Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জটিলতা কাটছে না

কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জটিলতা কাটছে না

Untitled-13-2-696x431

নিউজ ডেক্স :  কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিং এবং দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ–এ দুই ইস্যুতে জটিলতা কাটছে না। বরং বাড়ছে। এর মধ্যে চার বছর ধরে বন্ধ থাকার পর ড্রেজিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের নেওয়া উদ্যোগ যখন বাস্তবায়নের পথে, ঠিক তখনই নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কারণ, গত সপ্তাহে উচ্চ আদালতের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ান মেরিটাইম ড্রেজিং কর্পোরেশনের পক্ষে রায় দেয়। অথচ নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেজিং শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০১৪ সালে চুক্তি বাতিল করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এদিকে নতুন করে নৌ–বাহিনীর মাধ্যমে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেয়। আগামী ১৩ আগস্ট নৌ–বাহিনীর ডিপিএম পদ্ধতিতে (সরাসরি সংগ্রহ পদ্ধতি) দরপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে গতকাল বন্দর ভবনে বৈঠকও হয়েছে। গত ১ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলীসহ দেশের বড় নদীগুলো খননে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাই কোর্টের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও মোটেও অপেক্ষায় নেই প্রভাবশালী দখলদাররা। গতকাল সরেজমিনে এই চিত্রই দেখা গেছে। কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা ২ হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন হয়নি গত এক বছরেও। অথচ ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট দেওয়া অথচ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল, ‘রায় প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে নদীর তীর দখল করে যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তা সরিয়ে নিতে স্থানীয় দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে প্রশাসনকে’। কিন্তু গত এক বছরেও রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে না পাওয়ায় দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে কর্ণফুলীর দুই পাড়ে নতুন করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন্দর ও জাহাজীকরণ বিষয়ক উপ–কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রয়োজন। অতীতে যেসব অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছিল, এবার যেন সেইসব না ঘটে। আমরা চাই, প্রকৃত অর্থেই ড্রেজিং হোক। কর্ণফুলী চ্যানেলে নাব্যতা বৃদ্ধি করতেই হবে। সঠিকভাবে ড্রেজিং করা হলে বন্দরের নেভিগেশন সিস্টেম উন্নত হবে এবং বেশি ড্রাফটের জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে।

উচ্চ আদালতের রায় সত্ত্বেও কর্ণফুলীর দুই পাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। উচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেতে বছরের পর বছর চলে যায়, এটা সত্য। তবে এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনকে রায়ের কপি পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমানে যারা অবৈধ দখল নিয়ে সুবিধা ভোগ করছেন তারা তো চাইবেন রায়ের কপি প্রকাশে দেরি হোক। কিন্তু প্রশাসনকে একটু সজাগ থাকতে হবে।

ড্রেজিং জটিলতা :
২০১১ সালের ৫ জুলাই ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং অ্যান্ড এবং ব্যাংক প্রটেকশন’ নামে ২২৯ কোটি ৫৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ; যা ২০১৩ সালের আগস্টে বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় ড্রেজিংয়ের কাজ পায় মালয়েশিয়ার মেরিটাইম অ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশন।

ড্রেজিংয়ের ওই প্রকল্পের আওতায় বন্দরের দুই কিলোমিটার উজানে সদরঘাট জেটির ১০০ মিটার ভাটি থেকে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর ৫০০ মিটার উজান পর্যন্ত অংশে নদীর নাব্যতা ফেরাতে ৩৬ লাখ ঘনমিটার বালি/মাটি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণের কথা ছিল। একই প্রকল্পে ২ হাজার ৬১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের তীর নির্মাণ, মেরিন ড্রাইভ তৈরি এবং সদরঘাট এলাকায় ৪০০ মিটার লাইটারেজ জেটি নির্মাণের কথা ছিল। ড্রেজিং শেষ হলে সংশ্লিষ্ট নদী এলাকার গভীরতা চার মিটার এবং নদীর সঙ্গে যুক্ত মূল দুই খাল রাজখালী ও চাক্তাইয়ের সম্মুখভাগের গভীরতা আরও বাড়ার কথা ছিল।

প্রকল্পের কাজ পাওয়া মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানটির সাথে চুক্তি ছিল, কাজ শুরুর ৬শ দিনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। সেই হিসেবে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চুক্তি বাতিল করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আদালতে মামলা করে। তখন আদালত চুক্তি অনুযায়ী আরবিট্রেশনাল ট্রাইব্যুনালে এর নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়। ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘদিন শুনানির পর গত শনিবার রায় দেন।

রায়ে বলা হয়েছে, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের ওই চুক্তি বাতিল আইনসঙ্গত হয়নি, এটি অবৈধ ছিল। ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল আমীন এবং বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ঠিকাদার বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে রায় দেন। অপর বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মুমিনুর রহমান ঠিকাদার বাতিল আইনসম্মত হয়েছে বলে রায় দেন। ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টির ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবিকৃত অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

মালয়েশিয়ান মেরিটাইম ড্রেজিং কর্পোরেশনের (এমএমডিসি) রায় পাওয়ায় ড্রেজিং করতে কোনো সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, দুটো দুই জিনিস। ওটা তো আরবিট্রেশন (সালিশি) মামলা। এটার রায়ের সঙ্গে নতুন করে ড্রেজিংয়ের যে উদ্যোগ তার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

