ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | টাকার জন্যই ফুফু ও দাদিকে খুন

টাকার জন্যই ফুফু ও দাদিকে খুন

ctg-mader1-20180725111549

নিউজ ডেক্স : নগরীর খুলশীতে মা–মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ মামলায় মো. মুশফিকুর রহমান (৩০) নামে নিহতদের এক আত্মীয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেহ মো. নোমানের আদালত এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মুশফিকুর হচ্ছেন নিহত মেহেরুন নেছা বেগমের ভাইয়ের ছেলে। মুশফিকুরের বাবা মতিউর রহমান মারা যাওয়ার পর তার মাকে দেবর মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। মুশফিকুর তখন ফুফুর কাছে বড় হন। পরে আমবাগান এলাকার এক সন্ত্রাসীর বোনকে বিয়ে করেন। তখন বাড়ি থেকে মুশফিকুরকে বের করে দেন ফুফু মেহেরুন। এরপর থেকে ফুফুর কাছ থেকে আলাদা থাকছিলেন মুশফিকুর।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে নিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন এক যুবক। এরপর আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন মানুষজন তার কাছ থেকে টাকা পেত। ব্যবসায়ও ক্ষতির শিকার হতে হয় তাকে। এ নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে দিন যাচ্ছিল। এ অবস্থায় সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ফুফুর কাছে টাকা চাইতে ১৪ জুলাই আমবাগানের ওই বাসায় যান তিনি। রাতে খাবারও খান। সেদিন রাতে টাকা দিতে না চাওয়ায় ফুফুর প্রতি তিনি ক্ষিপ্ত হন। এমনকি চেক বই নিতে আলমারির তালাও ভাঙেন। ওই চেক বইতে ফুফুর স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকা না দিতে অনড় থাকেন মেহেরুন নেছা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে পিঁড়ি দিয়ে মেহেরুনকে আঘাত করেন মুশফিক। এতে তার মৃত্যু হয়। তখন ঘটনাটি দেখে ফেললে দাদি মনোয়ারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তাদের লাশ ট্যাংকে ফেলে আসেন। রাতেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। খুনের ঘটনায় মুশফিক ছাড়া আর কেউ জড়িত নেই।

এর আগে গত ১৫ জুলাই খুলশী থানার আমবাগান আটার মিল এলাকায় নিজ বাড়ির পানির ট্যাংক থেকে মা মনোয়ারা বেগম (৯৪) ও মেয়ে শাহ মেহেরুন নেছা বেগমের (৬৭) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রূপালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শাহ মেহেরুন নেছা বেগম মাকে নিয়ে ওই ভবনে থাকতেন। ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত মেহেরুন নেছা জায়গা কিনে ওই বাড়িটি নির্মাণ করেন। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, মাকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং মেয়ের মাথার পেছনে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় নিহত মনোয়ারার ছেলে ও আসামি মুশফিকুরের সৎ বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি খুলশী থানা পুলিশ তদন্ত করে। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পর মামলাটির তদন্তভার নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে খুনের পর মুশফিকুর রহমান ও তার দোকানের কর্মচারী মো. ইমনকে আটক করেছিল খুলশী থানা পুলিশ। তখন তারা পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। তবে কললিস্টের ভিত্তিতে সম্ভাব্য খুনি হিসেবে মুশফিককে নজরদারিতে রেখেছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর গত সোমবার আমবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যার ঘটনা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াস হোসেন বলেন, টাকার জন্য মুশফিকুর রহমান নিজেই তার ফুফু ও দাদিকে খুন করেছে বলে স্বীকার করেছে। ২০১০ সালে আমবাগানে একটি খুনের ঘটনায় আসামি হয়েছিল মুশফিক। সে আগে থেকেই নানা অপরাধে যুক্ত।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*