ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চমেক হাসপাতাল রোগীর ভারে বিপর্যস্ত

চমেক হাসপাতাল রোগীর ভারে বিপর্যস্ত

Chittagong_medical_logo

নিউজ ডেক্স : মাত্র ৫০০ শয্যার অবকাঠামোতে নির্মিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বর্তমান শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৩১৩। প্রশাসনিক আদেশে ৩/৪ বছর আগে এই শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়েনি জনবল। অধিকন্তু ১ হাজার ৩১৩ শয্যার বিপরীতে প্রতিনিয়ত প্রায় ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকছে গরিবের হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত এই হাসপাতালে। তবে এই তিন হাজার রোগীর সেবা চলছে সে–ই ৫০০ শয্যার জনবলেই। তাছাড়া ৪২টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট এই হাসপাতালে স্থান সংকটও চরম পর্যায়ে। শয্যা ছাড়িয়ে মেঝে, বারান্দা, করিডোর এমনকি সিঁড়িতেও রাখতে হচ্ছে রোগীকে। জনবল ও স্থানের এমন চরম সংকট নিয়ে এতদঞ্চলের বিশাল সংখ্যক রোগীর চাপ যেন আর নিতে পারছেনা হাসপাতালটি। সবমিলিয়ে গরিবের এ হাসপাতালটি বর্তমানে রোগীর ভারে বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতি হতে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে নগরে বিশেষায়িত আরো তিনটি হাসপাতালের প্রস্তাব করেছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিনের স্বাক্ষরে গত ১৫ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত হিসেবে একটি শিশু হাসপাতাল, একটি হৃদ রোগ হাসপাতাল এবং অপর একটি ট্রমা (অর্থোঃ সার্জারি) হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে চিঠিতে। একই সাথে বিদ্যমান হাসপাতালের জন্য ১ হাজার শয্যা ধারণ ক্ষমতার নতুন একটি ভবন নির্মাণেরও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লেখা এ চিঠিতে অতিরিক্ত সচিবের (হাসপাতাল) বিশেষ দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন), পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) ও পরিচালক (হাসপাতাল) কে চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়– শুধু চট্টগ্রাম মহানগরেই অর্ধকোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। এর বাইরে চট্টগ্রামসহ এতদঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় চমেক হাসপাতাল একমাত্র ভরসাস্থল। শিল্পায়ন, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ডসহ বিভিন্ন কারণে হাসপাতালে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সহনীয় মাত্রার বাইরে। এর মধ্যে শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত প্রায় ৬ শতাধিক, হৃদরোগ ওয়ার্ডে ৩৫০, অর্থোপেডিক (ট্রমা) ওয়ার্ডে ৩ শতাধিক এবং নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত ২ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। এসব ওয়ার্ডের প্রতিটির রোগীর সংখ্যা একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের রোগীর সংখ্যারও বেশি। এর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশেষায়িত একটি শিশু হাসপাতাল, একটি হৃদরোগ হাসপাতাল এবং অপর একটি ট্রমা (অর্থোঃসার্জারি) হাসপাতাল গড়ে তোলার অপরিহার্যতার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।

বিশেষায়িত তিনটি হাসপাতালের প্রস্তাব প্রসঙ্গে চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন আজাদীকে বলেন,

জনবল ও স্থান সংকটের কারণে হাসপাতালে বিশাল সংখ্যক রোগীর কাঙিক্ষত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া নির্দিষ্ট কয়েকটি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এত বেশি যে, তা ওয়ার্ডের সহনীয় মাত্রার বাইরে। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ড, হৃদরোগ ওয়ার্ড, অর্থোপেডিক ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য। এসব ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল অতি জরুরি হিসেবে মনে করেন হাসপাতাল পরিচালক। পরিচালকের মতে– সেটি হলে এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা আরো উন্নত হবে। রোগীরাও কাঙিক্ষত সেবা পাবে। পাশাপাশি আমাদের হাসপাতালের উপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে পৃথক তিনটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে আমরা লিখিত প্রস্তাব দিয়েছি। মন্ত্রণালয় বিষয়টি সদয় বিবেচনা করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন।

রোগীর বেশি চাপ থাকা ওয়ার্ডগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়– গত এক বছরে (অক্টোবর–২০১৬ থেকে সেপ্টেম্বর–২০১৭ পর্যন্ত) শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ৫টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৫ জন শিশু রোগীকে অন্তঃবিভাগে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। একই সময়ে অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে ৭৭ হাজার ৬৯৩ জন রোগীকে। আর কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিভাগে এই সময়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ৮৪ হাজার ১৭৮ জন রোগী।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এসব রোগীর অধিকাংশই নিম্মবিত্ত পরিবারের। প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা খরচ বহনে অক্ষম এসব পরিবারের জন্য সরকারি এই হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। এই বিশাল সংখ্যক দরিদ্র রোগীর কাঙিক্ষত চিকিৎসা সেবার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা অতিশয় জরুরি বলে মনে করেন হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী ও হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. প্রবীর কুমার দাশ।

চমেক হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য মতে– সব মিলিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২’শ। তবে এর মধ্যে হাসপাতালের নিজস্ব চিকিৎসক রয়েছেন ২৫০ জন। আর ইন্টার্ণি চিকিৎসকের সংখ্যা ২৮৫ জন। মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক থেকে প্রভাষকসহ আছেন ২৫০ জন। পোস্ট গ্রাজুয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থী (তাঁরা হাসপাতালে ডিউটিও করেন) রয়েছেন ২৫০ জন। এছাড়া ২৫০ জন অনারারি চিকিৎসক হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত নার্সের সংখ্যা ১১শ। আর নিজস্ব কর্মচারি রয়েছে সাড়ে চারশ। এর মধ্যে ৩য় শ্রেণির একশ এবং ৪র্থ শ্রেণির সাড়ে তিনশ জন। এর বাইরে ৭১ জন চুক্তি ভিত্তিক এবং আড়াইশ জন কর্মচারি অবৈতনিক হিসেবে রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বর্তমানে মোটামুটি চলনসই বলে জানালেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন। তবে কাজের চালিকা শক্তি হিসেবে কর্মচারির সংকটটা খুব বেশি বলে তিনি মনে করেন। পরিচালকের দাবি– হাসপাতালের বিশাল সংখ্যক রোগীর জন্য কম হলেও আরো ৮’শ কর্মচারি (৩য় শ্রেণির– ২০০ এবং ৪র্থ শ্রেণির–৬০০) প্রয়োজন। এই সংখ্যক কর্মচারি পাওয়া গেলে হাসপাতালের রোগীদের কাঙিক্ষত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। –আজাদী প্রতিবেদন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*