Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | হাতির আক্রমণ ঝুঁকিতে বসবাস করছে রোহিঙ্গারা

হাতির আক্রমণ ঝুঁকিতে বসবাস করছে রোহিঙ্গারা

image_printপ্রিন্ট করুন

elephant_bg20160403031357

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা বসতিতে প্রায়ই হানা দিচ্ছে হাতির পাল। প্রতি রাতেই ১৫ থেকে ২০টি হাতি কুতুপালং, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া এবং বালুখালী এলাকায় তৈরি করা রোহিঙ্গা বসতিতে হানা দিয়ে ঘর বাড়ি নষ্ট করছে। অনেকেই এ হামলায় আহত হয়েছেন। মূলত এলাকাগুলো ছিলো হাতির চলাচলের পথ এবং অভয়ারণ্য। এ অবস্থায় হাতির চলাচলের বিকল্প পথ সৃষ্টির পাশাপাশি রোহিঙ্গা বসতিগুলোকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পুরো কক্সবাজার জুড়ে ১২টি হাতি চলাচল পথের আটটিই উখিয়া এবং টেকনাফে। চট্টগ্রাম ও টেকনাফের পাহাড়ের শতাধিক হাতি এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু এই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে হাতি চলাচলের আটটি পথ। একইসঙ্গে নষ্ট হয়েছে হাতির অভয়ারণ্যের বিশাল অংশ। এই অবস্থায় বন্য হাতিগুলো হানা দিচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলেন, এখানে হাতি প্রায়ই হানা দিচ্ছে। এতে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। প্রাণি বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুযায়ী, এই এলাকায় স্বাভাবিক সময়ে ৮৮টি হাতি অবস্থান করে। কিন্তু বর্তমানে এসব এলাকায় রোহিঙ্গারা অবস্থান করায় হাতির আক্রমণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ বলেন, হাতিগুলো গতিপথ পরিবর্তন করা যায় কিনা সে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। যদি সম্ভব না হয় তবে কাঁটাতারের বেড়া কিংবা অন্য কোনোভাবে এই ঝুঁকি মোকাবেলার পরিকল্পনা নেয়ার ভাবনা রয়েছে আমাদের। এরই মধ্যে নেয়া পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই এলাকায় বসতি স্থাপিত হওয়ায় হাতির আক্রমণে প্রায়ই হতাহত হচ্ছেন রোহিঙ্গারা। যে পথ দিয়ে হাতি চলাচল করত সে পথগুলো বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছি আমরা। এই এলাকায় বিভিন্ন প্র“জাতির হাতির আক্রমণে এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আটজনের এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।গত কয়েকমাস আগেও এই এলাকা ছিল এশিয়ান হাতির অভয়ারণ্য। হাতির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একই পথ দিয়ে বারবার চলাচল করা। আর এই কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এখানে বসবাসকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!