ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | ভোটে ন্যায়, শাসনে ইনসাফ

ভোটে ন্যায়, শাসনে ইনসাফ

আবু বকর মুহাম্মদ হানযালা: আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাঁধভাঙা উল্লাস,আমেজ, আবেগ বিরাজমান। সকলের মুখে গ্লানি ন্যায় ও ইনসাফ। নতুন বাংলাদেশ। স্বপ্ন বুনন ও বাস্তবায়নের তীব্র আকাঙ্খা। সুন্দরে সৌহার্দ্যে সম্প্রীতিতে আগামীর সোনার বাংলাদেশ এই প্রত্যাশা।

শহর থেকে গ্রাম,পথে- প্রান্তরে জয়ধ্বনি ও উল্লাসে মাতোয়ারা তরুণ থেকে বৃদ্ধ, তরুণী থেকে বৃদ্ধা।সকলের মুখে এককথা আমার ভোট আমি দিবো,যাকে ইচ্ছে তাকে দিবো। আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন। ভোট দেশের প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট ব্যক্তির নিজস্ব মতামত কিংবা জনমত প্রতিফলনের একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম ও পদ্ধতিবিশেষ। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে ভোট দেওয়া কেবল একটি নাগরিক অধিকার নয়, বরং এটি একটি সাক্ষ্য প্রদান, সুপারিশ এবং প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার।

আল্লাহ তা’আলা বলেন; হে ইমানদারগণ! তোমরা ইনসাফের সঙ্গে আল্লাহর জন্য সাক্ষী হয়ে দাঁড়াও। ’ (সূরা আন নিসা : ১৩৫)। অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে ;‘তোমরা আল্লাহর জন্য সত্যের সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করো। ’ (সূরা আত তলাক : ২)। ইসলাম একটি সামাজিক ও মানবিক ধর্ম। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে দেশ, ধর্ম ও মানবতার সেবা করার বিরাট সুযোগ লাভ করা যায়। যারা প্রার্থী হবে তারা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় মানবতার সেবার নিয়তে প্রার্থী হন এবং আমানতদারীর সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে আল্লাহকে ভয় করে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তারা শুধু দুনিয়ায় সম্মানিত হবেন না, বরং আল্লাহর কাছেও বড় মর্যাদার অধিকারী হবেন। তাই, যদি কোনো ব্যক্তি মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পরে মানবতাবিরোধী, ইসলামবিরোধী বা নির্যাতনমূলক কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে সেই দায় শুধু তার একার নয়। যারা তাকে জেনে-বুঝে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে, তারাও এই অপকর্মের অংশীদার হবে। কারণ তাদের সমর্থন ও ভোটের কারণেই ওই ব্যক্তি এসব অন্যায় করার সুযোগ পেয়েছে। ফলে এই গোনাহের পরিণতি ও শাস্তির কঠিন বোঝা সবাইকেই বহন করতে হবে।

অতএব, ইসলাম নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের কথা বলে। কারণ ভোট ইসলামের কাছে একটি পবিত্র আমানত। এই আমানত সেই ব্যক্তির হাতেই দেওয়া উচিত, যিনি সৎ, যোগ্য, ন্যায়বান, বিবেকবান এবং সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করেন। যিনি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় রাখেন, তাকে ভোট দিলে সমাজ উপকৃত হয়। আর অসৎ, অযোগ্য ও পক্ষপাতদুষ্ট মানুষকে ক্ষমতায় আনলে তার পরিণতি হয় সমাজের ক্ষতি ও ধ্বংস। তাইতো আল্লাহ তা’আলা বলেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী। (সূরা নিসা: 58)।

অতএব, ভোট কেবল কাগজে দেওয়া একটি চিহ্ন নয়; এটি একটি পবিত্র আমানত। এই আমানত সেই ব্যক্তির হাতেই অর্পণ করা উচিত, যিনি সৎ, যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় রাখেন। কারণ একজন প্রতিনিধির চরিত্রই নির্ধারণ করে একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাই দেশের যে কোনো প্রেক্ষাপটেই সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়াই একজন মুমিনের প্রকৃত ঈমানি দায়িত্ব।

লেখক : শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!