
নিউজ ডেক্স : অতি বর্ষণের ফলে শঙ্খনদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেসে এসে বিআইডব্লিউটিএ-এর একটি বিশালাকৃতির বার্জ শঙ্খ ব্রিজে ধাক্কা দিয়েছে। এতে ব্রিজের গার্ডারে কিছুটা ফাটল ধরেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বার্জটি প্রবল স্রোতের মধ্যে ব্রিজের গার্ডারের সাথে আটকে আছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।
জানা যায়, বিগত প্রায় এক বছর ধরে বিআইডব্লিউটিএ শঙ্খনদীর সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাটগড়-উত্তর কালিয়াইশ পয়েন্টে নদী খননের নামে একই স্থান থেকে বালি উত্তোলন করছিল। ভারী ড্রেজারের সাথে থাকা পাইপ কেয়ারিং ডাম্প বার্জ- ৩ নদীর মাঝখানে নোঙর করা অবস্থায় ছিল।
বিগত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শঙ্খনদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বার্জটি নদীর পাড়ের একটি ছোট গাছের সাথে বেঁধে রাখে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে প্রবল স্রোতের কারণে বেঁধে রাখা গাছটি উপড়ে গিয়ে দ্রুত বেগে বার্জটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার মিটার দূরে গিয়ে প্রথমে নির্মাণাধীন রেল সেতুর পিলারের সাথে ধাক্কা খায়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট আটকে থাকার পর সেখান থেকে ছুটে বার্জটি আরো ৫/৭শ’ মিটার দূরত্বে এসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী শঙ্খ ব্রিজে দ্বিতীয় দফায় সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ব্রিজের নিচের অংশে ১ম পিলার ও ২য় পিলারের মাঝামাঝি গার্ডারের সাথে বার্জটি আটকে পড়ে।

এ ঘটনায় ব্রিজের গার্ডারে ফাটল ধরে এবং গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ব্রিজের গার্ডারের সাথে বার্জটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আটকে আছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ব্রিজের গার্ডার উপড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, খবর পেয়ে গতকাল বিকেলেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, (চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেল) হাফিজুর রহমান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মছউদর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মালেক চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাফিজ বিন মনজুর, কার্যসহকারী আবদুন নুরসহ একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেল হাফিজুর রহমান বলেন, “বর্তমানে যে অবস্থায় বার্জটি ব্রিজের সাথে আটকে আছে তাতে মোটামুটি আশংকামুক্ত। যদি পানির স্রোত এর চেয়ে বেড়ে যায় তাহলে ব্রিজের গার্ডারকে টেনে উপরে তোলার একটা সম্ভাবনা আছে। আমরা ইতিমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ কে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করেছি। তারাও আমাদের চিঠির মাধ্যমে জানায় যে বর্তমান স্রোতের মধ্যে বার্জটি উদ্ধার করা সম্ভব না, পানি একটু কমে আসলে তারা বার্জটি সরিয়ে নেবে বলে জানান।”
তিনি আরো বলেন, “যদিও ব্রিজের কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বেইলি ব্রিজ বসানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।” -আজাদী অনলাইন
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner