
নিউজ ডেক্স : বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় আবারো সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বান্দরবান জেলার পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায়ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সীমান্তবর্তী পাহাড়ের এসব সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্রের পাশাপাশি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তুলছে। পাহাড়ের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অভিনব পদ্ধতিতে অস্ত্র স্থানান্তরের সময় সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে চার সন্ত্রাসীকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র, গুলি এবং সন্ত্রাসীদের আটক করা হয়।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার র্যাব ৭ কার্যালয়ে ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো. রুহুল আমিন এক প্রেস ব্রিফিংএ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আলিকদম জোন ও র্যাব ৭ এর যৌথ অভিযানে পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর রাজাপাড়াস্থ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের আটক করা হয়। এ সময় ২৫টি অস্ত্র, দুই হাজার ৩৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আটক করা হয় চার অস্ত্রধারীকে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান জেলার লামা, আলিকদম ও থানচি উপজেলার গভীর অরণ্যে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকার উপজাতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর আস্তানায় বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র মজুদের সংবাদ আগেই ছিল র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের কাছে। এসব অস্ত্র দিয়ে পাহাড়ি এলাকায় খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক চোরাচালান, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত সন্ত্রাসীরা। এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব ৭ এবং সেনাবাহিনী বান্দরবানের গভীর পাহাড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালায়।
অভিযানে ১৪টি এসবিবিএল এবং ১১টি ওয়ান শুটারগানসহ ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, দুই হাজার ৩৭ রাউন্ড গুলিসহ চার সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। আটক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হলেন বান্দরবানের লামার ত্রিডেবা গ্রামের উছা মং এর ছেলে তুইসা মং (৩৬), চালাচিং মারমার ছেলে এক্য মারমা (৩৯), মৃত চিনকং মারমার ছেলে মিফং মারমা (৪৫) ও মশিউলা মারমার ছেলে চাইনুং মারমা (৩৬)।
প্রেস ব্রিফিংএ র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো জানান, বান্দরবানের গহীন পাহাড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী রাখাইন সন্ত্রাসী বাহিনী বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকার পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড করছে। আটক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন সন্ত্রাসীদের যোগসূত্র রয়েছে কিনা- তা তদন্ত করা হচ্ছে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner