Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন দাবিতে ৩ ঘণ্টার ব্লকেড

লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন দাবিতে ৩ ঘণ্টার ব্লকেড

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0;

এলনিউজ২৪ডটকম: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে লোহাগাড়ায় ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টার থেকে দুপুর ১২টার পর্যন্ত ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে উপজেলা সদর বটতলী স্টেশনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দীর্ঘদিন যাবত অবহেলার শিকার হচ্ছে। ইতোপূর্বে এই মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে মহাসড়ক ব্লকেড কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে দাবির দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় মহাসড়ক ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সাথে একই কর্মসূচি সাতকানিয়ার কেরানিহাট ও কক্সবাজারের চকরিয়া স্টেশনে পালন করা হয়।

সকালে উপজেলা সদর বটতলী স্টেশনে ব্লকেড কর্মসূচি পালনের স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের উপর বাঁশ আর ব্যানার টাঙিয়ে অবরোধকারীরা অবস্থান করেন। ব্যানারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করার কথা লেখা ছিল। এ সময় তারা মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান দেন। ব্লকেড কর্মসূচিতে ফেষ্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও। কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দূর্ভোগ পোহাতে হয় দূরপাল্লার যাত্রী ও কক্সবাজারমুখি পর্যটকদের। এ সময় অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে যেতেও দেখা গেছে। পুলিশের একটি দল অবরোধকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সরবেন না বলে জানান। তবে এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দরমুখি গাড়ি, পরীক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবাসহ জরুরি সরকারি যানবাহন ব্লকেড আওতার বাইরে ছিল।

এদিকে খবর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। তারা অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দকে ব্লকেড কর্মসূচি প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেন। পরে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের আশ্বাসে ব্লকেড কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক এইচ এম তামিম মির্জা জানান, পর্যটন নগর কক্সবাজারের কারণে এই সড়ক সবসময় যাবাহনের চাপ থেকে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। এছাড়া দুই লেনের মহাসড়ক হওয়ায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম শেষে আমরা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছি। সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের ব্যাপারে দৃশ্যমান পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই নির্দিষ্ট সময়ে আগে ব্লকেড কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা না গেলে পুণরায় ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীকরণসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা অবহিত আছে। সবাই বিষয়টিতে আন্তরিক ও উদার অবস্থানে রয়েছেন। সকাল থেকে নবাগত পুলিশ সুপার ঘটনাটির খোঁজখবর নিচ্ছেন। শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। স্বত:স্ফূর্তভাবে তাদের সমর্থন রয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন সংস্থাকে অবহিত করতে চেষ্টা করবেন বলেও জানান। তবে দুপুর ১২টার দিকে ব্লকেড কর্মসূচি প্রত্যাহার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন ইস্যুতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সমাধানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!