই ঈদের মওসুমে নগর থেকে গ্রামের বাড়িতে যায় কোটি মানুষ। ফলে ওই সময় সড়ক মহাসড়কে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চাপ থাকে। ফিটনেসহীন যানবাহন, বেপরোয়া চালনার পাশাপাশি সড়কের দুরবস্থার কারণেও ওই সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানী অনেক বেড়ে যায়। গত রোজার ঈদের পর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৯ জন নিহত এবং ১২৬৫ জন আহতের তথ্য দিয়েছিল।

কিন্তু ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংগঠনটির বিরুদ্ধে ‘মনগড়া তথ্য’ প্রকাশের অভিযোগ আনেন এবং সমিতির নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গত ১০ জুলাই জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, একটা ভুয়া জনকল্যাণ সমিতি বাংলাদেশে আছে, যাদের কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। সামপ্রদায়িক রাজনীতি করে এরকম একটি লোক ওই সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়। সময়ে সময়ে তাকে মতলবি মহল আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়। আমি দেখি সমাজের অনেক বিশিষ্টজনও এই লোকটির সংবাদ সম্মেলনে এসে হাজির হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!