ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | দক্ষিণ চট্টগ্রামে যাত্রী জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায়

দক্ষিণ চট্টগ্রামে যাত্রী জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায়

1-18-800x343

নিউজ ডেক্স : সপ্তাহে তিনদিন দক্ষিণ চট্টগ্রামে বাস ও হাইচ চালক মালিকদের যেন চাঁনরাত। যাত্রীদের জিম্মি করে সিট ক্যাপাসিটির নামে বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আদায় করা হয় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। এ অনিয়ম চলছে দীর্ঘদিন ধরে। দেখার যেন কেউ নেই।

নগরীর চাক্তাই নতুন ব্রিজ এলাকায় বৃহষ্পতিবার নগরী থেকে ফিরতি পথে শনিবার বিকেল এবং রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে যাত্রী জিম্মি করার প্রতিযোগিতা। যাত্রীদের অভিযোগ শুধু তিনদিন নয় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার দুই থেকে তিনগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রতিকার মিলছেনা কোনভাবেই। সরকারি যে কোন লাগাতার তিনদিনের ছুটি বা ঈদ, কোরবান, পূজা সহ লম্বা ছুটির সুযোগ এলে যানবাহনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালক ও হেল্পাররা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর কাছাকাছি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় প্রতিদিন ছুটি শেষে কর্মজীবীদের বড় একটি অংশ বাড়িতে ফিরে যান। সে কারণে সকালে নগরীতে ফেরার পথে বিকেল গড়াতেই দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করে বাস হাইচের চালক ও হেলপাররা।

সাপ্তাহিক ছুটির আগেরদিন বৃহষ্পতিবার বিকেল থেকে শহরে বা গ্রামের বাড়ি যেতে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর উত্তর মুখে হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একই অবস্থা হয় সরকারি বিশেষ ছুটি বা বিশেষ দিবসের আগে ও পরের দিনগুলোতে। এ সময় যাত্রীবাহী বাস ও হাইচের বাড়তি ভাড়ার ফাঁদে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়ে। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও মেলেনা যানবাহন। যাত্রীদের কাছে সোনার হরিণ হয়ে উঠে যাত্রীবাহী বাস। কোন কোন সময় ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সাথে পুলিশ, চালক, হেলপার মালিকদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও ঘটে। অনেক লোকের বাড়ি যাত্রাকে পুঁজি করে বাণিজ্যে নামে গণপরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারণকে।

যাত্রীদের অভিযোগ বিশেষ দিবস, বৃহষ্পতিবার আসলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য আতঙ্ক শুরু হয়। সড়কে নামলেই গাড়ি নেই। অনেক সময় বেশি ভাড়া দিয়েও গাড়ি পাওয়া যায় না। আবার এক ঘণ্টার পথ পাঁচ ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে অজানা কারণে ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন না দীর্ঘদিন ধরে। এ ব্যাপারে তারা সরকারের উর্ধ্বতন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, যাত্রীরা জিম্মি হন সত্য নয়। তাছাড়া এ ব্যাপারে মালিক পক্ষ জড়িত নয়। চালক ও হেলপার গাড়ি চালিয়ে থাকে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের এ চিত্র অন্য কোন সড়কে নাই। যাত্রীদের জিম্মি করার জন্য পরিবহন শ্রমিকরাই দায়ী। শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রতি বৃহষ্পতিবার যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি থাকার কারণে এক সাথে পরিবহন যোগান দেয়া সম্ভব হয় না। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অন্যান্য সড়ক থেকেও যানবাহন সংগ্রহ করতে হয়। গাড়ি ফিরে আসতে তেমন কোন যাত্রী না পাওয়ার কারণে চালকেরা কিছু বাড়তি ভাড়া আদায় করে থাকে। তাদের মতে, পরিস্থিতি আয়ত্বে রাখতে সরকারি বিআরটিসি বাস অন্যদিনের মত বিশেষ দিনগুলোতে যেন চলাচল অব্যাহত থাকে। তাহলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না। পুলিশ প্রশাসনের অভিযোগ কোন অভিযোগ ছাড়া বাস থামিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে পরিবহন মালিক শ্রমিকেরা প্রশাসনের উপর নানা দায় চালানোর চেষ্টা করে। সড়কের যাত্রী হয়রানি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বাস হাইচ চালক হেলপারেরা দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপপ্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। তবে, যাত্রীদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হয়ে বেশি ভাড়ায় গাড়িতে না উঠে প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। যাত্রী সাধারণের দাবি সারা বাংলাদেশে কোন সড়কে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ন্যায় অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে না। এ ব্যাপারে তারা জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। অন্যথায় এ সমস্যা কোনভাবেই সমাধান হওয়ার নয় বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সে সাথে প্রয়োজনে কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ এলাকায় মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অবৈধ গাড়ি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*