এদিকে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ নামে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ । ২৫৮ কোটি টাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে নৌ–বাহিনী। আগামী ১৩ আগস্ট নৌ–বাহিনীর ডিপিএম পদ্ধতিতে দরপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে গতকাল বন্দর ভবনে বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে নৌ–বাহিনী, জাইকা ও চায়না হার্বারের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত বছর বুয়েট দ্বারা সমীক্ষা চালিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। সদরঘাট থেকে চর বাকলিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকায় নদীর ৪২ লাখ ঘনমিটার বালিসহ বর্জ্য অপসারণ করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়। ড্রেজিং সম্পূর্ণ হলে এই অংশে চার থেকে পাঁচ ফুট ড্রাফটের জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বন্দরের এক জরিপে ড্রেজিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে ৩৩ দশমিক ৮৮ লাখ ঘনমিটার মাটি জমার প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে এর পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে। আগের প্রকল্পের একটা মূল সমস্যা ছিল নদীর সঙ্গে যুক্ত খালের মোহনায় বর্জ্য জমে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় না নেওয়া। এর ফলে যেখানে পলিথিন জমে ছিল, সেখানে কাজ করতে গিয়ে ড্রেজার আটকে যাচ্ছিল। তাছাড়া বৃষ্টি হলেই লাখ লাখ টন পলিথিন এসে জমা হয়। তাই নতুন প্রকল্পে সেসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরের উপদেষ্টা কমিটির ১১তম সভা। সভায় জানানো হয়েছিল, আরবিট্রেশন কোর্টে মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের প্রেক্ষিতে সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে কোনো আইনগত বাধা নেই। তাই বুয়েটের মাধ্যমে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করে ড্রেজিং ও ৩ বছরের সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের প্রস্তাবনা ডিপিপি আকারে প্রয়োজনীয় অনুমোদনর মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ডিপিএম পদ্ধতিতে করা হবে।

এক বছরেও শুরু হয়নি দখলদার উচ্ছেদ :
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলীর দুই পাড়ে ২ হাজার ১৮১ জন দখলদার বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে আরএস রেকর্ডমূলে কর্ণফুলী নদীর বাকলিয়া ও পূর্ব পতেঙ্গা মৌজায় মোট ২১১২ জন অবৈধ দখলদার এবং বিএস রেকর্ডমূলে বাকলিয়া, মাদারবাড়ী, গোসাইলডাঙ্গা, মনোহরখালী, ফিরিঙ্গিবাজার মৌজায় মোট ৬০ জন অবৈধ দখলদার আছেন। কর্ণফুলীর তীরে মোট ১৫৮ দশমিক ৪৫ একর ভূমিতে স্থাপনা গড়েছে। স্থানীয়ভাবে ১৫৮ একর ভূমির মূল্য দুই হাজার ৩৭০ কোটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাই কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ কর্ণফুলী নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরাতে ৯০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে রায় দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রায় প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে নদীর তীর দখল করে যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তা সরিয়ে নিতে স্থানীয় দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেন, ‘যদি স্থাপনা না সরানো হয়, তাহলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী, বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এসব স্থাপনা অপসারণের ব্যবস্থা করবেন।

এদিকে হাই কোর্টের রায়ের পর পার হয়েছে প্রায় এক বছর। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো দখলদার তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। এছাড়া জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের পক্ষেও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল জলিল দৈনিক আজাদীকে বলেন, রায়ের সার্টিফিকেট কপি এখনো পাইনি। হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় না পেলে কীভাবে উচ্ছেদ করব? রায়ের কপিটা খুব জরুরি। কারণ, সেখানে নির্দেশনা থাকবে। রায়ের কপি পেলে আমরা সিটি কর্পোরেশন এবং বন্দরের সঙ্গে বসে ঠিক করব কীভাবে উচ্ছেদ করা যায়।

হাই কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৮ জুলাই কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটের প্রেক্ষিতে কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণ এবং নদী দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছিলেন আদালত। এছাড়া নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার তালিকা আদালতে দাখিল করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। আগ্রাবাদ সার্কেলের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবু হাসান সিদ্দিকীকে আহ্বায়ক করে গঠিত ওই কমিটির প্রতিবেদনটি ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর উচ্চ আদালতে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে উলেহ্মখ করা হয়, দখল করা জমিতে কাঁচাঘর, দোকান, ভবন, বালুর স্তূপ, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, মৎস্য প্রকল্প, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিহার, দাতব্য চিকিৎসালয়, পহ্মাস্টিক, বোতল ও গার্মেন্টস কারখানা এবং মুরগির খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এসব দখলদারের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিধর ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট দেওয়া উচ্চ আদালতের রায়ে পরিবেশ আইন ও জলধারা আইন অনুযায়ী, নদীর তীরে গড়ে ওঠা নৌবাহিনী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের জেটিসহ ৬টি স্থাপনা সরকারি সংস্থার হওয়ায় এগুলো অপসারণ করা যাবে না। তবে এসব সরকারি সংস্থাকে তাদের স্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অনুমতি নিতে হবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে ওই আবেদন বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

উচ্ছেদ আদেশের মধ্যেই নতুন দখল :
কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাই কোর্টের তরফে আদেশ হয়েছে এক বছর। কিন্তু জেলা প্রশাসন অফিসে আদেশের কপি কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সার্টিফায়েড কপি কোনোটাই আসেনি। আদালতের আদেশ না আসার সুযোগ নিয়ে নতুন উদ্যমে কর্ণফুলী দখলে নেমেছে প্রভাবশালী দখলদাররা।

গতকাল গিয়ে দেখা গেছে, কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাড় লাগোয়া অংশে নতুন নতুন স্থাপনা গড়ে উঠছে প্রতিদিন। সরকারি জায়গায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও যেন দেখার কেউ নেই।

জেলা প্রশাসন অফিস হাই কোর্টের রায়ের কপির অপেক্ষায় থাকলেও অপেক্ষা নেই প্রভাবশালী দখলদাররা। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিতে জেলা প্রশাসনকে আদালতের আদেশ আসার অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু নতুন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার বিরুদ্ধে প্রশাসন নজর দিতে পারে না?

-আজাদী প্রতিবেদন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*