ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এমপি’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এমপি’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

139

এলনিউজ২৪ডটকম : অতীতের হারিয়ে যাওয়া শত সহস্র আনন্দময় ও শোকাহত স্মৃতির মাঝে সেই বিস্মাত এক স্মৃতি আজো হৃদয়কোণে লুকিয়ে বিশ্ব মহিমায় আপন সৌরভ ছড়িয়ে সাড়া জাগাচ্ছে শয়নে-স্বপনে ও নিশীত জাগরণে। সেই স্মৃতি দীপ্ত মহিমায় উদ্ভাসিত, দুর্বল, অসহায়, নির্যাতিত গরীবালয়ের আনন্দঘন কান্না মিশ্রিত। এ স্মৃতি অন্যায়ের এক প্রতিবাদী কন্ঠ, অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের আতঙ্ক। এ স্মৃতি মানুষকে এখনো কাঁদায়, কখনো হাসায়। স্মৃতির প্রহরে এ স্মৃতি জেগে উঠে হাসি-কান্নায় সদামিশ্রিত এক নতুন দিগন্তে নিয়ে। এ বিস্মৃত স্মৃতি লোহাগাড়ার সিংহপুরুষ ও চট্টল গৌরব মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। স্মৃতির এ বিশালতায় মানুষ অমর হন কর্মগুণে, ধ্যান-ধারণা ও সাধনা বলে। সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর মানুষগুলো জীবন সংগ্রামে আপন কর্মগুণে বিশ্বকে জয় করে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মানুষের হৃদয়-মন জয় করে অমরত্ব লাভ করে ধন্য হন। তাঁরাই মহামানব, তাঁরাই মনীষী, পন্ডিত ও জ্ঞানী-গুণীজন। এরপরও এ মহু মহামানবের বিচিত্রলীলায় কেউ চায় ধন-সম্পদ, অর্থবিত্ত ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেঁচে থাকতে। আবার কেউ চান পরার্থে জীবন উৎসর্গ করে স্বর্গীয় সুখে সুখী হয়ে জীবনের অবসান ঘটিয়ে পরকালে আশ্রয় গ্রহণ করতে। স্মৃতির অতলতলে হারিয়ে যাওয়া লোহাগাড়ার সেই সিংহ পুরুষ মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী পরার্থে উৎসর্গকৃত প্রাণের মধ্যে একজন।

কালজয়ী এ সিংহপুরুষ ১৯২৭ সালে তৎকালীন সাতকানিয়া থানা বর্তমান লোহাগাড়া থানাস্থ সদর ইউনিয়ন লোহাগাড়ার এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম তৈয়ব উল্লাহ সওদাগর এবং মাতার নাম মরহুমা নছুমা খাতুন। জমিদার পরিবারের আদর øেহে মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী নিজ গ্রামের বিদ্যালয়ের লেখাপড়া করেন। তাঁর পর তিন ভাই যথাক্রমে মমতাজুল হক চৌধুরী, এনামুল হক চৌধুরী ও নুরুল হুদা চৌধুরী (নুরু) একইভাবে পিতৃ ও মাতৃøেহে লালন-পালন হন। কিন্তু ভাইদের মধ্যে মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ছিলেন ভিন্নতর। ছিপছিপে লম্বা, সুন্দর চেহেরা ও প্রতিবাদী কন্ঠে তিনি জন্ম নেন এবং পার্শ্বচর হিসাবে অবস্থা গ্রহণ করেন সমাজের দুর্বল অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের পাশে।

বাল্যকাল থেকে মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী সামাজিক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিত্ব নিয়ে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাঁর ঐ ব্যক্তিত্ব পরবর্তীতে জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলে তিনি সামাজিক কর্মকান্ডের সহিত জড়িত হন। এরপর থেকে তৎকালীন অবিভক্ত সাতকানিয়া থানার এ অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভিন্নরূপ ধারণ করেন। তাঁর শাসন ও প্রতিবাদী কন্ঠের কাছে ক্রমশঃ সব ধরণের অত্যাচার, অবিচার দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি ঐ সময় এলাকায় সহজে চুরি-ডাকাতিসহ যে কোন ধরণের গর্হিত সমাজবিরোধী কাজ করতে কেউ সাহস পেতনা। জীবন সায়াহ্নের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ ও দশের কথা ভাবতেন। চিন্তা করতেন কিভাবে এলাকার জনগণকে সুখ-শান্তি দেয়া যায়। সুখ-শান্তি, ভোগ-বিলাস, ধন-সম্পদ তাঁর কাল যাপনের মূল উপজীব্য বিষয় ছিলনা। সদা তাঁর চিন্তা ছিল দরিদ্র কুটিরে কিভাবে হাসির জোয়ার বয়ে দেয়া যায়। সমাজ থেকে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানিসহ যাবতীয় গর্হিত কাজ দূর করে শান্তির ফোয়ারা কিভাবে বয়ে দেয়া যায়।

সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় তিনি সক্ষম হয়েছিলেন ঐ সব সমাধান দিতে, এলাকার সর্বস্তরের গরীব-মেহনতী মানুষগুলো অতি কাছে পেয়েছিলেন তাঁদের সেই প্রাণপ্রিয় মানুষটিকে। অবশেষে ঐ সিংহ পুরুষটি এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় স্থির থাকতে না পেরে রাজনীতির সহিত জড়িত হলে দেশ ও দশের আরো বেশী উপকার করতে পারবেন। তাই তিনি ১৯৭৩ সালের স্থানীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট ভোট লাভের পরও রহস্যজনকভাবে নির্বাচিত হতে পারেননি। এতে তিনি মানসিকভাবে দুর্বল না হলেও তাঁর অনুসারী ও অনুরাগীরা দারুণভাবে মানসিক বেদনায় অস্থিতর হয়ে পড়েছিল। কালের স্রোতে তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। জনস্রোতের মহাসাগরে তিনি ছিলেন একজন নির্ভীক সৈনিক, জনসেবার অতন্দ্রপ্রহরী এবং গরীব, দুঃখী মেহনতী মানুষের জীবন যাত্রায় দুঃসাহসিক অগ্রপথিক ও অভিযাত্রী। সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হলে ও তাঁর মান, মর্যাদা ও সম্মান আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শত সহস্র জনসাধারণ ঝাঁকে ঝাঁকে কাতারবদ্ধ হয় তাঁর পেছনে। বিশাল জনসমুদ্র। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে একটিবার তাদের প্রিয় মানুষটি দেখার জন্য বটতলী মোটর ষ্টেশনে অপেক্ষা করছিল সহস্রাধিক জনগণ। সম্ভবতঃ কোন একটি বিচারানুষ্ঠানের আয়োজন ছিল ঐদিন।

এ কথা বাস্তব সত্য যে, মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী আসার সাথে সাথে পূর্বের জনগণের চেয়ে হয়তো আরো দশগুণ মানুষ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এভাবে তিনি যেখানে যেতেন সেখানকার পরিবেশ এরূপ ধারণ করত। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ক্রমশঃ জনপ্রিয়তা লাভ করলে এলাকাবাসীর অকুন্ঠ সমর্থনে তিনি পুণরায় ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে স্থানীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের দুঃখ-দুর্দশা মোচনে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষা, যাতায়াত, চিকিৎসা, বন্যা প্রতিরোধ, খালখনন, আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৪ সালে লোহাগাড়া থানা বাস্তবায়ন লাভ করে।

এ সিংহ পুরুষ আজ আমাদের মাঝে নেই। বি¯তৃত-স্মৃতির শোক সাগরে এলাকার জনগণকে ভাসিয়ে ১৯৮২ সালের ১লা মার্চ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডন ও ঢাকায় পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার পর নিজ গ্রামের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ ছেলে যথাক্রমে এটিএম জাহেদ চৌধুরী, এটিএম খালেদ চৌধুরী, এটিএম মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, মরহুম এটিএম সাহেদ চৌধুরী (রানা) ও এটিএম রিংকু চৌধুরী। কন্যা ছয়জন যথাক্রমে নাছিমা আক্তার, শামিমা আক্তার (মিটু), ইয়াসমিন আক্তার (বেনু), উম্মে ছালমা (কাজল), জহরুতুন্নেছা (মুন্নি) ও নাসরিন ফেরদৌসী (শিল্পী) সহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে যান।

আজ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এমপি’র ৩৭তম মৃত্যু বার্ষিকী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*