Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছরে ১৩৬৪ সফল ডেলিভারি, নতুন ২ ডেলিভারি টেবিল সংযোজন

লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছরে ১৩৬৪ সফল ডেলিভারি, নতুন ২ ডেলিভারি টেবিল সংযোজন

এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছরে সফলভাবে ১ হাজার ৩৬৪টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২ মে) প্রসূতি সেবার মান আরো উন্নত করতে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত নতুন ২টি ডেলিভারি টেবিল সংযোজন করা হয়। এতে প্রসবসেবা আরো সহজ, নিরাপদ ও মানসম্মত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে সিজারিয়ান অপারেশনও সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে মা ও নবজাতকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে হাসপাতালে দায়িত্বরতদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সিংহভাগই স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। গর্ভকালীন নিয়মিত চেকআপ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও জরুরি সেবার সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করায় এ সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত প্রসূতি মায়েদের জন্য সার্বক্ষণিক সেবা চালু থাকায় অনেকেই এখন বাড়িতে অনিরাপদ প্রসবের পরিবর্তে হাসপাতালে আসছেন। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের বিকল্প নেই। সময়মতো হাসপাতালে এলে অধিকাংশ জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

সেবা নিতে আসা একাধিক প্রসূতি ও তাদের স্বজনরা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের আন্তরিকতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বিনামূল্যে উন্নত সেবা পাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। নিরাপদ পরিবেশে ডেলিভারি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি বড় স্বত্বির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন ডেলিভারি টেবিল সংযোজন এ সেবাকে আরো গতিশীল করবে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিমত, এ ধারা অব্যাহত থাকলে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে জানান তারা।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পন কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন ২টি ডেলিভারি টেবিল সংযোজনের মাধ্যমে রোগীরা এখন থেকে আরো নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও আধুনিক পরিবেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নরমাল ডেলিভারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রসূতি মায়েদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে অগ্রিম এক মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। যা মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবিক, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরণের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!