
নিউজ ডেক্স: চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে রহস্যজনক মৃত্যুর ২৩ দিন পর এয়ার আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম জোয়ার গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল রাতে এয়ার আহমদ ফেনী জেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুরে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর আগেই অজ্ঞাত কারণে কয়েকজন তাকে আহত অবস্থায় সেখানে রেখে যায়। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ভোরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

নিহতের স্ত্রী বিবি খতিজা বলেন,“ঘটনার দিন দুপুরেও আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি রাতে বাবার বাড়িতে আসবেন বলেছিলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার চাচা মুন্সী, চাচাতো ভাই বাবলু ও মামুনসহ কয়েকজন লাঠিসোটা হাতে আমার স্বামীকে বাড়িতে এনে ফেলে রেখে যায়। আমি জানতে চাইলে তারা বলে, ‘তোর স্বামী আমাদের মারধর করেছে, তাই আমরাও মারছি।’ পরে তারা আমাকে মামলা করলে জেলে পাঠানোরও হুমকি দেয়।”
তিনি আরও বলেন, ভয় ও মানসিক চাপে প্রথমে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে ফেনী আদালতে মামলা দায়ের করেন। তিনি তার স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে আদালতের নির্দেশে মীরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের, ফেনী মডেল থানা পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কাটাগাং কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় মরদেহ দাফন করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner