ব্রেকিং নিউজ
Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | সাতকানিয়া ট্রাজেডি : শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হলো না টুনটুনির

সাতকানিয়া ট্রাজেডি : শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হলো না টুনটুনির

উত্তর কলাউজানের রসুলাবাদ পাড়ার ফাতেমা বেগম টুনটুনির মা’র আহাজারী

উত্তর কলাউজানের রসুলাবাদ পাড়ার ফাতেমা বেগম টুনটুনির মা’র আহাজারী

নিউজ ডেক্স : মেহেদীতে আমার মেয়ের হাত রাঙানো হলো না। স্বামী, শ্বশুর–শাশুড়ির হাতে মেয়েকে তুলে দিতে পারলাম না। শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হলো না আমার আদরের টুনটুনির। এর আগে আলহ্মাহ তাকে তুলে নিয়ে গেছে। আমার মেয়েকে রেখে আলহ্মাহ আমাকে নিয়ে গেল না কেন?

এসব কথা বলতে বলতে বিলাপ করছিলেন পদদলিত হয়ে মারা যাওয়া লোহাগাড়ার উত্তর কলাউজানের রসুলাবাদ পাড়ার ফাতেমা বেগম টুনটুনির মা কোরবানি বেগম। মেয়ে হারানোর শোকে কথা বলতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণ পর পর তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সাতকানিয়ার কাঞ্চনা এলাকার এক ছেলের সাথে ১৫ দিন আগে মেয়ের বিয়ের কথা পাকা হয়। টাকা জোগাড় করতে না পারায় তারিখ দিতে পারিনি। বিয়ের টাকার জন্য অনেকের কাছে গেছি। কিছু জোগাড় হয়েছে, বাকি টাকা জোগাড় হলেই বিয়ের তারিখ দিতাম। কিন্তু এর আগেই আমার মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে আল্লাহ। আমার বুক খালি করে চলে গেছে টুনটুনি। আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।

কোরবানি বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর দিনমজুরের কাজ শুরু করি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে ছেলেমেয়েকে বড় করেছি। তাদের দিকে তাকিয়ে সারাজীবন খেটেছি। কিন্তু মেয়ে আমাকে শোকসাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।

তিনি বলেন, ইফতার সামগ্রী দেওয়ার খবর পেয়ে এলাকার অন্য মহিলাদের সাথে আমরা মা–মেয়ে যাই। আমি একা যেতে চেয়েছিলাম। আমি অসুস্থ থাকায় মেয়ে আমাকে একা ছাড়েনি। আমাকে দেখাশোনার জন্য সে সঙ্গে যায়। রবিবার রাতে আমরা সেখানে গিয়ে হাজির হই। মা–মেয়ে একসাথে রাস্তায় বসে রাত কাটাই। ফজরের আজানের পর দুজন মাঠে প্রবেশ করি। কিন্তু সকালে ইফতার সামগ্রী বিতরণ শুরু হওয়ার পর গেটে একসাথে অনেক লোক হুড়োহুড়ি শুরু করে। তখন মেয়ে টুনটুনি আমার হাত থেকে ছুটে যায়। অনেকক্ষণ পর জানতে পারলাম সে অসুস্থ। তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু না, বিকালে বুঝতে পারলাম, ও বেঁচে নেই। আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। ইফতারি নয়, আমার মেয়ের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছি।

ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত ৯ নারীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বামীর দরিদ্র সংসার অথবা স্বামী পরিত্যক্তা এসব নারী ছেলেমেয়েদের মুখে ভালো খাবার তুলে দেওয়ার আশা নিয়ে ছুটে গিয়েছিল ইফতার সামগ্রী ও জাকাত নেওয়ার জন্য। অভাবের সাথে তারা যুদ্ধ করে আসছিল। স্থানীয়রা বলেন, সংসারের অভাব থেকে তারা সবাই মুক্তি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*