ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ধামাচাপার ষড়যন্ত্র চলছে তাসফিয়ার পরিবারের অভিযোগ

ধামাচাপার ষড়যন্ত্র চলছে তাসফিয়ার পরিবারের অভিযোগ

4594587b73f928bced60f7c44c2ef3d8-5aeb77b5abec5

নিউজ ডেক্স : তাসফিয়া আমিন ‘হত্যা’ মামলার প্রধান আসামী কথিত প্রেমিক আদনান মির্জাকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে সংশোধনী কারাগারের পরিচালকের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্যও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার এ আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগরের অতিরিক্ত দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (কর্ণফুলি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত তার বয়স বিবেচনায় গাজীপুরের টঙ্গীতে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালত পুলিশকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করারও আদেশ দেন বলে জানান তিনি।

গত ২ মে সকালে স্থানীয়দের খবরে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজঘাট পাথরের ওপর থেকে সানসাইন স্কুলের (ন্যাশনাল কারিকুলাম) নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের (১৬) মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পর বুধবারই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনানকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে তাসফিয়ার বাবা মামলা দায়ের করলে তাকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আদনান মির্জা বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ব্যবসায়ী ইস্কান্দর মির্জার ছেলে।

তবে আলোচিত এ ‘হত্যাকান্ডের’ পাঁচ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এজাহারভৃক্ত বাকি পাঁচ আসামীসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তাসফিয়ার বাবা সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন বলছেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে এবং এখন তা ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মোহাম্মদ আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ড বিষয়ে পুলিশ কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেনি। পুলিশ তদন্তে আমাদের কাছে যা জানতে চেয়েছে, তার সব রকম সহযোগিতা আমরা করছি। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে যখন তাসফিয়াকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তখন থানায় জিডি করতে গেলে তার ছেলে বন্ধু আদনানের কথিত বড়ভাই ফিরোজসহ কয়েকজন মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তা করতে দেননি। জিডি করার উদ্দেশ্যে সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাঁচলাইশ থানার সামনে গিয়েছিলাম। এ সময় আদনানের সাথে থাকা ফিরোজ আমাদের আধা ঘণ্টার মধ্যে তাসফিয়াকে ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিডি করতে নিষেধ করে। তদন্তে পুলিশের আরও সক্রিয়তা এবং আদনানের সহযোগীদের আইনের আওয়তার আনার দাবি জানান তাসফিয়ার বাবা।

প্রসঙ্গত: আদনানের বড়ভাই খ্যাত ফিরোজ আগে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ডাকাতির মামলার আসামি ফিরোজ একবার অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে নিজেকে যুবলীগ দাবি করে নগরীতে ব্যানার টাঙান তিনি।

এ প্রসঙ্গে এডিসি (বন্দর) আরেফিন জুয়েল বলেন, আমরা আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। পাশাপাশি অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*