Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | জামায়াতের বিবৃতি নিয়ে বিএনপিতে ক্ষোভ

জামায়াতের বিবৃতি নিয়ে বিএনপিতে ক্ষোভ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : বিশদলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর একটি বিবৃতি নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সাম্প্রতিক ‘বিতর্কের’ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ওই বিবৃতি দেয় জামায়াত। সেখানে মহান ব্যক্তিদের নিয়ে বিতর্ক না করার আহ্বান জানানো হলেও জিয়াউর রহমানের নাম তারা উল্লেখ করেনি।

এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষোভের কথা দলটির শীর্ষ পর্যায়েও জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে জানতে চাওয়া হতে পারে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে দেশের সম্মানিত ও মহান ব্যক্তিদের নিয়ে অহেতুক বিতর্ক না করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি বেশ কয়েকদিন ধরে দেশের সম্মানিত ও মহান ব্যক্তিদের নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাপারে অসম্মানজনক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের জন্য যারা যে অঙ্গনে ভূমিকা পালন করেছেন এবং অবদান রেখেছেন, তাদের সে অবদানের প্রতি জনগণ শ্রদ্ধাশীল। সম্প্রতি যে বিষয়গুলো নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে, তা দেশের জনগণকে মর্মাহত করেছে।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। তার সেই অবদান এখন অস্বীকার করছে ক্ষমতাসীন দল। এমনকি শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা। এ বিষয়টিই এখন চলমান ইস্যু। এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বিবৃতি দিয়েছে, যৌক্তিক কথাও সেখানে বলেছে। কিন্তু বিবৃতিতে জিয়াউর রহমানের নামটি একবারও উল্লেখ করা হয়নি, যা বিএনপি নেতাদের অবাক করেছে। তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, জামায়াতে ইসলামী তো বিএনপি করে না। জামায়াত তো ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধের শক্তি। সেজন্য বিবৃতিতে তারা তাদের নিজস্ব আঙ্গিকে বক্তব্য দিয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জামায়াতে ইসলামী উভচর প্রাণীর মতো কখনো এদিকে, আবার কখনো ওদিকে-এ রকম করেছে বহুবছর। আমরা ভেবেছিলাম, এখন একটা জায়গায় বোধহয় তারা এসেছে। কিন্তু এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে সেটা তো প্রমাণিত হয় না। এর মধ্য দিয়ে সেই উভচরের আচরণই করেছে। যাকে কেন্দ্র করে যে খারাপ ও অসম্মানজনক কথাগুলো হচ্ছে, সেটা তো একতরফা। তা হচ্ছে শুধু জিয়াউর রহমান সম্পর্কে, শুধু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্পর্কে। বিবৃতিতে অন্তত জিয়াউর রহমানের কথা তো বলতে পারতেন। যেখানে জামায়াতকে স্বাধীনতার বিপক্ষে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা সব সময় কথা বলেন, সেখানে জামায়াত স্বাধীনতার বিপক্ষে না, তারা স্বাধীনতার ঘোষককে স্মরণ করেন, সম্মান করেন, তা প্রমাণ করতে পারত। এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে এ সুযোগটাও তারা মিস করল।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, এখন তো শহিদ প্রেডিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়েই আলোচনা। তার নাম উল্লেখ না করার তো কারণ নেই। আমার ধারণা, সরকারের সঙ্গে জামায়াতের একটা সমঝোতা চলছে। যার কারণে এই মুহূর্তে বিএনপি বা জিয়াউর রহমানের নাম বললে তারা হয়তো আরও বিপদে পড়তে পারে। সেন্টিমেন্ট বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের পক্ষে। এখন তার নাম উচ্চারণ করলে হয়তোবা সরকারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হচ্ছেন সাধারণ মানুষের আবেগের জায়গা। একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে অসম্মান করা, ছোট করা-এটা সত্যিকারে যারা আওয়ামী লীগ করেন, তারাও চায় না।

বিবৃতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যে ভাষায় বিবৃতি দেওয়া উচিত, সে ভাষায়ই আমরা দিয়েছি। মহান ব্যক্তিদের জন্যই দিয়েছি। এখানে আমরা একজনকে হোক বা একাধিক জনকে হোক, যারাই ভালো ব্যক্তি, তাদের নিয়ে বিতর্ক না হোক-সেটাই চাই।

তবে জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, বিবৃতিতে কী যাবে, তা দলের শীর্ষ নেতারা ঠিক করেন। তবে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করার কিছু যৌক্তিক কারণ আছে। এটি কৌশলও হতে পারে। কারণ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার, ফাঁসির রায় এবং তা কার্যকর করা হয়, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, জামায়াতের বিবৃতিতে দলের প্রতিষ্ঠাতার নাম উল্লেখ না করায় বিএনপির কট্টরপন্থি নেতাদের মধ্যে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানকেও জানিয়েছেন। এসব নেতা আগে থেকেই বলে আসছেন, জামায়াতকে জোটে রাখার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিএনপি। বিএনপির বর্তমান দুরবস্থার জন্য এবং প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হওয়ার পেছনে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সঙ্গ দায়ী। তবে দলের আরেকটি অংশ মনে করে, ভোটের রাজনীতির অঙ্কে জামায়াত এখনো গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বিএনপি ভোট করে ক্ষমতা গ্রহণে বিশ্বাসী দল, তাই নির্বাচনি অঙ্কের হিসাব করলে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা খুবই কঠিন কাজ। -যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!