
নিউজ ডেক্স : বেশ কিছুদিন ধরে চালের পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি দাম ৫০, ১০০ টাকা করে কমার ধারায় থাকলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব না পড়ায় সাধারণ ভোক্তারা কিছুতেই এর সুফল পাচ্ছিল না। তবে পাইকারিতে এবার বস্তাপ্রতি চালের দাম ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমায় খুচরাতেও সরাসরি এর প্রভাব পড়েছে। খুচরাতে প্রায় সব ধরনের চালের দাম এখন কেজিতে ৫-৬ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। একটু দেরিতে হলেও খুচরাতে চালের দাম কমায় সাধারণ ভোক্তারা খুশি।
গত কয়েকদিন ধরে চাক্তাইসহ নগরীর চালের পাইকারি বাজার ও আড়তসমূহে ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চালের ঊর্ধ্বমুখী বাজার দেখে অনেক ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আমদানি মূল্যে নিয়মিত আমদানিকারক দেশ থাইল্যান্ড, মায়ানমার, ভারত ছাড়াও সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম এবং পাকিস্তান থেকে চাল আমদানি করে। সরকারি হিসেবে শুধু গত ১ জুলাই থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে চাল আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টন। এরমধ্যে সরকারিভাবে মাত্র ৩ লাখ ৮০ হাজার টন হলেও বেসরকারিভাবে এসেছে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টন। চালের গুদামে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাল চলে আসায় আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একপ্রকার বাধ্য হয়ে এখন লোকসান দিয়ে হলেও চাল ছেড়ে দিচ্ছে।

চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও আমদানিকারক এনামুল হক বলেন, চালের সংকট কমাতে আমরা বেশি দামে চাল আমদানি করলেও এখন কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কেজিতে ৩-৫ টাকা লোকসান দিয়ে বাজারে চাল ছেড়ে দিচ্ছি। যেমন মিয়ানমারের ইমাতা চাল আমদানি খরচ পড়েছে কেজিতে ৩৩ টাকা, কিন’ বিক্রি করছি ৩০ টাকায়; ভারতের বেতি আমদানি খরচ পড়েছে ৩৫ টাকা, বিক্রি করছি ৩২ টাকায়; একই ভাবে স্বর্ণা সিদ্ধ আমদানি খরচসহ কেনা পড়েছে ৪২ টাকা, বিক্রি করছি ৩৭ টাকায়।
চাক্তাইয়ের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে বাজারে চাল ছেড়ে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, সামনে বড় লোকসান ঠেকাতে এখন আমাদের এই কম লোকসান দিয়ে বাজারে চাল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া অন্যকোনো গতি নাই। কারণ খুব শীঘ্রই বাজারে নতুন চাল আসবে।
পাইকারি বাজার সমূহে বস্তাপ্রতি প্রায় সব ধরনের চালের দাম ২৫০-২৮০ টাকার মত কমায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খোলা বাজারেও।
গতকাল বহদ্দারহাটের মুদি দোকানদার ছালাম সওদাগর বলেন, খোলা বাজারে গত দুই-চার দিনের ব্যবধানে সরু-মাঝারি-মোটা সব ধরনের চালের দাম ৫ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগে আনা চালের দাম এখনও ২-৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
খোলা বাজারে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমায় বহদ্দারহাটের বাসিন্দা গৃহিণী রোকেয়া বেগম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অনেকদিন ধরে চালের দাম কমার খবর চাউর হলেও বাস্তবে দাম কমেছে এখনই। তবে দেরিতে হলেও দাম কমাতে আমরা খুশি। আগে বেশি দামের কারণে ২-৪ কেজি খুচরা খুচরা চাল কিনে কাজ চালিয়ে দিলেও এখন চিন্তা করছি পুরো ১ বস্তা কিনে ফেলব।
এ প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর চট্টগ্রাম জোনের সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, চালের সংকট মেটাতে সরকার শুল্কহার কমালে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর চাল আমদানি হয়েছে। এছাড়া মজুদদারি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং সরকারের খোলা বাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচির (ওএমএস) প্রভাবে চালের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। -সুপ্রভাত
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner