ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | অগ্নিকান্ড ঝুঁকিতে ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা

অগ্নিকান্ড ঝুঁকিতে ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা

K H Manik Ukhiya Pic 17-03-2018 (2)

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : বছরের পর বছর অগ্নিঝুঁকি নিয়েই চলছে উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত জীবন। ১৯৯১ সালে আশ্রিত কুতুপালং রেজিষ্ট্রাট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশ ঘেষে বনভূমির জায়গার ওপর শরণার্থী শিবিরগুলোকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাচাঁতে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও বান্দরবান সীমান্তে। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর প্রায় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। ক্যাম্পে ছোট ছোট ঝুঁপড়ি ঘরে বৃদ্ধ শিশুসহ অসংখ্য লোক অস্বাস্থকর পরিবেশে বসবাস করছে। শর্টসার্কিট কিংবা অসাবধানতাবসত যে কোনো সময় অগ্নিকান্ডের আশংকা রয়েছে। ১৯৯১ সালে রোহিঙ্গা আসার পর অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল কাজ করছিল। পরে অস্থায়ী ফায়ার সার্ভিস প্রত্যাহার করা হয়। এমপি আব্দুর রহমান বদির প্রচেষ্ঠায় উখিয়ায় স্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিস ষ্ঠেশন নির্মান ও এবার রোহিঙ্গা আসার পর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ন সম্পাদক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্যে পলিথিনের ত্রিপল দ্বারা নির্মিত ঘরে এতই করুণ অবস্থা যে, যে কোন সময় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটতে পারে। অগ্নিকান্ড রোধে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস সুত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্প্রতি মহড়া দেয়া হয়েছে। এবং রোহিঙ্গাদের সচেতন করতে ফায়ার সার্ভিস প্রতিদিন কাজ করছে।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, কুতুপালং, লম্বাশিয়া,বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যম্পসহ প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে। আর রোহিঙ্গাদের ছোট্ট ঘরে ১০/১২ জনের সংসারে থাকা ও রান্নার কাজে অসাবধানতাবশত বড় ধরনের অীগ্নকান্ড ঘটতে পারে। এতে একটি ঘরে আগুন লাগলে পুরো ক্যাম্পে মুহুর্তেই জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেক স্থানীয় শ ম গফুর বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্যে এনজিওরা পাহাড় কেটে এখানকার পুরো পরিবেশ ধবংস করে ফেলেছে। গাছপালা না থাকায় অক্সিজেনের অভাবে প্রচন্ড গরমে এখন থেকে অস্থির। আল্লাহ না করুক ক্যাম্পে আগুন লাগলে ধু ধু মরুভূমির মতো পানি না পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*