Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রামে কমেছে বোরোর আবাদযোগ্য জমি

চট্টগ্রামে কমেছে বোরোর আবাদযোগ্য জমি

159ed4050e0a4b-696x447

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রাম জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদযোগ্য জমির লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় কমেছে। গত ২০১৬–২০১৭ মৌসুমে ৬১ হাজার ১৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তা কমিয়ে এবার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ হাজার ১৮০ হেক্টর। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১৭ হেক্টর জমির। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

অবশ্য আবাদের লক্ষ্যমাত্রা কমলেও উৎপাদনে আশাবাদী কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এবার কৃষি বিভাগ ‘উফশী’ ও ‘হাইব্রিড’ দুই জাতের ধানের বিপরীতে হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যা গতবার ছিল ৩ দশমিক ৯৭ টন। এবার হেক্টর প্রতি হাইব্রিড ৪ দশমিক ৭৬ মেট্রিক টন চাল এবং উফশী ৩ দশমিক ৯৩ মেট্রিক চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাদযোগ্য জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নিধার্রণ করা হয়েছে। গতবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯০ মেট্রিক টন চালের।

কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা : এদিকে কৃষক এবং কৃষি গবেষকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেছেন, প্রকৃতি অনুকূলে না থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হবে না। তাছাড়া কৃষি উপকরণের মূল্য নাগালের বাইরে গেলেও কৃষকরা শেষ মুহূর্তে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাষও হয় নি।

এ ক্ষেত্রে উদাহারণ হিসেবে কৃষি গবেষকরা বলছেন, ২০১৫–২০১৬ মৌসুমে ৬১ হাজার ১৯৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অথচ আবাদ হয়েছিল ৬০ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। ওই বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন চাল এবং উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার ৮৮ মেট্রিক টন কম। এর আগে ২০১৪–২০১৫ মৌসুমে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৫৫৮ মেট্রিক টন কম ছিল।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, এবার ল ্যমাত্রা কম ধরা হলেও বেশি চাষাবাদ হবে। কারণ বীজতলা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। ২৯ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টর বীজতলায়। তার মানে কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহী। এর কারণ হিসেবে এ কৃষিবিদ বলছেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। নন ইউরিয়া সারের দামও কম। তাছাড়া কৃষকরা জৈব সারের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন। সবমিলিয়ে চাষাবাদের খরচ কমে আসায় কৃষকরা লাভবান হবেন। তাই তারা আগ্রহী।

উপজেলা ভিত্তিক চলতি মৌসুমের চিত্র : চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একমাত্র সন্দ্বীপ জেলায় বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় নি। এর বাইরে ১৩ উপজেলা এবং নগরীর তিনটি থানায় বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বোয়ালখালীতে গতবারের তুলনায় ৭৪০ হেক্টর, রাউজানে ৪০৫ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৩৫০ হেক্টর, হাটহাজারীতে ১৩০ হেক্টর এবং চন্দনাইশে ১৬০ হেক্টর জমির চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। বোয়ালখালীতে এবার ১৫শ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৯২৮ টন চাল, রাউজানে ৪ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে ১৮ হাজার ৩৫৫ টন চাল, ফটিকছড়িতে ৭ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে ৩১ হাজার ৮৩৮ টন চাল, হাটহাজারীতে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ১৬ হাজার ৩৬৮ টন চাল, এবং চন্দনাইশে তিন হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে ১৪ হাজার ১৬৩ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া লোহাগাড়া উপজেলায় গত বছরের তুলনায় ৭৫০ হেক্টর জমি বাড়িয়ে তিন হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ১৬০ টন চাল। বাঁশখালীতে ৫শ হেক্টর জমি বেড়ে চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৬০ হেক্টর, আনোয়ারায় ৫ হাজার ৯১০ হেক্টর থেকে বেড়ে ৬ হাজার ১২০ হেক্টর ল ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় ৮০ হেক্টর বেড়ে এবার ৭ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পটিয়ায় ৬০ হেক্টর বেড়ে ৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমি, সাতকানিয়ায় ৩০ হেক্টর, ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি, মিরসরাইয়ে ২০ হেক্টর, এক হাজার ২৯০ হেক্টর জমি, পাঁচলাইশে ১৩ হেক্টর বেড়ে ৬৫০ হেক্টর এবং সীতাকুণ্ডে ৫ হেক্টর বেড়ে ১৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। -দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*