
এলনিউজ২৪ডটকম: টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানির ঢলে লোহাগাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নদী, খাল ও ছড়ায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধের ভাঙন দেখা দেওয়ায় খালপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে ও গাছপালা পড়ে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে অনেক এলাকা।
জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার ডলু, টংকাবতী, হাঙ্গর, হাতিয়া, কুলপাগলি, বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন ছড়া ও জলাশয়ের পানি বিপৎসীমান উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে খালের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। পানির তোড়ে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের আবাদি জমি, ক্ষেতখামার ও সবজি চাষের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে অনেক মাছের খামার। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে খালপাড়ের অসংখ্য বসতঘর। পানি আরো বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ও পানি আরো বৃদ্ধি পেলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়বে। টানা বর্ষণের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজের জন্য বাইরে যেতে না পারায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজঘাটা এলাকায় টংকাবতী খালে উপচে ও পশ্চিম আমিরাবাদে ডলু খাল পাড়ের পুরাতন ভাঙন দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে খালের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বর্ষণে ডলুখাল ও হাতিয়ার খালের পানি বেড়ে ইউনিয়নের সিপাহি পাড়া, মিয়া পাড়া, সর্দানী পাড়া, চৌধুরী পাড়া, মরা ডলুকুল, ক্যামেলিয়া পাড়া, পাল পাড়া এবং ওজা পাড়াসহ অনেক এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে ওজা পাড়া এলাকায় দুই সহোদরের মাটির তৈরি বসতঘর ধসে পড়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ইউনিয়নের আরো বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া টানা বর্ষণে উপজেলার লোহাগাড়া সদর, পুটিবিলা, কলাউজান, চুনতি, পদুয়া, চরম্বা ও বড়হাতিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডলু, টংকাবতী, হাঙ্গর, হাতিয়া, কুলপাগলি, বোয়ালিয়া, থমথমিয়া ও সুখছড়ি খালসহ বিভিন্ন ছড়ার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব খালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আবার অনেক এলাকায় পানি উপচে পড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও মাছের খামার হুমকির মুখে পড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ও উজান থেকে আরো পাহাড়ি ঢল নামলে পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।
খাল পাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও খালের তলদেশের গভীরতা বেড়েছে ও বিভিন্নস্থানে পাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এরফলে বিভিন্নস্থানে খালের পাড় ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে ও খালপাড় তীরবর্তী জনবসতি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান জানান, টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে ও তার ছিঁড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনগুলো দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহীদ আহম্মেদ জাকির জানান, উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কিছু শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner