ব্রেকিং নিউজ
Home | শীর্ষ সংবাদ | শুভ্রতার সুখ-দুঃখ (দ্বিতীয় পর্ব)

শুভ্রতার সুখ-দুঃখ (দ্বিতীয় পর্ব)

236

ফিরোজা সামাদ : অাগের সেই শহরটাকে ভুলে গেছি কতো অাগে। এখন অামায় দেখে নবীনরা তো দূরের কথা চেনা মানুষেরাও হঠাৎ অামায় চিনতে ভুল করে ফেলবে হয়তো। এতো বছরে ডিজিটাল অাধুনিকতার ছোঁয়া পড়েছে অামার অাজন্ম লালিত সেই শহনে। এখন প্রতিটি মানুষের হাতেই মোবাইল ফোন। কৌতুহলী মন জানতে চায় সেই একদিনের দেখা কিশোরী শুভ্রতার অাজ পর্যন্ত যাপিত জীবনের কথা। দ্বারস্থ হলাম শুভ্রতার দূর সম্পর্কীয় এক অাত্মিয়ার। কোনো ঘটনার খুঁটিনাটি পুরুষের চেয়ে মেয়েরাই বেশি জানতে বা জানাতে অাগ্রহী। ওই অাত্মীয়ার কাছে যা জানলাম তা অারো বাস্তব ও স্পর্শকাতর অামার কাছে।

শুভ্রতার পাঁচ ভাইয়ের একটিই বোন।শুভ্রতা। তাতে বাবা ভাইয়ের অতি অদূরে মেয়ে বা বোন হওয়ার কথা, কিন্তু অতি রূপসী শুভ্রতার ক্ষেত্রে সেটা হয়ে ওঠেনি কখনই। ওর মা’ও ছিলো দেখতে রূপসী। মাধ্যমিক স্কুল থেকেই এলাকার উঠতি বয়সি ছেলেরা শুভ্রতার পাশে নিজেদের নায়ক ভাবতে শুরু করে। ফলে সেই চাপ গিয়ে পরে শুভ্রতার কাঁধে। যেনো সব দোষ ওর রূপের। এমনকি বাবা ভাইয়েরাও সময় অসময় শাসন করতে পিছপা হতোনা। তাই বলে শুভ্রতার মনেও কি কোনো ছেলের ঠাই হয়নি ? হ্যাঁ হয়েছিলো !

কলেজে প্রথম বর্ষে পা দেয়ার কয়েকদিন পরই মেয়েদের কমনরুমে গিয়ে ওর নামে একটি প্রেমের চিঠি পায়। কলেজের বেয়ারাই চিঠিটা ওর হাতে পৌঁছে দেয়।
উড়োজাহাজ অঙ্কিত নীল খামটি খুললে একটি হালকা শুকনো গোলাপ ওর হাতে পড়তেই শুভ্রতা বুঝে গেলো এটি সাধারণ কোনো চিঠি নয়। সাথে সাথে লুকিয়ে ফেলে চিঠিখানা। অতঃপর একটা ক্লাশ বাদ দিয়েই রিক্সা নিয়ে চলে অাসে বাসায় ।

শুভ্রতাকে বাসায় ঢুকতে দেখেই মা বলল :—
.. কিরে এতো তাড়াতাড়ি ফিরলি যে ?
.. শরীরটা ভালো লাগছে না মা তাই
চলে এলাম।
.. মুখ হাত ধূয়ে অায় তাহলে, একসাথে
খাই ?
.. তুমি বসো অামি অাসছি,মা !

বলে রুমে ঢুকে তড়িঘড়ি করে চিঠিটা খুলে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলে। স্কুল জীবনেও অনেক চিরকুট বাসার সামনে পাওয়া যেতো, সেগুলি কখনও পাত্তা দেয়নি শুভ্রতা। কিন্তু অাজকের এই চিঠি ওর সদ্য যৌবনে বুকে কেমন যেনো কাঁপণ ধরিয়ে দেয়। ও তাড়াতাড়ি তোষকের নীচে লুকিয়ে রেখে মায়ের ডাকে খেতে চলে যায়। খাওয়ার পর অাবার রুমে ঢুকে চিঠিটা পড়তে থাকে। অদ্ভুত এক ভালোলাগা ওকে অাচ্ছন্ন করে ফেলে, যা অাগে এমনটি কখনও হয়নি। ভাবতে থাকে কে এই চিঠির লেখক? দেখতে কেমন ? চিঠির ভাষা বেশ সুন্দর, পরিপক্ব ও সাবলীল। সারারাত ভালো ঘুম হলোনা। কি একটা স্বপ্ন দেখলো, অাবছা একটা পুরুষের ছায়ামূর্তি। সকালে একটু সকাল সকালই কলেজে পৌঁছে গেলো শুভ্রতা। যদি তার দেখা পাওয়া যায়। যেতে যেতে মনে মনে একটা ছবি অঙ্কিত হয়ে যায়। ঠিক তখনই রিক্সা কলেজ গেটে এসে থামে ।

.. অাপা নামেন, কলেজে অাইয়া পরছি।
রিক্সাওয়ালার ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে রিক্সা থেকে না নেমেই চারিদিকে চোখ বুলিয়ে নেয়। নাহ কোথাও কেউ নেই। তারপর রিক্সা থেকে নেমে অার একবার চারিদিকে তাকাতেই কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় দাড়ানো কাউকে দেখতে পায়। ফর্সা, ছিপছিপে পাতলা প্রায় পাঁচ ফিট এগারো ইঞ্চি লম্বা,মাথাভর্তি ঘনোচুলের একজন ধীরে ধীরে শুভ্রতার সামনে এসে দাড়ায়। তখনই বুঝতে পারে কলেজের সিনিয়র ক্লাশের এই বড়োভাই । ওর সামনে এসে বলে :–
.. অামার চিঠির উত্তর এনেছো ?
.. নাহ, কাল দিবো।
.. কেনো ? অামি কি ভুল করেছি ?
.. নাহ, বলেই দ্রুত কলেজের ভীতরে ঢুকে যায়। অার মারুফ ওর লজ্জাজড়িত চলে যাওয়া দেখতে থাকে সহাস্যে !!

শুভ্রতা কলেজে যাওয়ার পর ওর মা কাজের বুয়া রমিজা কে ডেকে বলে যাও তো উপরে গিয়ে অাপার রুম ঝেরে মুছে বিছানাপত্র রোদে মেলে দিয়ে এসো………….. (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*