Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়ায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নানা অব্যবস্থাপনা

লোহাগাড়ায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নানা অব্যবস্থাপনা

এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দেখা দিয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরে ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম স্টেডিয়ামে মাঠে খেলার অনুপযোগী পরিবেশ ও কাগজপত্রজনিত জটিলতায় একটি ফুটবল ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

দিনের প্রথম রাউন্ডের পঞ্চম খেলায় পুটিবিলা গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয় ও আইয়ুব ফাউন্ডেশন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ মুখোমুখি হয়। প্রথমার্ধ শেষে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার আগেই খেলা হঠাৎ স্থগিত ঘোষণা করলে খেলোয়াড়-শিক্ষার্থীরা হতাশ মনে মাঠ ছাড়েন। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাঠের পরিবেশ।

অভিযোগ রয়েছে, মাঠে এক ফুট উঁচু ঘাস, মাঝখানে বালুর স্তূপ, গোলপোস্টে নেট ঝুলে থাকা এসব কারণে শুরু থেকেই খেলার পরিবেশ ছিল না। উদ্বোধনী ম্যাচেও প্রচারণার কোনো আমেজ ছিল না।
এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে মাত্র ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। অথচ উপজেলার ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি ইউনিয়ন থেকেই কোনো দল রাখা হয়নি বলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ক্রীড়া বাবদ ৩ হাজার টাকা করে ফি নেয়া হয়েছে। ধারাভাষ্যকার না থাকায় মাঠে দর্শকের উপস্থিতিও ছিল হতাশাজনক।

মাঠে খেলা দেখতে আসা আবদুল মজিদ বলেন, অপরিচ্ছন্ন একটি মাঠে ফুটবল খেলা পরিচালনা করা হচ্ছে, যেটি খুবই দু:খজনক। ছেলেরা যেকোন সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন। ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, একসময় হাজারো দর্শক ও খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে মুখর থাকতো গ্রীষ্মকালীর প্রতিযোগীতা ফুটবল খেলা। কিন্তু সাম্প্রতিক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল আয়োজনের কারণে খেলাটি এখন হারাচ্ছে জনপ্রিয়তা ও ঐতিহ্য।

পুটিবিলা গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবি মুহাম্মদ সোলাইমান জানান, শিক্ষার্থীদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও হঠাৎ খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ অভিযোগ করে জানান, আমরা কাবাডি ও সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে নিয়মানুযায়ী আবেদন করেছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় স্কুলের নাম রাখা হয়নি।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু বকর জানান, নামে আহ্বায়ক করা হলেও কার্যত কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যথাযথ কাগজপত্র প্রদর্শন না করায় খেলা বাতিল করা হয়েছে। তবে খেলা শুরুর আগে কেন কাগজ যাচাই হয়নি, সে প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খেলা পরিচালনা করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাতো কিছুই জানাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!