Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে অর্ধশতাধিক অনিরাপদ রেল ক্রসিং

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে অর্ধশতাধিক অনিরাপদ রেল ক্রসিং

Boalkhali (1)

নিউজ ডেক্স : রেলওয়ের চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার লাইনের নগর হতে দোহাজারী পর্যন্ত অংশে কম করে হলেও প্রায় অর্ধ শতাধিক লেভেল ক্রসিং রয়েছে। শুরুতেই এখানকার প্রধান-প্রধান ক্রসিংগুলোতে গেটম্যানসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকলেও গত ২/৩ যুগ ধরে তা নেই । নগর অংশে কিছুটা থাকলেও তা অনেকটাই নড়বড়ে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে এখানে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত রেলক্রসিং পারাপার হচ্ছে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন। এমন কি ব্যস্ততম ক্রসিংগুলোতে কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় সময় এখানে ঘটে যাচ্ছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। সেই সাথে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও। গত কয়েক বছর আগে রেল কর্তৃপক্ষ এখানে নিজ দায়িত্বে পারাপার হোন সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দায় সারলেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে এখানকার পথচারী ও এলাকাবাসীকে। জানা যায়, এ লাইনের বোয়ালখালী, তুলাতল, বুড়ি পুকুর , বটতল বেগুরা বাজার, সারোয়াতলী সড়ক, ধলঘাট খানমোহনা স্টেশনের আগে পটিয়া বোয়ালখালী সড়ক, বাহুলী পৌরসভা সড়ক, গিরিস চৌধুরী বাজারস্থ পারিগ্রাম সড়ক, খরনা রেল স্টেশন ইউপি সড়ক, কমল মুন্সির হাট, কাঞ্চন নগর, খানহাট ছৈয়দাবাদ সড়ক, হাসিমপুর বাগিচাহাট, দোহাজারী বাজার, হাশিমপুর নাছির মোহাম্মদ পাড়া সড়ক, হাশিমপুর রেল ষ্টেশন সংলগ্ন সড়ক, গাছবাড়ীয়া সড়ক, কাঞ্চননগর সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিনের বাড়ির সড়ক,মুজাফরাবাদ মুরাদাবাদ ও নগর অংশের বেশ কয়েকটিসহ ছোট-বড় প্রায় অর্ধ শতাধিক লেভেল ক্রসিং রয়েছে রুটটিতে। এসব ক্রসিংয়ের মধ্যে নগরের অংশগুলো কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও বোয়ালখালী থেকে দোহাজারী ক্রসিংগুলো রয়েছে অরক্ষিত। এর একটিতেও নেই গেট কিংবা গেটম্যান, সেই সাথে নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

সরজমিনে দেখা যায়, এ সব ক্রসিং দিয়ে প্রতিনিয়তই রিক্সা, টেম্পু, টেক্সি, কার, মাইক্রো ট্রাকসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুুষ পার হচ্ছে অনায়াশে । অনেক সময় ট্রেনের হুইসেল বাজলেও এরা থামেনা কিছুতেই। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। নগরীর চান্দগাঁও এলাকার রেশমা নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, গত ২০১৪ সালের মার্চ মাসে এ রুটের বাহির সিগন্যাল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষে ৫ যাত্রী নিহত ও ২৫ জন আহত হয়। গেটম্যান থাকলে ঘটনাটি ঘটতো না বলে মনে করেন তিনি।

বোয়ালখালী উপজেলা সদরস্থ গোমদন্ডী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজির আহমদ বলেন, গোমদন্ডী ষ্টেশন সংলগ্ন বুড়ি পুকুর পাড় ক্রসিংটি আমাদের স্কুলের একদম নিকটবর্তী হওয়ায় এটি নিয়ে আমাদের সব সময় তটস্থ থাকতে হয়। কারণ এখানে কোন গেট বা গেটম্যান না থাকায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়তে সমস্যা হয়। গত কয়েক বছর আগে এখানে ট্রেনের সাথে মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে পিতা পুত্র ও এক দোকান কর্মচারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা দু’টি এখনো স্মরণ করে অনেকেই।

পটিয়া চক্রশালা বাজারের সুরেশ চৌধুরী নামের এক দোকানদার জানায়, ক্রসিংগুলোতে গেট ও গেটম্যান না থাকায় ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন। ফলে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে এখানে। গত ডিসেম্বর মাসে চক্রশালা রেল স্টেশনের আগে পারিগ্রাম এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রেনের সাথে একটি বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ট্রাক চালক হেলপার ও ট্রেনের ২০ জন যাত্রী আহত হয়।

গোমদন্ডী ষ্টেশন মাস্টার মো. আবু জাফর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালীর ক্রসিংগুলো অনিরাপদ ও অরক্ষিত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই অবগত করা হয়েছে। দোহাজারী ষ্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেছেন, গত এক বছরে পটিয়া দোহাজারী এলাকার লেভেল ক্রসিংগুলোতে ছোট-বড় ৭/৮ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, দোহাজারী ষ্টেশন সংলগ্ন বাজারের উপর দোহাজারী লালুটিয়া সড়ক । এ সড়কের লেভেল ক্রসিংয়ে প্রায় সময় ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গেইটম্যান না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান তিনি ।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, রেললাইনে এক সময় প্রতিদিন সকাল বিকেল ছয় জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও লোকসানের অজুহাত তুলে নব্বই দশকের পর থেকে আস্তে আস্তে তা এক জোড়ায় নামিয়ে আনে রেল কর্তৃপক্ষ । স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে দীর্ঘ দু’যুগেরও অধিক সময় পর গত ৩ নভেম্বর শনিবার থেকে পুনরায় আরো এক জোড়া সংযুক্তির ফলে এখন এ রুটে দু’জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি কোন ধরনের সংকেত ছাড়া যাতায়াত করে থাকে দোহাজারীতে গড়ে উঠা পিকিং পাওয়ার বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের জন্য ফার্নেস অয়েলবাহী ওয়াগনগুলো। ফলে এসব ক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক না করলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরো বেড়ে যেতে পারে বলে আশংকা অনেকের ।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম দোহাজারী রেলপথে লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান দেয়ার জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে। আপাতত এসব ক্রসিং পারাপারে সাবধান করে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দোহাজারী রেল পথের ট্রেন যাত্রীরা সরকার ও সং্‌শ্িলষ্ট কর্তৃপক্ষের শুভ দৃষ্টি কামনা করেছেন।

biman-ad

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!